রাশিয়ায় গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে সাংবাদিক আটক, টোকিওর বিরুদ্ধে অভিযোগ অস্বীকার করলেন প্রধানমন্ত্রী তাকাইচ
৭ মিনিটে পড়ুন
রাশিয়ায় জাপানি সাংবাদিক ইউকি ইমাইকে গুপ্তচরবৃত্তির সন্দেহে গ্রেপ্তারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে মস্কো ও টোকিওর মধ্যে নতুন করে কূটনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানে তাকাইচি রাশিয়ার ভূখণ্ডে জাপান সরকার গুপ্তচরবৃত্তি পরিচালনা করছে—এমন অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছেন। একই সঙ্গে আটক সাংবাদিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, তাঁর সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ দেওয়া এবং তাঁকে ন্যায্য আচরণ করার আহ্বান জানিয়েছে জাপান সরকার। ১৫ অক্টোবর প্রকাশিত জাপানি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনেও প্রধানমন্ত্রীর এই অবস্থানের কথা জানানো হয়েছে। ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটেছে, যখন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে চলে আসা দ্বীপপুঞ্জের মালিকানা নিয়ে বিরোধ, ইউক্রেন যুদ্ধকে কেন্দ্র করে জাপানের রাশিয়াবিরোধী নিষেধাজ্ঞা এবং দুই দেশের নিরাপত্তাসংক্রান্ত মতপার্থক্যের কারণে সম্পর্ক আগে থেকেই চাপের মুখে রয়েছে।
জাপানি সাংবাদিকের গ্রেপ্তার এখন শুধু একজন সংবাদকর্মীর বিরুদ্ধে ফৌজদারি অভিযোগের বিষয় নয়; এটি দুই দেশের পারস্পরিক আস্থা, সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে বৃহত্তর বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
জাপানের সংবাদমাধ্যম ও আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থাগুলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাশিয়ার নিরাপত্তা সংস্থা সাংবাদিকটির বিরুদ্ধে দেশটির প্রতিরক্ষা সক্ষমতাসংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করে জাপানের গোয়েন্দা সংস্থার কাছে পৌঁছে দেওয়ার অভিযোগ তুলেছে। তবে অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে—এমন তথ্য এখনো প্রকাশিত হয়নি।
রাশিয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে তাকাইচি বলেছেন, জাপান সরকার রাশিয়ার ভূখণ্ডে গুপ্তচরবৃত্তি পরিচালনা করছে—এমন কোনো ঘটনা নেই। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এই মুহূর্তে আটক জাপানি নাগরিকের সুরক্ষা নিশ্চিত করাই সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। একই সঙ্গে রাশিয়ার অভিযোগ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য না পাওয়ার বিষয়টিও তুলে ধরেছে টোকিও।
সাংবাদিক ইউকি ইমাইকে যেভাবে আটক করা হয় রুশ কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুসারে, জাপানের উত্তরাঞ্চলীয় হোক্কাইদো এলাকার সংবাদপত্র হোক্কাইদো শিমবুনের সঙ্গে যুক্ত সাংবাদিক ইউকি ইমাইকে রাশিয়ার দূরপ্রাচ্যের সাখালিন অঞ্চলে আটক করা হয়। তিনি রাশিয়া ছেড়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন বলে রুশ নিরাপত্তা সংস্থা দাবি করেছে। রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ১৩ অক্টোবর সাংবাদিকটির নাম প্রকাশ করে। দেশটির কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা সংস্থা অভিযোগ করে, তিনি রাশিয়ার প্রতিরক্ষা সক্ষমতা সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করছিলেন। এসব তথ্য জাপানের একটি গোয়েন্দা সংস্থার কাজে ব্যবহার করার উদ্দেশ্য ছিল বলে দাবি করা হয়। রুশ কর্তৃপক্ষের বক্তব্য অনুযায়ী, সাংবাদিককে আটকের পর মস্কোতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে একটি আদালত তাঁকে তদন্ত চলাকালে প্রায় দুই মাস আটক রাখার নির্দেশ দেয়। প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুসারে, তাঁকে ১২ ডিসেম্বর পর্যন্ত হেফাজতে রাখার কথা জানানো হয়েছে।
রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যমে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে মুখোশ পরা নিরাপত্তাকর্মীদের একজন ব্যক্তিকে মাটিতে শুইয়ে হাতকড়া পরাতে দেখা যায়। পরে তাঁকে বিমানে নিয়ে যাওয়া এবং আদালতে হাজির করার দৃশ্যও প্রকাশিত হয়। তবে ভিডিওতে প্রদর্শিত সব কার্যক্রমের স্বাধীন যাচাইয়ের তথ্য প্রকাশিত হয়নি। এখানে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে বলেই তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করা যায় না। অভিযোগের প্রকৃতি, উপস্থাপিত প্রমাণ এবং আদালতের বিচারপ্রক্রিয়ার ভিত্তিতেই বিষয়টির চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হওয়ার কথা।
জাপানের কূটনৈতিক প্রতিবাদ সাংবাদিক আটকের খবর প্রকাশ্যে আসার পর জাপান সরকার রাশিয়ার কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছে। টোকিও মস্কোতে নিযুক্ত রুশ রাষ্ট্রদূতকে তলব করে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানায়। জাপানের পক্ষ থেকে আটক সাংবাদিকের সঙ্গে কূটনৈতিক প্রতিনিধিদের যোগাযোগের সুযোগ, মানবিক আচরণ এবং ন্যায্য বিচারপ্রক্রিয়া নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে। জাপানের প্রধান মন্ত্রিপরিষদ সচিব মিনোরু কিহারা জানান, সরকার সাংবাদিকটির সঙ্গে যোগাযোগের ব্যবস্থা করার চেষ্টা করছে। জাপানি কর্তৃপক্ষের বক্তব্য অনুযায়ী, আটকের বিষয়ে রাশিয়ার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা প্রকাশের আগে তারা বিস্তারিত তথ্য জানতে পারেনি। সাংবাদিকের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন করতে না পারার বিষয়টিও উদ্বেগ বাড়িয়েছে। জাপানের অবস্থান হলো, অভিযোগ সম্পর্কে স্পষ্ট ব্যাখ্যা ছাড়া কোনো নাগরিকের বিরুদ্ধে একতরফা পদক্ষেপ গ্রহণ গ্রহণযোগ্য নয়। একই সঙ্গে সাংবাদিকটির নিরাপত্তা ও অধিকার রক্ষায় প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে দেশটির সরকার। অন্যদিকে রাশিয়া অভিযোগ করছে, বিদেশি সংবাদকর্মীদের পরিচয় ব্যবহার করে দেশটির নিরাপত্তাসংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করা হচ্ছে। রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা এ ঘটনাকে দুই দেশের সম্পর্কের জন্য আরও একটি নেতিবাচক পরিস্থিতি হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি জাপানের নিরাপত্তা ও সামরিক নীতিরও সমালোচনা করেছেন। তবে সংবাদকর্মীদের তথ্য সংগ্রহ, সাক্ষাৎকার গ্রহণ কিংবা কোনো অঞ্চলের পরিস্থিতি নিয়ে প্রতিবেদন তৈরি করা এবং গোয়েন্দা সংস্থার হয়ে গোপন তথ্য সংগ্রহ করা এক বিষয় নয়। এ ধরনের অভিযোগের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট প্রমাণ, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির কাজের প্রকৃতি এবং প্রযোজ্য আইনের ব্যাখ্যা গুরুত্বপূর্ণ।
কুরিল দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ জাপানি সাংবাদিকের আটকের ঘটনাটি বুঝতে হলে রাশিয়া ও জাপানের মধ্যকার পুরোনো ভূখণ্ডগত বিরোধের বিষয়টিও বিবেচনায় নিতে হবে। প্রশান্ত মহাসাগরের উত্তরাঞ্চলে অবস্থিত কুরিল দ্বীপপুঞ্জের কয়েকটি দ্বীপের মালিকানা নিয়ে দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষ পর্যায়ে সোভিয়েত ইউনিয়ন দ্বীপগুলো দখল করে। বর্তমানে সেগুলো রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। অন্যদিকে জাপান দক্ষিণাঞ্চলের চারটি দ্বীপকে নিজেদের ভূখণ্ডের অংশ বলে দাবি করে এবং সেগুলোকে ‘উত্তরাঞ্চলীয় ভূখণ্ড’ নামে উল্লেখ করে। দ্বীপগুলো নিয়ে মতবিরোধের কারণে দুই দেশ এখনো দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরবর্তী একটি আনুষ্ঠানিক শান্তিচুক্তি সম্পন্ন করতে পারেনি। দীর্ঘদিনের এই বিরোধের সঙ্গে সামরিক উপস্থিতি, সামুদ্রিক নিরাপত্তা, মৎস্যসম্পদ এবং কৌশলগত অবস্থানের প্রশ্নও যুক্ত রয়েছে। ২০২৬ সালের আগস্টে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বিতর্কিত দ্বীপপুঞ্জের ইতুরুপ দ্বীপ সফর করেন। জাপান এই সফরের প্রতিবাদ জানায়। টোকিওর দৃষ্টিতে দ্বীপগুলো তাদের নিজস্ব ভূখণ্ডের অংশ; অন্যদিকে মস্কো সেখানে নিজেদের সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠিত বলে মনে করে। পুতিনের সফর দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দেয়।
এরপর জাপানি সাংবাদিককে আটকের ঘটনাটি নতুন করে সন্দেহ ও অবিশ্বাসের পরিবেশ তৈরি করেছে। যদিও দ্বীপপুঞ্জের বিরোধই সাংবাদিককে আটকের একমাত্র কারণ—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো প্রমাণ প্রকাশিত হয়নি, তবু দুই দেশের সম্পর্কের বর্তমান পরিস্থিতি ঘটনাটিকে আরও সংবেদনশীল করে তুলেছে।
ইউক্রেন যুদ্ধ ও নিষেধাজ্ঞার প্রভাব ২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরুর পর জাপান পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে মস্কোর বিরুদ্ধে বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। রাশিয়া জাপানকে নিজেদের প্রতি বৈরী অবস্থান গ্রহণকারী দেশগুলোর একটি হিসেবে বিবেচনা করে। এর ফলে রাজনৈতিক ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত সম্পর্ক আরও জটিল হয়েছে।
তবে রাজনৈতিক বিরোধ থাকা সত্ত্বেও দুই দেশের মধ্যে কিছু অর্থনৈতিক যোগাযোগ এখনো বজায় রয়েছে। বিশেষ করে জ্বালানি খাতে রাশিয়ার তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস জাপানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ফলে কূটনৈতিক উত্তেজনা বাড়লেও দুই দেশের অর্থনৈতিক স্বার্থ পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়নি। এ পরিস্থিতিতে সাংবাদিক আটকের ঘটনা জাপানের জন্য একাধিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। একদিকে নিজ দেশের নাগরিকের অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে, অন্যদিকে রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি যেন আরও বিস্তৃত নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক সংকটে রূপ না নেয়, সেটিও বিবেচনায় রাখতে হবে। রাশিয়ার পক্ষ থেকেও ঘটনাটি ঘিরে নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা তৎপরতা নিয়ে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরা হচ্ছে। তবে জাপান অভিযোগ অস্বীকার করায় এবং অভিযোগের পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রমাণ প্রকাশিত না হওয়ায় বিষয়টি এখনো বিতর্কিত।
সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে উদ্বেগ ঘটনাটি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে। বিদেশি সাংবাদিকেরা বিভিন্ন দেশে অবস্থান করে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত ঘটনা নিয়ে প্রতিবেদন তৈরি করেন। এ কাজের অংশ হিসেবে তাঁদের সরকারি কর্মকর্তা, স্থানীয় বাসিন্দা, গবেষক ও অন্যান্য সূত্রের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হয়। কিন্তু কোনো দেশের নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষ যদি সাংবাদিকের তথ্য সংগ্রহকে গুপ্তচরবৃত্তি হিসেবে বিবেচনা করে, তাহলে সাংবাদিকতার স্বাধীনতা এবং রাষ্ট্রের নিরাপত্তার মধ্যে সীমারেখা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হতে পারে। সাংবাদিকদের অধিকার নিয়ে কাজ করা সাংবাদিক সুরক্ষা কমিটি ইউকি ইমাইকে অবিলম্বে মুক্তি দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। সংস্থাটির বক্তব্য, বৃহত্তর ভূরাজনৈতিক বিরোধে সংবাদকর্মীদের চাপ সৃষ্টির উপায় হিসেবে ব্যবহার করা উচিত নয়। তবে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষার প্রশ্নের পাশাপাশি কোনো রাষ্ট্রের প্রকৃত নিরাপত্তা-সংক্রান্ত অভিযোগ থাকলে সেটিও আইনসম্মত ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় যাচাই করা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, অভিযুক্ত ব্যক্তির আইনি অধিকার এবং সংশ্লিষ্ট দেশের কূটনৈতিক যোগাযোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
সামনে কী হতে পারে ইউকি ইমাইয়ের ঘটনায় এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, জাপানি কর্মকর্তারা তাঁর সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ পান কি না, রাশিয়া অভিযোগের বিস্তারিত প্রমাণ উপস্থাপন করে কি না এবং বিচারপ্রক্রিয়ায় তাঁর অধিকার কতটা নিশ্চিত করা হয়। জাপান ইতিমধ্যে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানিয়েছে এবং আটক সাংবাদিকের মানবিক আচরণ ও ন্যায্য বিবেচনার দাবি তুলেছে। অন্যদিকে রাশিয়া নিজেদের নিরাপত্তাসংক্রান্ত অভিযোগে অনড় রয়েছে। ফলে নিকট ভবিষ্যতে দুই দেশের মধ্যে আরও কূটনৈতিক আলোচনা হতে পারে। তবে সাংবাদিকের মুক্তি, অভিযোগ প্রত্যাহার কিংবা দুই দেশের সম্পর্কের উন্নতি সম্পর্কে এখনই নিশ্চিত পূর্বাভাস দেওয়া সম্ভব নয়। এসব বিষয় নির্ভর করবে তদন্তের অগ্রগতি, আদালতের সিদ্ধান্ত এবং দুই সরকারের পরবর্তী পদক্ষেপের ওপর।