ওবামাকে ‘অযোগ্য’ বললেন ট্রাম্প, মিশিগানের নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়ল
ওবামার সমালোচনার জবাবে ট্রাম্প এবার তাঁকে অযোগ্য বলেছেন। মিশিগানের সিনেট নির্বাচন সামনে রেখে দুই দলের নেতাদের পাল্টাপাল্টি বক্তব্যে উত্তেজনা বাড়ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সমালোচনার জবাবে তাঁকে ‘অযোগ্য’ বলে আক্রমণ করেছেন বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ২৫ অক্টোবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ওবামার প্রেসিডেন্ট হিসেবে কাজের সমালোচনা করেন ট্রাম্প। একই সঙ্গে মিশিগানের ডেমোক্র্যাট সিনেট প্রার্থী আবদুল এল-সায়েদকে নিয়েও আক্রমণাত্মক মন্তব্য করেন তিনি। আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে এই পাল্টাপাল্টি বক্তব্য যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গরাজ্য মিশিগানে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে আরও আলোচনায় এনেছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এর এক দিন আগে, ২৪ অক্টোবর, ওবামা মিশিগানের ডেট্রয়েটে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীদের পক্ষে নির্বাচনী সমাবেশে অংশ নেন। সেখানে তিনি ট্রাম্প প্রশাসনের নীতি, দুর্নীতির অভিযোগ, জীবনযাত্রার ব্যয় এবং ইরান যুদ্ধ নিয়ে সমালোচনা করেন। ওবামা ভোটারদের ডেমোক্র্যাটদের সমর্থন দেওয়ার আহ্বান জানান। তাঁর বক্তব্যের পর ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানান এবং ওবামার প্রশাসনিক রেকর্ড নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
ট্রাম্প তাঁর পোস্টে অভিযোগ করেন, ওবামার নীতি ইরানকে আর্থিক সুবিধা দিয়েছিল এবং দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে ঝুঁকি তৈরি করেছিল। এসব বক্তব্যের মাধ্যমে ট্রাম্প তাঁর সাবেক রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীর পররাষ্ট্রনীতির সমালোচনা করেন। তবে ইরান নিয়ে দুই নেতার বক্তব্য দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক মতপার্থক্যের অংশ। ট্রাম্পের অভিযোগকে তাঁর রাজনৈতিক বক্তব্য হিসেবে দেখতে হবে; একে নিজে থেকেই প্রমাণিত সত্য হিসেবে বিবেচনা করা যায় না।
ট্রাম্পের পাল্টা আক্রমণের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য ছিলেন মিশিগানের ডেমোক্র্যাট সিনেট প্রার্থী আবদুল এল-সায়েদ। রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্স ও ট্রাম্পের পক্ষ থেকে এল-সায়েদের রাজনৈতিক অবস্থান এবং মুসলিম পরিচয়কে ঘিরে নানা অভিযোগ তোলা হয়েছে। ট্রাম্প তাঁকে উগ্রপন্থার সঙ্গে যুক্ত করে আক্রমণ করেছেন। তবে প্রকাশিত প্রতিবেদনে এসব গুরুতর অভিযোগের পক্ষে নির্ভরযোগ্য প্রমাণ দেখানো হয়নি। এল-সায়েদও এ ধরনের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন।
মিশিগানের নির্বাচনে এই বিতর্ক বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে, কারণ সিনেট আসনটি নিয়ে দুই দলের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা রয়েছে। রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্স একজন সাবেক কংগ্রেস সদস্য। অন্যদিকে, ডেমোক্র্যাট প্রার্থী এল-সায়েদ চিকিৎসক ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ হিসেবে পরিচিত। নির্বাচনে এই আসনের ফল সিনেটে দুই দলের ক্ষমতার ভারসাম্যে প্রভাব ফেলতে পারে। তাই জাতীয় পর্যায়ের নেতারা স্থানীয় প্রার্থীদের পক্ষে প্রচারে নেমেছেন।
ডেট্রয়েটের সমাবেশে ওবামা এল-সায়েদের পাশে দাঁড়িয়ে বলেন, কারও নাম বা ধর্মীয় পরিচয় ব্যবহার করে তাঁকে কম দেশপ্রেমিক কিংবা কম মার্কিন হিসেবে তুলে ধরা উচিত নয়। নিজের রাজনৈতিক জীবনে জন্মস্থান নিয়ে ছড়ানো মিথ্যা দাবির অভিজ্ঞতার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। ওবামার বক্তব্য ছিল, নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় প্রার্থীদের নীতি ও কাজ নিয়ে আলোচনা হওয়া উচিত, পরিচয়কে কেন্দ্র করে সন্দেহ তৈরি করা নয়।
রিপাবলিকান শিবির এল-সায়েদের নীতি ও রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। রজার্সের পক্ষ থেকেও তাঁর সঙ্গে মুসলিম ব্রাদারহুডের সম্পর্ক থাকার অভিযোগ তোলা হয়েছে। এল-সায়েদ এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। এ ধরনের অভিযোগের ক্ষেত্রে প্রমাণ ও রাজনৈতিক বক্তব্যের মধ্যে পার্থক্য রাখা গুরুত্বপূর্ণ। কোনো প্রার্থীর ধর্মীয় পরিচয় বা রাজনৈতিক অবস্থানের ভিত্তিতে গুরুতর অপরাধের অভিযোগ সত্য বলে ধরে নেওয়া যায় না।
মিশিগানে নির্বাচনী প্রচারের আরেকটি বড় বিষয় যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মধ্যে বাণিজ্য বিরোধ। ট্রাম্প প্রশাসনের শুল্কনীতির প্রভাব ডেট্রয়েটের গাড়িশিল্পসহ বিভিন্ন ব্যবসায় পড়েছে। কানাডা মিশিগানের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক অংশীদার হওয়ায় শুল্ক নিয়ে উদ্বেগ স্থানীয় অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানের আলোচনায় জায়গা করে নিয়েছে। ওবামা তাঁর সমাবেশে ট্রাম্প প্রশাসনের কানাডা নীতিরও সমালোচনা করেন। ট্রাম্পের মিশিগান সফরেও এই বাণিজ্য বিরোধ গুরুত্ব পেতে পারে।
মধ্যবর্তী নির্বাচনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নির্ধারিত হবে। বর্তমানে কংগ্রেসে রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে। ডেমোক্র্যাটরা আসন বাড়িয়ে ক্ষমতার ভারসাম্য পরিবর্তন করতে চাইছে। এ কারণে ট্রাম্পের প্রশাসনিক রেকর্ড এবং ওবামার মতো জনপ্রিয় ডেমোক্র্যাট নেতাদের প্রচার—দুই বিষয়ই নির্বাচনী আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তবে নেতাদের বক্তব্য ভোটারদের সিদ্ধান্তে কতটা প্রভাব ফেলবে, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়।
ওবামার সমালোচনার পর ট্রাম্পের পাল্টা আক্রমণ মিশিগানের নির্বাচনী প্রচারে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। দুই দলের নেতারা অর্থনীতি, পররাষ্ট্রনীতি, প্রার্থীদের পরিচয় এবং প্রশাসনিক জবাবদিহির বিষয়গুলো সামনে আনছেন। আগামী ৩ নভেম্বরের ভোটের আগে এসব বিতর্ক আরও বাড়তে পারে। তবে ভোটারদের কাছে শেষ পর্যন্ত কোন বিষয়গুলো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে, তার উত্তর মিলবে নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর।






মন্তব্য ০
লগইন করুন অথবা বিনা মূল্যে অ্যাকাউন্ট খুলুন আলোচনায় যোগ দিতে। নাম গোপন রেখেও মন্তব্য করতে পারবেন।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।