ওয়াশিংটনে গোলাগুলি, আহত ন্যাশনাল গার্ড সদস্য; পাল্টা গুলিতে জখম সন্দেহভাজন
যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটনে মারামারি থামাতে গিয়ে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন ন্যাশনাল গার্ডের এক সদস্য। পাল্টা গুলিতে আহত সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে গোলাগুলির ঘটনায় ন্যাশনাল গার্ডের এক সদস্য আহত হয়েছেন। স্থানীয় সময় রোববার, ১৮ অক্টোবর রাতে একটি মারামারি থামাতে গিয়ে তিনি গুলিবিদ্ধ হন। এ সময় গার্ড সদস্যদের পাল্টা গুলিতে সন্দেহভাজন এক ব্যক্তিও আহত হন। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, আহত দুজনের কারও অবস্থাই প্রাণঘাতী নয়। সোমবার, ১৯ অক্টোবর মার্কিন সংবাদমাধ্যমে এ ঘটনা প্রকাশিত হয়।
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রাত প্রায় ১১টা ১০ মিনিটে ওয়াশিংটনের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের ইস্টার্ন মার্কেট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ওই সময় ন্যাশনাল গার্ডের কয়েকজন সদস্য একটি ভ্যানে অবস্থান করছিলেন। কাছের ফুটপাতে কয়েকজনের মধ্যে মারামারি শুরু হলে তাঁরা পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন।
ওয়াশিংটন ডিসির ভারপ্রাপ্ত পুলিশপ্রধান জেফরি ক্যারলের ভাষ্য অনুযায়ী, গার্ড সদস্যরা মারামারি থামাতে গাড়ি থেকে নেমে এগিয়ে গেলে সংঘর্ষে জড়িত এক ব্যক্তি আগ্নেয়াস্ত্র বের করে গুলি চালাতে শুরু করেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে গার্ড সদস্যরা ওই ব্যক্তিকে অস্ত্র ফেলে দেওয়ার নির্দেশ দেন।
পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী, সন্দেহভাজন ব্যক্তি পরে অস্ত্রটি গার্ড সদস্যদের দিকে তাক করেন। তখন গার্ড সদস্যরা পাল্টা গুলি চালান। এ ঘটনায় ন্যাশনাল গার্ডের এক সদস্যের পায়ে গুলি লাগে। অন্যদিকে, সন্দেহভাজন ব্যক্তির পেটের অংশে গুলি লাগে। গোলাগুলির সময় ন্যাশনাল গার্ডের তিন সদস্য তাঁদের আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করেন বলে পুলিশ জানিয়েছে। তবে সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে ঠিক কার গুলি আহত করেছে, তা তদন্তকারীরা তখনও নিশ্চিত করতে পারেননি।
আহত গার্ড সদস্য ও সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়। পুলিশ জানিয়েছে, দুজনের আঘাতই প্রাণঘাতী নয়। গোলাগুলির ঘটনায় সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে তাঁর পরিচয় এবং ঘটনার পেছনে থাকা বিরোধের সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে প্রাথমিক প্রতিবেদনে বিস্তারিত জানানো হয়নি।
ঘটনাস্থলটি ওয়াশিংটনের গুরুত্বপূর্ণ জনবসতিপূর্ণ এলাকার মধ্যে অবস্থিত। সেখানে মারামারি থামাতে গিয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনা স্থানীয় নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। তবে এ ঘটনার ভিত্তিতে পুরো এলাকায় বড় ধরনের নিরাপত্তা সংকট তৈরি হয়েছে, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো তথ্য এখনো নেই।
পুলিশ জানিয়েছে, সাধারণ মানুষের জন্য তাৎক্ষণিকভাবে আর কোনো হুমকি রয়েছে বলে তারা মনে করছে না। ঘটনার সূত্রপাত কীভাবে হয়েছিল, কারা প্রথম সংঘর্ষে জড়িয়েছিলেন এবং গোলাগুলির আগে ঠিক কী ঘটেছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য ও প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য তদন্তের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
ওয়াশিংটনে ন্যাশনাল গার্ড মোতায়েনের বিষয়টিও এই ঘটনার প্রেক্ষাপটে আলোচনায় এসেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০২৫ সালের আগস্টে রাজধানীতে অপরাধ দমনের উদ্যোগের অংশ হিসেবে ন্যাশনাল গার্ড মোতায়েন করেছিলেন। এরপর থেকে গার্ড সদস্যরা শহরের বিভিন্ন এলাকায় টহল, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সহায়তা এবং অন্যান্য কার্যক্রমে অংশ নিয়েছেন। ট্রাম্প প্রশাসন এই মোতায়েনকে অপরাধ দমনের পদক্ষেপ হিসেবে তুলে ধরলেও ওয়াশিংটনের কিছু স্থানীয় কর্মকর্তা, বাসিন্দা ও অধিকারকর্মী এর প্রয়োজনীয়তা এবং ব্যয় নিয়ে সমালোচনা করেছেন।
সর্বশেষ গোলাগুলির ঘটনায় কোনো মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি। তবে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য আহত হওয়া এবং পাল্টাপাল্টি গুলির ঘটনা তদন্তের গুরুত্ব বাড়িয়েছে। তদন্ত শেষে সংঘর্ষের প্রকৃত কারণ এবং সম্ভাব্য আইনি পদক্ষেপ সম্পর্কে আরও তথ্য জানা যেতে পারে। আপাতত পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী, আহত দুজন চিকিৎসাধীন এবং সন্দেহভাজন ব্যক্তি হেফাজতে রয়েছেন।





