শ্রমিকের অধিকার রক্ষায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার জবাবদিহি নিশ্চিতের আহ্বান খলিলুর রহমানের
নিউইয়র্কে খলিলুর রহমান বলেছেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কাজ স্বয়ংক্রিয় করতে পারলেও শ্রমিকের অধিকার, সিদ্ধান্তের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি কখনো উপেক্ষা করা যাবে না।
৭ মিনিটে পড়ুন
নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত ব্যবসা ও মানবাধিকারের আন্তর্জাতিক সম্মেলনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ক্রমবর্ধমান ব্যবহার নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা দিয়েছেন জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি খলিলুর রহমান। গত ১৪ অক্টোবর অনুষ্ঠিত ‘এনগেজিং বিজনেস ফোরামে’ দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, কর্মক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিভিন্ন কাজ স্বয়ংক্রিয়ভাবে সম্পন্ন করতে পারলেও কোনো সিদ্ধান্তের দায়বদ্ধতা কখনোই প্রযুক্তির হাতে ছেড়ে দেওয়া যাবে না। নিয়োগ, কাজের সময় নির্ধারণ, কর্মীদের কর্মদক্ষতা মূল্যায়ন কিংবা চাকরি থেকে বাদ দেওয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে এই প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়তে থাকায় শ্রমিকের অধিকার রক্ষায় কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। জাতিসংঘের নিজস্ব ওয়েবসাইটে প্রকাশিত বক্তব্যে তাঁর এই অবস্থানের সত্যতা পাওয়া যায়।
আলোচনায় খলিলুর রহমান বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা অর্থনীতি, ব্যবসা ও কর্মজগতে নতুন সুযোগ সৃষ্টি করছে। উৎপাদনশীলতা বাড়ানো, জটিল কাজ দ্রুত সম্পন্ন করা এবং কর্মক্ষেত্রের বিভিন্ন সমস্যা শনাক্ত করার ক্ষেত্রে এই প্রযুক্তি কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। তবে প্রযুক্তির সুবিধা যেন শ্রমিকদের অধিকার ক্ষুণ্ন করার কারণ না হয়, তা নিশ্চিত করা জরুরি। বিশেষ করে কোনো কর্মীকে নিয়োগ দেওয়া হবে কি না, কে কাজের সুযোগ পাবেন, কার কর্মদক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠবে কিংবা কার চাকরি ঝুঁকির মুখে পড়বে—এসব সিদ্ধান্তে যন্ত্রের ভূমিকা থাকলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির জানার ও প্রশ্ন তোলার অধিকার থাকতে হবে।
তিনি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবস্থা তৈরি ও ব্যবহারের প্রতিটি পর্যায়ে শ্রমিকদের সম্পৃক্ত করার আহ্বান জানান। তাঁর বক্তব্যের মূল কথা হলো, প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে কোনো কর্মীর জীবিকা ক্ষতিগ্রস্ত হলে সেই সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা দেওয়ার মতো দায়িত্বশীল মানুষকে অবশ্যই থাকতে হবে। কর্মীরা যেন অন্যায্য সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপত্তি জানাতে পারেন এবং প্রয়োজন হলে পুনর্বিবেচনার সুযোগ পান, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে।
জাতিসংঘের প্রকাশিত পূর্ণাঙ্গ বক্তব্যে কর্মক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রভাবের পাশাপাশি শ্রমিকের অধিকার, সামাজিক সুরক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন এবং সরকারের দায়িত্বের বিষয়গুলোও গুরুত্ব পেয়েছে। খলিলুর রহমানের মতে, প্রযুক্তিগত অগ্রগতির সঙ্গে মানুষের মর্যাদা ও অধিকার রক্ষার মধ্যে কোনো বিরোধ থাকা উচিত নয়। বরং সঠিক নীতি ও জবাবদিহির ব্যবস্থা থাকলে প্রযুক্তি মানুষের কাজকে আরও নিরাপদ, কার্যকর ও উৎপাদনশীল করে তুলতে পারে।
আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার বিশ্লেষণেও কর্মক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রভাব নিয়ে একই ধরনের উদ্বেগ উঠে এসেছে। সংস্থাটির ২০২৫ সালের একটি গবেষণায় বিভিন্ন অঞ্চলের কর্মক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থাপনার ব্যবহার নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। এতে দেখা যায়, শ্রমিকদের প্রতিনিধি, নিয়োগকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মধ্যে কার্যকর আলোচনা থাকলে প্রযুক্তি ব্যবহারের সিদ্ধান্তে শ্রমিকদের স্বার্থ তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হয়। নিয়োগ, কাজ পরিচালনা, কর্মপরিবেশ এবং দক্ষতা উন্নয়নের মতো ক্ষেত্রেও শ্রমিকদের মতামত গুরুত্বপূর্ণ।
কর্মক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারের একটি বড় ঝুঁকি হলো সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া অনেক সময় কর্মীদের কাছে অস্পষ্ট থেকে যায়। কোনো প্রতিষ্ঠানে চাকরির আবেদন যাচাইয়ের জন্য স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা ব্যবহার করা হলে একজন যোগ্য আবেদনকারীও অজানা কারণে বাদ পড়তে পারেন। একইভাবে কর্মীদের উপস্থিতি, কাজের গতি, উৎপাদনশীলতা কিংবা আচরণ পর্যবেক্ষণের জন্য ব্যবহৃত প্রযুক্তি ভুল তথ্যের ভিত্তিতে কাউকে কম দক্ষ হিসেবে চিহ্নিত করতে পারে। তথ্যের ঘাটতি, পক্ষপাতপূর্ণ উপাত্ত কিংবা ব্যবস্থার ত্রুটি থেকে এমন পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।
আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার ২০২৫ সালের আরেকটি গবেষণায় মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহারের সীমাবদ্ধতা তুলে ধরা হয়েছে। গবেষণাটিতে বলা হয়েছে, ব্যবস্থার লক্ষ্য অস্পষ্ট হলে, অসম্পূর্ণ বা পক্ষপাতপূর্ণ তথ্য ব্যবহার করা হলে কিংবা সিদ্ধান্ত গ্রহণের পদ্ধতি স্বচ্ছ না থাকলে কর্মীদের মূল্যায়নে সমস্যা দেখা দিতে পারে। এতে নিয়োগকর্তার সিদ্ধান্তের মান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি কর্মীদের প্রতি অন্যায্য আচরণের ঝুঁকিও বাড়ে।
এ কারণে কোনো প্রতিষ্ঠানের পক্ষে শুধু প্রযুক্তির ফলাফলকে নির্ভুল ধরে নেওয়া যথেষ্ট নয়। স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থার সিদ্ধান্ত কীভাবে তৈরি হচ্ছে, কোন তথ্য ব্যবহার করা হচ্ছে এবং সিদ্ধান্তটি কোনো নির্দিষ্ট কর্মীকে অন্যায্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে কি না, তা যাচাই করা প্রয়োজন। বিশেষ করে চাকরিচ্যুতি, পদোন্নতি, বেতন নির্ধারণ এবং কাজের সুযোগ সীমিত করার মতো বিষয়ে মানুষের কার্যকর তদারকি থাকা জরুরি।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কর্মীদের ওপর অতিরিক্ত নজরদারির ঝুঁকিও তৈরি করতে পারে। কোনো কর্মী কতক্ষণ বিরতি নিচ্ছেন, কত দ্রুত কাজ করছেন কিংবা কম্পিউটারে কী ধরনের কার্যক্রম চালাচ্ছেন, এসব তথ্য নিয়মিত সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করা সম্ভব। কিন্তু নজরদারির মাত্রা অতিরিক্ত হলে কর্মীদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা, মানসিক সুস্থতা এবং স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার ২০২৬ সালের একটি গবেষণায় কর্মক্ষেত্রে প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি, কাজের চাপ বৃদ্ধি, কর্মীদের নিজস্ব সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা কমে যাওয়া এবং তথ্যের গোপনীয়তা নিয়ে উদ্বেগ তুলে ধরা হয়েছে।
তবে এই উদ্বেগের অর্থ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার বন্ধ করে দেওয়া নয়। বরং কোথায় প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে, কী উদ্দেশ্যে তথ্য সংগ্রহ করা হবে এবং সেই তথ্য কত দিন সংরক্ষণ করা হবে, তা পরিষ্কারভাবে নির্ধারণ করা দরকার। কর্মীদের জানাতে হবে কোন ধরনের নজরদারি চলছে এবং সংগৃহীত তথ্য কীভাবে ব্যবহৃত হবে। প্রযুক্তির সাহায্যে কাজের মান উন্নত করার পাশাপাশি কর্মীদের ব্যক্তিগত মর্যাদা ও অধিকার রক্ষার ব্যবস্থাও রাখতে হবে।
খলিলুর রহমান তাঁর বক্তব্যে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর দায়িত্বের পাশাপাশি সরকারের ভূমিকাও তুলে ধরেন। তাঁর মতে, শ্রম আইনকে কর্মজগতের পরিবর্তনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে হবে। সামাজিক সুরক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন এবং নতুন প্রযুক্তির কারণে কাজের ধরন বদলে গেলে কর্মীদের সহায়তা দেওয়ার ব্যবস্থাও জোরদার করা প্রয়োজন। যেসব কর্মী অনানুষ্ঠানিক খাতে কাজ করেন, তাঁদেরও এই সুরক্ষার আওতায় আনার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ।
প্রযুক্তির কারণে কোনো কাজের ধরন বদলে গেলে কর্মীদের নতুন দক্ষতা অর্জনের সুযোগ দেওয়া প্রয়োজন। প্রতিষ্ঠানের উচিত কর্মীদের আগে থেকেই প্রশিক্ষণ দেওয়া, যাতে পরিবর্তনের সঙ্গে তাঁরা খাপ খাইয়ে নিতে পারেন। শুধু কাজ হারানোর পর প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করলে অনেক কর্মীর জন্য নতুন কর্মসংস্থান খুঁজে পাওয়া কঠিন হয়ে উঠতে পারে। তাই প্রযুক্তিতে বিনিয়োগের পাশাপাশি কর্মীদের দক্ষতা উন্নয়নেও বিনিয়োগ জরুরি।
আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার ২০২৬ সালের এপ্রিলের এক আলোচনায় উৎপাদন খাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সম্ভাবনা কাজে লাগানোর পাশাপাশি শোভন কর্মপরিবেশ বজায় রাখা এবং পরিবর্তনের সঙ্গে শ্রমিকদের খাপ খাইয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। সরকার, নিয়োগকর্তা ও শ্রমিক প্রতিনিধিদের যৌথ আলোচনার মাধ্যমে প্রযুক্তির সুফল বাড়ানো এবং নেতিবাচক প্রভাব কমানোর পথ খোঁজার কথা বলা হয়েছে।
এ ক্ষেত্রে শ্রমিক সংগঠন ও কর্মীদের প্রতিনিধিদের ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ। প্রযুক্তি চালুর আগেই কর্মীদের সঙ্গে আলোচনা হলে কোন কাজগুলো বদলে যাবে, কোন ধরনের প্রশিক্ষণ প্রয়োজন এবং কীভাবে কর্মীদের অধিকার রক্ষা করা যায়, সে বিষয়ে বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা করা সম্ভব। শ্রমিকদের মতামতকে বাধা হিসেবে না দেখে সম্ভাব্য সমস্যা আগেভাগে শনাক্ত করার উপায় হিসেবে বিবেচনা করা উচিত।
খলিলুর রহমানের বক্তব্যে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিকাশ কোনো একটি দেশ বা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বিভিন্ন দেশের কর্মীরা একই ধরনের প্রযুক্তির প্রভাবে পড়তে পারেন, অথচ তাঁদের আইনি সুরক্ষা ও প্রশিক্ষণের সুযোগ এক রকম নয়। তাই প্রযুক্তি পরিচালনা, শ্রমিকের অধিকার এবং ন্যায্য কর্মপরিবেশ নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আলোচনা ও অভিজ্ঞতা বিনিময় প্রয়োজন।
সব মিলিয়ে নিউইয়র্কের এই আলোচনার মূল বার্তা হলো, প্রযুক্তির অগ্রগতির মূল্যায়ন শুধু কত দ্রুত কাজ হচ্ছে কিংবা কত খরচ কমছে, তা দিয়ে করা যাবে না। কর্মীদের জীবনমান, ন্যায্য সুযোগ, কাজের নিরাপত্তা এবং সিদ্ধান্তের স্বচ্ছতাও বিবেচনায় রাখতে হবে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মানুষের কাজ সহজ করতে পারে, কিন্তু কোনো কর্মীর জীবিকা নিয়ে সিদ্ধান্তের দায় এড়ানোর অজুহাত হতে পারে না।
খলিলুর রহমানের বক্তব্য অনুযায়ী, প্রযুক্তির নকশা তৈরি থেকে শুরু করে ব্যবহার ও পর্যালোচনা পর্যন্ত প্রতিটি পর্যায়ে সম্ভাব্য ক্ষতি শনাক্ত করা এবং তার প্রতিকার নিশ্চিত করা প্রয়োজন। কোনো কর্মী অন্যায্য সিদ্ধান্তের শিকার হলে তাঁকে ব্যাখ্যা পাওয়ার সুযোগ দিতে হবে, আপত্তি জানানোর পথ রাখতে হবে এবং সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার ব্যবস্থা করতে হবে। ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, সরকার ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করলে প্রযুক্তির সুফল আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছানো সম্ভব।
কর্মজগতের ভবিষ্যৎ কেমন হবে, তা কেবল প্রযুক্তি নির্মাতাদের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করা উচিত নয়। সেই ভবিষ্যৎ নির্ধারণে শ্রমিক, নিয়োগকর্তা, সরকার ও সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। কারণ, প্রযুক্তি যত উন্নতই হোক, ন্যায়সংগত সিদ্ধান্ত এবং মানুষের অধিকার রক্ষার দায়িত্ব শেষ পর্যন্ত মানুষেরই।
আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার বিশ্লেষণেও কর্মক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রভাব নিয়ে একই ধরনের উদ্বেগ উঠে এসেছে। সংস্থাটির ২০২৫ সালের একটি গবেষণায় বিভিন্ন অঞ্চলের কর্মক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থাপনার ব্যবহার নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। এতে দেখা যায়, শ্রমিকদের প্রতিনিধি, নিয়োগকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মধ্যে কার্যকর আলোচনা থাকলে প্রযুক্তি ব্যবহারের সিদ্ধান্তে শ্রমিকদের স্বার্থ তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হয়। নিয়োগ, কাজ পরিচালনা, কর্মপরিবেশ এবং দক্ষতা উন্নয়নের মতো ক্ষেত্রেও শ্রমিকদের মতামত গুরুত্বপূর্ণ।





