সরাসরি মানচিত্র, পূর্বাভাস ও জরিপের গড়: PoliAgg (CC BY-SA 4.0)

পূর্ণ ফলাফল, মানচিত্র ও জরিপ
ব্রেকিং
ইউক্রেনের ব্যাপক ড্রোন হামলা, এক রাতে ১,০১৫টি ড্রোন ধ্বংসের দাবি রাশিয়ার, বিদ্যুৎহীন ২০ হাজারইরানের শর্তে হরমুজ প্রণালী খুলতে পারে ছয় দিনে, যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার নিয়ে আলোচনাআওয়ামী লীগকে ফেরানোর চেষ্টা মানেই জুলাই শহীদদের আত্মত্যাগের সঙ্গে প্রতারণা: প্রধানমন্ত্রীমধ্যপ্রাচ্যের পথে আরও এক মার্কিন বিমানবাহী রণতরি, ইরান ঘিরে বাড়ছে সামরিক উত্তেজনাগ্রিসে যাওয়ার পথে সাগরে প্রাণ হারালেন ১২ অভিবাসনপ্রত্যাশী, শোকের ছায়া পরিবারে

ইয়েমেনে হুতি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত ৫৩, আহত দুই শতাধিক

ইয়েমেনের শাবওয়া প্রদেশে সামরিক প্রশিক্ষণ শিবিরে হুতি বিদ্রোহীদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত ৫৩ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন প্রায় ২০০ জন। নতুন করে তীব্র হচ্ছে দেশটির সংঘাত।

ইয়েমেনে হুতি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত ৫৩, আহত দুই শতাধিক
ইয়েমেনে হুতি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত ৫৩, আহত দুই শতাধিক

ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় শাবওয়া প্রদেশে সরকারি নিরাপত্তা বাহিনীর একটি সামরিক প্রশিক্ষণ শিবিরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত ৫৩ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন প্রায় ২০০ জন। সোমবার, ১৯ অক্টোবর, আল-আলাম সামরিক শিবিরে হামলাটি চালানো হয়। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও ইয়েমেনের সামরিক কর্মকর্তাদের বরাতে রয়টার্স ও অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস জানিয়েছে, হামলার সময় সেখানে নতুন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের প্রশিক্ষণ চলছিল। হামলার জন্য হুতি বিদ্রোহীদের দায়ী করা হয়েছে। গোষ্ঠীটি শিবিরটিতে হামলা চালানোর কথা স্বীকার করেছে। সাম্প্রতিক সময়ে ইয়েমেনে নতুন করে সংঘাত বেড়ে যাওয়ার মধ্যে এই হামলাকে অন্যতম প্রাণঘাতী ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

স্থানীয় কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, হামলার সময় প্রশিক্ষণ শিবিরে নতুন নিয়োগ পাওয়া নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। ইয়েমেনের সামরিক মুখপাত্র মাজেদ আল-নুজাইলি জানিয়েছেন, শিবির লক্ষ্য করে তিনটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছিল। ক্ষেপণাস্ত্রগুলো আঘাত হানার সময় প্রশিক্ষণার্থীরা সামরিক কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছিলেন। হামলার পরপরই নিহত ও আহতদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য নেওয়া হয়। আহতদের মধ্যে অনেকের অবস্থা গুরুতর বলে স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে। হতাহতের সংখ্যা প্রাথমিক প্রতিবেদনে কম থাকলেও পরে তা বেড়ে অন্তত ৫৩ জন নিহত এবং প্রায় ২০০ জন আহত হওয়ার তথ্য প্রকাশ করা হয়।

শাবওয়া প্রাদেশিক কর্তৃপক্ষ হামলার নিন্দা জানিয়ে বলেছে, নিরাপত্তা বাহিনীর প্রশিক্ষণকেন্দ্রে এ ধরনের হামলা পরিস্থিতিকে আরও বিপজ্জনক করে তুলেছে। কর্তৃপক্ষ ইয়েমেনের সরকার ও সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের কাছে প্রদেশটির নিরাপত্তা জোরদার, উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা এবং আগাম সতর্কীকরণ সক্ষমতা বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে। তাদের আশঙ্কা, কার্যকর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার না করা হলে ভবিষ্যতেও এ ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় বড় ধরনের প্রাণহানি ঘটতে পারে।

হুতি সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছেন, তাদের বাহিনী আল-আলাম শিবিরে অবস্থানরত সৌদি-সংশ্লিষ্ট বাহিনীকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। হুতিদের দাবি, শিবিরটি সৌদি কর্মকর্তাদের পরিচালনায় ব্যবহৃত হচ্ছিল। তবে ইয়েমেনের সরকারি পক্ষ বলেছে, সেখানে নতুন নিরাপত্তা সদস্যদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছিল। হামলার লক্ষ্যবস্তু ও শিবিরটির পরিচালনা নিয়ে দুই পক্ষের বক্তব্যে পার্থক্য রয়েছে। সৌদি কর্তৃপক্ষের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি বলে রয়টার্স জানিয়েছে।

এই হামলা ইয়েমেনে দীর্ঘদিনের গৃহযুদ্ধের নতুন করে তীব্র হয়ে ওঠার ইঙ্গিত দিচ্ছে। ২০১৪ সালে হুতি বিদ্রোহীরা রাজধানী সানা দখল করার পর দেশটিতে সংঘাত ব্যাপক আকার ধারণ করে। পরের বছর সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারকে সমর্থন দিয়ে সামরিক অভিযান শুরু করে। দীর্ঘ সংঘাতের ফলে দেশটির অবকাঠামো, অর্থনীতি ও জনজীবন ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ২০২২ সালে যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে লড়াই অনেকটা কমে এলেও সাম্প্রতিক মাসগুলোতে নতুন করে উত্তেজনা বেড়েছে।

বর্তমান সংঘাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো লোহিত সাগর ও বাব আল-মান্দেব প্রণালির আশপাশে কৌশলগত নিয়ন্ত্রণ নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা। বাব আল-মান্দেব আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জাহাজ চলাচলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সমুদ্রপথ। এই অঞ্চলে সামরিক উত্তেজনা বাড়লে শুধু ইয়েমেন নয়, আন্তর্জাতিক নৌপরিবহন ও বাণিজ্যেও প্রভাব পড়তে পারে। সাম্প্রতিক সময়ে হুতি বাহিনী এবং ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীর মধ্যে বিভিন্ন এলাকায় লড়াই বেড়েছে। সরকারি বাহিনী হুতিদের নিয়ন্ত্রণে থাকা অঞ্চল পুনর্দখলের চেষ্টা করছে, অন্যদিকে হুতিরা সরকারি বাহিনীর অবস্থান লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে।

ইয়েমেনের সংঘাতের সঙ্গে আঞ্চলিক শক্তিগুলোর সম্পর্কও পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে। আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকার সৌদি আরবের সমর্থন পেয়ে থাকে, আর হুতিরা ইরানের সমর্থনপুষ্ট বলে পরিচিত। তবে সংঘাতের প্রতিটি সামরিক পদক্ষেপের পেছনে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর নিজস্ব কৌশলগত হিসাব রয়েছে। সাম্প্রতিক উত্তেজনা মধ্যপ্রাচ্যের বৃহত্তর সংঘাতের সঙ্গেও যুক্ত হয়েছে, যা আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও অনিশ্চিত করে তুলছে।

এই হামলার ফলে ইয়েমেনের মানবিক সংকট আরও গভীর হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। দীর্ঘদিনের যুদ্ধের কারণে দেশটির স্বাস্থ্যসেবা, খাদ্য সরবরাহ ও মৌলিক অবকাঠামো ইতিমধ্যে চাপে রয়েছে। একসঙ্গে বিপুলসংখ্যক মানুষ আহত হওয়ায় স্থানীয় হাসপাতালগুলোর ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হতে পারে। আহতদের চিকিৎসা, রক্তের সরবরাহ এবং জরুরি চিকিৎসাসামগ্রী নিশ্চিত করা এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সংঘাত অব্যাহত থাকলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ও মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার কাজও আরও কঠিন হয়ে পড়তে পারে।

ইয়েমেনের সরকারি নেতৃত্ব হামলার জবাব দেওয়ার অঙ্গীকার করেছে। তবে পাল্টা সামরিক পদক্ষেপ পরিস্থিতিকে আরও সংঘাতপূর্ণ করে তুলতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে। এ অবস্থায় বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, আহতদের চিকিৎসা দেওয়া এবং সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়া ঠেকানো গুরুত্বপূর্ণ। হামলার পূর্ণ পরিস্থিতি, ক্ষয়ক্ষতি এবং পরবর্তী সামরিক পদক্ষেপ সম্পর্কে আরও তথ্য পাওয়া গেলে পরিস্থিতির প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হবে।

শাবওয়া প্রদেশের আল-আলাম সামরিক প্রশিক্ষণ শিবিরে হামলায় অন্তত ৫৩ জন নিহত ও প্রায় ২০০ জন আহত হওয়ার ঘটনা ইয়েমেনের চলমান সংঘাতকে আরও তীব্র করে তুলেছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, হামলার জন্য হুতি বিদ্রোহীদের দায়ী করা হয়েছে এবং গোষ্ঠীটি হামলার কথা স্বীকার করেছে। এখন উদ্ধার ও চিকিৎসা কার্যক্রমের পাশাপাশি সংঘাতের পরবর্তী গতিপ্রকৃতি এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তার ওপর এর প্রভাবের দিকে নজর রয়েছে।

ট্যাগ: ইয়েমেনহুতিশাবওয়াক্ষেপণাস্ত্রহামলামধ্যপ্রাচ্যযুদ্ধসংঘাতমানবিকসংকট

প্রতিবেদক

Desk Report

Reporter

ফটোকার্ড তৈরি হচ্ছে…

সিএসবি নিউজ ইউএসএ ফলো করুন

প্রতিদিন সকালে প্রধান সংবাদ, আর ব্রেকিং নিউজ ঘটার সাথে সাথে। বিনামূল্যে।