গ্রিসে যাওয়ার পথে সাগরে প্রাণ হারালেন ১২ অভিবাসনপ্রত্যাশী, শোকের ছায়া পরিবারে
গ্রিসে পৌঁছানোর আশায় সাগরপথে যাত্রা করে প্রাণ হারিয়েছেন ১২ অভিবাসনপ্রত্যাশী। এজিয়ান সাগরে পৃথক দুটি দুর্ঘটনায় তাঁদের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে গ্রিক কর্তৃপক্ষ।
ইউরোপে পৌঁছানোর আশায় সাগরপথে যাত্রা করতে গিয়ে গ্রিসের এজিয়ান সাগরে ১২ অভিবাসনপ্রত্যাশীর মৃত্যু হয়েছে। সোমবার গ্রিক কর্তৃপক্ষের বরাতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। পৃথক দুটি ঘটনায় তাঁদের মৃত্যু হয়। এর মধ্যে একটি ঘটনায় গ্রিসের লেসবস দ্বীপের কাছে অভিবাসনবাহী দ্রুতগতির নৌকার সঙ্গে উপকূলরক্ষী বাহিনীর টহলযানের সংঘর্ষ ঘটে। অন্য ঘটনাটি ঘটে সামোস দ্বীপের কাছে, যেখানে একটি ছোট নৌকা ডুবে যায়।
কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, তুরস্কের উপকূল থেকে গ্রিসের দিকে যাওয়ার সময় লেসবস দ্বীপের কাছে একটি অভিবাসনবাহী দ্রুতগতির নৌকার সঙ্গে গ্রিক উপকূলরক্ষী বাহিনীর টহলযানের সংঘর্ষ হয়। এতে ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে চারজন পুরুষ, একজন নারী ও একটি শিশু রয়েছে।
গ্রিক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সংঘর্ষের পর নৌকাটিতে থাকা কয়েকজন পানিতে পড়ে যান। উদ্ধারকারীরা ঘটনাস্থল থেকে ছয়জনের মরদেহ উদ্ধার করেন। এ ঘটনায় আরও আটজনকে জীবিত উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়।
ঘটনাস্থলটি লেসবস দ্বীপের আগ্রেলিয়া এলাকার কাছাকাছি, উপকূল থেকে প্রায় সাড়ে তিন নটিক্যাল মাইল দূরে বলে জানানো হয়েছে। নৌকাটির চালক হিসেবে সন্দেহভাজন ৩৭ বছর বয়সী এক তুর্কি নাগরিককে আটক করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে মানব পাচার এবং প্রাণঘাতী নৌদুর্ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ তদন্ত করা হচ্ছে।
তবে সংঘর্ষের প্রকৃত কারণ এবং ঘটনার সময় ঠিক কী ঘটেছিল, তা এখনো তদন্তাধীন। এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষের বক্তব্যের বাইরে স্বাধীনভাবে সব তথ্য যাচাই করা সম্ভব হয়নি ।
একই দিনে গ্রিসের সামোস দ্বীপের কাছে আরেকটি নৌকা ডুবে ছয়জন অভিবাসনপ্রত্যাশীর মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে গ্রিক কর্তৃপক্ষ। ফলে পৃথক দুটি ঘটনায় মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১২ জনে।
দ্বিতীয় দুর্ঘটনায় নৌকাটিতে কতজন যাত্রী ছিলেন, তাঁদের জাতীয়তা কী এবং নিখোঁজ কেউ রয়েছেন কি না এসব বিষয়ে প্রাথমিক প্রতিবেদনে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। তাই উদ্ধার অভিযান ও পরবর্তী তদন্তের তথ্য প্রকাশিত হলে ঘটনার পূর্ণ চিত্র আরও স্পষ্ট হতে পারে।
উন্নত জীবন, কর্মসংস্থান এবং নিরাপদ ভবিষ্যতের আশায় বহু মানুষ ইউরোপে যাওয়ার চেষ্টা করেন। তাঁদের কেউ কেউ তুরস্ক ও উত্তর আফ্রিকার বিভিন্ন অঞ্চল থেকে দালালচক্রের সহায়তায় ছোট নৌকায় ভূমধ্যসাগর ও এজিয়ান সাগর পাড়ি দেওয়ার চেষ্টা করেন।
অতিরিক্ত যাত্রী বহন, অনিরাপদ নৌযান, প্রতিকূল আবহাওয়া এবং পর্যাপ্ত নিরাপত্তা সরঞ্জামের অভাব এসব যাত্রাকে বিপজ্জনক করে তোলে। অনেক ক্ষেত্রে যাত্রীদের কাছ থেকে বিপুল অর্থ নেওয়া হলেও তাঁদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয় না।
গ্রিস ইউরোপে প্রবেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ হওয়ায় দেশটির দ্বীপগুলোতে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের আগমন নিয়মিত ঘটনা। তুরস্কের উপকূল থেকে গ্রিসের দ্বীপগুলোর দূরত্ব তুলনামূলক কম হলেও এই সমুদ্রপথে দুর্ঘটনার ঝুঁকি রয়েছে।
সাগরপথে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের মৃত্যু মানব পাচার ও অনিয়মিত অভিবাসনের ঝুঁকিকে আবারও সামনে এনেছে। পাচারকারীরা অনেক সময় নিরাপদে ইউরোপে পৌঁছে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে মানুষকে বিপজ্জনক যাত্রায় প্রলুব্ধ করে। যাত্রাপথে দুর্ঘটনা ঘটলে যাত্রীদের জীবন রক্ষার পাশাপাশি দায়ীদের শনাক্ত করাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের প্রাণহানি ঠেকাতে পাচারকারী চক্রের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা, সমুদ্রে দ্রুত উদ্ধার অভিযান এবং নিরাপদ অভিবাসনের বৈধ পথ সম্প্রসারণ জরুরি। একই সঙ্গে দুর্ঘটনার কারণ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে দায় নির্ধারণ করা প্রয়োজন।
১৯ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গ্রিসের এজিয়ান সাগরে পৃথক দুটি ঘটনায় মোট ১২ জন অভিবাসনপ্রত্যাশীর মৃত্যুর খবর সত্য। তবে নিহতদের পরিচয়, জাতীয়তা এবং সামোসের কাছে দুর্ঘটনার বিস্তারিত পরিস্থিতি সম্পর্কে সব তথ্য এখনো নিশ্চিত নয়। তাই এসব বিষয়ে অতিরিক্ত দাবি না করে কর্তৃপক্ষের যাচাই করা তথ্যের ভিত্তিতেই সংবাদ প্রকাশ করা উচিত।





