সরাসরি মানচিত্র, পূর্বাভাস ও জরিপের গড়: PoliAgg (CC BY-SA 4.0)

পূর্ণ ফলাফল, মানচিত্র ও জরিপ
ব্রেকিং
নিউইয়র্কের আইনজীবী পরীক্ষায় উত্তীর্ণ বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত তাসিন, উচ্ছ্বসিত পরিবার, গর্বিত বাংলাদেশি প্রবাসীরাবাংলাদেশের মানুষের খাদ্যনিরাপত্তায় মার্কিন গম, সহযোগিতা বাড়াতে বৈঠকে দুই দেশআটককেন্দ্রে এক বন্দির মৃত্যু, অনশনে অন্যরা! মানবিক সংকটে যুক্তরাষ্ট্রঅপেক্ষার অবসান ২৯ অক্টোবর, প্রকাশ হচ্ছে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফলইরানি নেতাদের হত্যা থামাতে চান ট্রাম্প, আলোচনার টেবিলে ফিরবে কি তেহরান?

আটক অভিবাসীদের জামিনে চাপের অভিযোগ, চাকরি হারানো বিচারকের বক্তব্যে বিতর্ক

আটক অভিবাসীদের জামিনের সিদ্ধান্তে সরকারি চাপের অভিযোগ তুলেছেন চাকরিচ্যুত এক সাবেক বিচারক। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন আদালতের স্বাধীনতা নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

আটক অভিবাসীদের জামিনে চাপের অভিযোগ, চাকরি হারানো বিচারকের বক্তব্যে বিতর্ক
আটক অভিবাসীদের জামিনে চাপের অভিযোগ, চাকরি হারানো বিচারকের বক্তব্যে বিতর্ক

যুক্তরাষ্ট্রে আটক অভিবাসীদের জামিন দেওয়ার বিষয়ে বিচারকদের ওপর সরকারি কর্মকর্তাদের চাপ প্রয়োগের অভিযোগ নতুন করে আলোচনায় এসেছে। দেশটির সাবেক অভিবাসন বিচারক কারেন ডোনোসো স্টিভেন্স দাবি করেছেন, আটক অভিবাসীদের জামিনের বিষয়ে আইন অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিতে গিয়ে তাঁকে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের আপত্তি ও চাপের মুখে পড়তে হয়েছে। পরে তাঁকে বিচারকের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় এবং চাকরিচ্যুত করা হয়। তাঁর বক্তব্য ও চাকরিচ্যুতির ঘটনাকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন বিচারব্যবস্থার স্বাধীনতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ডোনোসো স্টিভেন্স ভার্জিনিয়ার অ্যানানডেল অভিবাসন আদালতে দায়িত্ব পালন করতেন। তাঁর অভিযোগ, আটক অভিবাসীদের জামিনের আবেদন বিবেচনা করার সময় বিচার বিভাগের কর্মকর্তারা তাঁর সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। কিছু ক্ষেত্রে জামিন দেওয়ার সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের জন্যও চাপ দেওয়া হয়েছিল বলে তিনি দাবি করেন। তবে এসব অভিযোগের সব দিক স্বাধীনভাবে প্রমাণিত হয়েছে—এমন দাবি করা যাচ্ছে না।

২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে কয়েকজন অভিবাসীর জামিনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর তাঁর সঙ্গে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মতবিরোধ দেখা দেয়। ওই অভিবাসীদের মধ্যে এমন ব্যক্তিও ছিলেন, যাঁরা অপ্রাপ্তবয়স্ক অবস্থায় অভিভাবক ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছিলেন। ডোনোসো স্টিভেন্সের ব্যাখ্যা ছিল, সংশ্লিষ্ট আদালতের সিদ্ধান্ত ও মামলার পরিস্থিতি বিবেচনা করে তাঁদের জামিনের সুযোগ দেওয়া যেতে পারে। তাঁর দাবি, এই সিদ্ধান্তগুলো নিয়ে তাঁকে জবাবদিহি করতে বলা হয়েছিল।

ডোনোসো স্টিভেন্স আরও জানান, কয়েকটি মামলায় ফেডারেল আদালতের নির্দেশে জামিন শুনানি হওয়ার পরও অভিবাসন আদালতের কর্মকর্তারা তাঁর সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, শুধু শুনানির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেই জামিন দিতে হবে না—এমন মন্তব্যও তিনি শুনেছিলেন। কিন্তু তাঁর অবস্থান ছিল, কোনো আটক ব্যক্তি আইনের নির্ধারিত শর্ত পূরণ করলে এবং তাঁকে জননিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ বা আদালতে হাজিরা এড়াতে পারেন এমন প্রমাণ না থাকলে মামলার তথ্য বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।

২০২৬ সালের জানুয়ারিতে তাঁকে আটক অভিবাসীদের মামলার দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। পরে মে মাসে তাঁর চাকরি শেষ হয়। ডোনোসো স্টিভেন্স বলেছেন, চাকরিচ্যুতির কারণ সম্পর্কে তিনি সন্তোষজনক ব্যাখ্যা পাননি। তিনি তাঁর চাকরিচ্যুতির বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নিচ্ছেন। ফলে তাঁর অভিযোগ ও চাকরিচ্যুতির বিষয়টি এখনো বিতর্কের মধ্যে রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ-সংশ্লিষ্ট অভিবাসন আদালতগুলো সাধারণ ফেডারেল আদালতের মতো বিচার বিভাগের স্বাধীন শাখার অধীনে নয়; এগুলো বিচার বিভাগের নির্বাহী কাঠামোর অংশ। ফলে অভিবাসন বিচারকদের নিয়োগ, তদারকি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনার ওপর সরকারের প্রভাব রয়েছে। এ কারণে বিচারকদের সিদ্ধান্ত গ্রহণের স্বাধীনতা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা চলছে। সমালোচকদের আশঙ্কা, রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক চাপ বিচারকদের নিরপেক্ষ সিদ্ধান্ত গ্রহণে বাধা সৃষ্টি করতে পারে।

ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ডোনোসো স্টিভেন্সের বদলি বিচারক তাঁর দায়িত্ব নেওয়ার পর আশ্রয়ের আবেদন নাকচ করার হার বেশি ছিল। তবে শুধু এই পরিসংখ্যান দিয়ে কোনো বিচারকের সিদ্ধান্ত ভুল বা পক্ষপাতদুষ্ট ছিল—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না। প্রতিটি মামলার পরিস্থিতি, প্রমাণ এবং প্রযোজ্য আইন আলাদা হতে পারে।

অভিবাসন আদালতের কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বিচারকদের আচরণ, নিরপেক্ষতা, আইন মেনে চলা, কাজের দক্ষতা ও পেশাগত মান বিবেচনা করে তাঁদের মূল্যায়ন করা হয়। কর্তৃপক্ষ ডোনোসো স্টিভেন্সের চাকরিচ্যুতির নির্দিষ্ট কারণ নিয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করেনি। ফলে তাঁর অভিযোগের বিপরীতে প্রশাসনের পূর্ণ ব্যাখ্যা প্রকাশ্যে স্পষ্ট নয়।

এই বিতর্কের প্রভাব শুধু বিচারকদের চাকরির নিরাপত্তার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। যুক্তরাষ্ট্রে আটক থাকা অভিবাসীদের অনেকের জন্য জামিন শুনানি পরিবারে ফিরে যাওয়া, আইনজীবীর সঙ্গে যোগাযোগ রাখা এবং নিজেদের মামলা প্রস্তুত করার গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। জামিন পাওয়া মানেই অভিবাসন মামলা শেষ হয়ে যাওয়া বা স্থায়ীভাবে যুক্তরাষ্ট্রে থাকার অনুমতি পাওয়া নয়। আদালত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির যোগ্যতা, জননিরাপত্তা, আদালতে হাজিরা দেওয়ার সম্ভাবনা এবং প্রযোজ্য আইনের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিতে পারে।

এদিকে আটক অভিবাসীদের জামিনের অধিকার নিয়ে বিভিন্ন ফেডারেল আদালতে মতবিরোধও চলছে। কিছু আদালত সরকারের কঠোর আটক নীতির বিরুদ্ধে সিদ্ধান্ত দিয়েছে, আবার অন্য আদালত ভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়েছে। ফলে কোন পরিস্থিতিতে আটক অভিবাসীরা জামিন শুনানির সুযোগ পাবেন, তা নিয়ে আইনি লড়াই অব্যাহত রয়েছে।

ডোনোসো স্টিভেন্সের বক্তব্য যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন আদালতে প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ ও বিচারিক স্বাধীনতার প্রশ্নকে আবার সামনে এনেছে। তবে তাঁর চাকরিচ্যুতির পেছনে জামিনের সিদ্ধান্তই একমাত্র কারণ ছিল কি না, তা এখনো চূড়ান্তভাবে প্রতিষ্ঠিত নয়। তাঁর আইনি আপত্তি ও প্রশাসনের বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে বিষয়টির পরবর্তী অগ্রগতি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

ট্যাগ: অভিবাসনযুক্তরাষ্ট্রজামিনবিচারব্যবস্থা

প্রতিবেদক

Staff Reporter

Reporter

মন্তব্য ০

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।

ফটোকার্ড তৈরি হচ্ছে…

সিএসবি নিউজ ইউএসএ ফলো করুন

প্রতিদিন সকালে প্রধান সংবাদ, আর ব্রেকিং নিউজ ঘটার সাথে সাথে। বিনামূল্যে।