বাংলাদেশের মানুষের খাদ্যনিরাপত্তায় মার্কিন গম, সহযোগিতা বাড়াতে বৈঠকে দুই দেশ
যুক্তরাষ্ট্রের গম আমদানি নিয়ে ঢাকা-ওয়াশিংটন সহযোগিতা জোরদারের আলোচনা, খাদ্যশস্যের মান পরীক্ষা ও দীর্ঘমেয়াদি সংরক্ষণে কারিগরি সহায়তা চেয়েছে বাংলাদেশ।
যুক্তরাষ্ট্র থেকে গম আমদানির পাশাপাশি খাদ্যনিরাপত্তা, খাদ্যশস্যের গুণগত মান পরীক্ষা এবং দীর্ঘমেয়াদি সংরক্ষণব্যবস্থা উন্নয়নে দুই দেশের সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। রোববার (২৫ অক্টোবর) সচিবালয়ে খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানমের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন।
বৈঠকে বাংলাদেশের খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্রের কারিগরি সহায়তা চেয়েছেন খাদ্যমন্ত্রী। বিশেষ করে চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দরে আমদানি করা চাল ও গমের গুণগত মান পরীক্ষা করার সক্ষমতা বাড়াতে মার্কিন বিশেষজ্ঞদের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি। এ ছাড়া বাংলাদেশের আবহাওয়াগত পরিস্থিতিতে দীর্ঘমেয়াদে খাদ্যশস্য সংরক্ষণের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় উন্নত প্রযুক্তি ও ব্যবস্থাপনা বিষয়ে সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়।
বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে গম আমদানির অগ্রগতি নিয়েও সন্তোষ প্রকাশ করেন উভয় পক্ষ। খাদ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক ২ লাখ ২০ হাজার মেট্রিক টন মার্কিন গম কেনার চালানের মধ্যে প্রায় ১ লাখ ৭৫ হাজার মেট্রিক টন গম ২১ অক্টোবরের মধ্যে চট্টগ্রামে পৌঁছেছিল। এই আমদানি বাংলাদেশের খাদ্য সরবরাহ নিশ্চিত করার পাশাপাশি দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদারে ভূমিকা রাখছে। তবে বন্দরে পৌঁছানো গমের সম্পূর্ণ পরিমাণ ইতোমধ্যে বাজারে বিতরণ বা মানুষের খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে—এমন তথ্য নিশ্চিত করা যায়নি।
রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টেনসেনের বক্তব্যের মূল বার্তায় দুই দেশের বাণিজ্যিক অংশীদারত্ব আরও শক্তিশালী করার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের গম বাংলাদেশের খাদ্যনিরাপত্তায় সহায়তা করছে এবং দুই দেশের কৃষিপণ্য বাণিজ্যের পরিধি বাড়াচ্ছে। তবে আপনার দেওয়া ইংরেজি ও বাংলা উদ্ধৃতির হুবহু শব্দচয়ন স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।
বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে গম আমদানির দীর্ঘমেয়াদি ব্যবস্থাও রয়েছে। ২০২৫ সালের জুলাইয়ে স্বাক্ষরিত সমঝোতা অনুযায়ী, ২০৩০ সাল পর্যন্ত প্রতি বছর যুক্তরাষ্ট্র থেকে ৭ লাখ মেট্রিক টন পর্যন্ত গম আমদানির পরিকল্পনা রয়েছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে বাংলাদেশের খাদ্যশস্যের সরবরাহ বজায় রাখা এবং দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও সম্প্রসারণের লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে খাদ্যনিরাপত্তা ও খাদ্যশস্যের মান নিশ্চিত করতে কারিগরি সহায়তার সম্ভাবনা বিবেচনার কথা জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞ সহায়তা, উন্নত সংরক্ষণপ্রযুক্তি এবং আমদানিকৃত শস্যের মান পরীক্ষার সক্ষমতা বাড়ানো গেলে ভবিষ্যতে খাদ্য ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে।






মন্তব্য ০
লগইন করুন অথবা বিনা মূল্যে অ্যাকাউন্ট খুলুন আলোচনায় যোগ দিতে। নাম গোপন রেখেও মন্তব্য করতে পারবেন।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।