অংশ: যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন ২০২৬
জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর দাবি জোরালো, নির্বাচনের আগে চাপে মার্কিন রাজনীতি
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে খাবার, জ্বালানি ও স্বাস্থ্যসেবার বাড়তি খরচ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। নতুন জরিপে ভোটারদের প্রধান অগ্রাধিকার উঠে এসেছে।
যুক্তরাষ্ট্রে আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর দাবি রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম, জ্বালানি, বাসস্থান ও স্বাস্থ্যসেবার খরচ নিয়ে উদ্বেগের কারণে ভোটাররা অর্থনৈতিক পরিস্থিতিকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন। সাম্প্রতিক একাধিক জরিপে দেখা গেছে, নির্বাচনে প্রার্থী বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন খরচ অন্যতম প্রধান বিবেচ্য বিষয় হয়ে উঠেছে।
২২ অক্টোবর প্রকাশিত অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস ও নরক সেন্টারের জরিপে দেখা যায়, নিবন্ধিত ভোটারদের প্রায় ৮০ শতাংশ চান, নতুন কংগ্রেসের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার হোক জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো। একই জরিপে প্রায় ৭০ শতাংশ ভোটার ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের অবসানকে কংগ্রেসের গুরুত্বপূর্ণ কাজ হিসেবে দেখেছেন। অন্যদিকে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের বিরুদ্ধে তদন্তকে অগ্রাধিকার দিতে বলেছেন তুলনামূলক কম ভোটার। অর্থাৎ নির্বাচনের আগে মানুষের দৈনন্দিন সমস্যা ও অর্থনৈতিক চাপ রাজনৈতিক বিতর্কে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।
এর আগে ১৫ অক্টোবর প্রকাশিত এপি-নরকের আরেকটি জরিপেও অর্থনীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয়ের গুরুত্ব স্পষ্ট হয়েছিল। ওই জরিপে ৮৫ শতাংশ ভোটার অর্থনীতিকে এবং ৮৪ শতাংশ জীবনযাত্রার ব্যয়কে আসন্ন নির্বাচনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে উল্লেখ করেন। স্বাস্থ্যসেবার খরচকেও গুরুত্বপূর্ণ বলেছেন ৬৯ শতাংশ ভোটার। জরিপটি ৮ থেকে ১২ অক্টোবর ১ হাজার ১১৯ জন প্রাপ্তবয়স্ক মার্কিন নাগরিকের মধ্যে পরিচালিত হয়। এর নমুনাগত ত্রুটির সীমা ছিল প্রায় ৩ দশমিক ৯ শতাংশ পয়েন্ট।
ভোটারদের উদ্বেগ শুধু সামগ্রিক অর্থনীতির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। খাবার ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কেনা, গাড়িতে জ্বালানি ভরা, বাড়িভাড়া দেওয়া এবং চিকিৎসার খরচ মেটানো অনেক পরিবারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। পিউ রিসার্চ সেন্টারের ৮ অক্টোবর প্রকাশিত বিশ্লেষণে দেখা যায়, ৭৪ শতাংশ মার্কিন প্রাপ্তবয়স্ক জ্বালানি ও জ্বালানিসংক্রান্ত ব্যয়ের দাম নিয়ে খুব উদ্বিগ্ন। খাবার ও ভোগ্যপণ্যের দাম নিয়ে একই মাত্রার উদ্বেগ জানিয়েছেন ৭৩ শতাংশ, স্বাস্থ্যসেবার খরচ নিয়ে ৬৯ শতাংশ এবং আবাসনের ব্যয় নিয়ে ৬৬ শতাংশ মানুষ।
এই পরিস্থিতিতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অর্থনৈতিক নীতি নিয়েও বিতর্ক বাড়ছে। এপি-নরকের সাম্প্রতিক জরিপে ট্রাম্পের জীবনযাত্রার ব্যয় মোকাবিলার কার্যক্রমের প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন বিপুলসংখ্যক উত্তরদাতা। তবে জরিপের ফলাফলকে সব ভোটারের একই মতামত হিসেবে দেখা উচিত নয়। দলীয় পরিচয়, ব্যক্তিগত আয়, বসবাসের এলাকা এবং অর্থনৈতিক অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে মানুষের মূল্যায়ন ভিন্ন হতে পারে।
জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর প্রশ্নে রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে নীতিগত পার্থক্যও নির্বাচনী প্রচারে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ডেমোক্র্যাটরা স্বাস্থ্যসেবা, আবাসন ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ব্যয় কমানোর পাশাপাশি সাধারণ পরিবারের আর্থিক চাপের বিষয়টি সামনে রাখছেন। অন্যদিকে রিপাবলিকানরা নিজেদের অর্থনৈতিক কর্মসূচি, করনীতি, জ্বালানি এবং কর্মসংস্থানসংক্রান্ত পরিকল্পনার মাধ্যমে ভোটারদের সমর্থন ধরে রাখার চেষ্টা করছেন। দুই দলের প্রতিশ্রুতির বাস্তব ফল কী হবে, তা নির্ভর করবে প্রস্তাব বাস্তবায়ন, অর্থায়ন এবং অর্থনীতির সামগ্রিক পরিস্থিতির ওপর।
নির্বাচনে অর্থনীতির পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবা, অভিবাসন, অপরাধ, গণতন্ত্র এবং আন্তর্জাতিক সংঘাতও গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু। পিউ রিসার্চ সেন্টারের জরিপে ৮৪ শতাংশ নিবন্ধিত ভোটার অর্থনীতিকে তাঁদের ভোটের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ বলেছেন। একই জরিপে গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎকে ৭৩ শতাংশ এবং স্বাস্থ্যসেবাকে ৬৮ শতাংশ ভোটার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে উল্লেখ করেন। এসব তথ্য দেখায়, ভোটারদের সিদ্ধান্তে একাধিক জাতীয় ইস্যু ভূমিকা রাখতে পারে।
৩ নভেম্বরের নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নির্ধারণে ভোটারদের অর্থনৈতিক অভিজ্ঞতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে উদ্বেগ থাকলেই কোনো নির্দিষ্ট দল নির্বাচনে জিতবে বা হারবে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না। স্থানীয় প্রার্থীদের অবস্থান, প্রচারের কার্যকারিতা, ভোটারদের অংশগ্রহণ এবং অন্যান্য ইস্যুও ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে।
সাম্প্রতিক জরিপগুলোর সামগ্রিক বার্তা হলো, মার্কিন ভোটারদের বড় অংশ শুধু রাজনৈতিক বক্তব্য নয়, দৈনন্দিন জীবনে অর্থনৈতিক স্বস্তি চান। খাবার, জ্বালানি, বাসস্থান ও চিকিৎসার খরচ সামলানো কতটা সহজ হবে, তা নিয়ে তাঁদের প্রত্যাশা নির্বাচনী আলোচনায় গুরুত্ব পাচ্ছে। ভোটের দিন যত এগিয়ে আসছে, জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর বাস্তব পরিকল্পনা তুলে ধরা দুই দলের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

ক্যালিফোর্নিয়ার ৫৮ কাউন্টিকে ভোটারদের নাগরিকত্ব যাচাইয়ের দাবি বিচার বিভাগের

মিশিগানে পরিবর্তনের ডাক ওবামার, ভোট দিতে ডেমোক্র্যাট সমর্থকদের আহ্বান

মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে মিশিগানে ট্রাম্প, বাণিজ্যনীতি নিয়ে বাড়ছে আলোচনা





মন্তব্য ০
লগইন করুন অথবা বিনা মূল্যে অ্যাকাউন্ট খুলুন আলোচনায় যোগ দিতে। নাম গোপন রেখেও মন্তব্য করতে পারবেন।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।