সরাসরি মানচিত্র, পূর্বাভাস ও জরিপের গড়: PoliAgg (CC BY-SA 4.0)

পূর্ণ ফলাফল, মানচিত্র ও জরিপ
ব্রেকিং
নিউইয়র্কের আইনজীবী পরীক্ষায় উত্তীর্ণ বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত তাসিন, উচ্ছ্বসিত পরিবার, গর্বিত বাংলাদেশি প্রবাসীরাবাংলাদেশের মানুষের খাদ্যনিরাপত্তায় মার্কিন গম, সহযোগিতা বাড়াতে বৈঠকে দুই দেশআটককেন্দ্রে এক বন্দির মৃত্যু, অনশনে অন্যরা! মানবিক সংকটে যুক্তরাষ্ট্রঅপেক্ষার অবসান ২৯ অক্টোবর, প্রকাশ হচ্ছে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফলইরানি নেতাদের হত্যা থামাতে চান ট্রাম্প, আলোচনার টেবিলে ফিরবে কি তেহরান?

অংশ: যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন ২০২৬

ক্যালিফোর্নিয়ায় ভোটারদের নাগরিকত্ব যাচাই নিয়ে বিতর্ক, বৈধ ভোটাধিকার নিয়ে উদ্বেগ

যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের নাগরিকত্ব যাচাইয়ের দাবিতে ক্যালিফোর্নিয়ায় বিতর্ক বেড়েছে। তালিকায় ভুলের অভিযোগ তুলে ভোটাধিকার নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।

ক্যালিফোর্নিয়ায় ভোটারদের নাগরিকত্ব যাচাই নিয়ে বিতর্ক, বৈধ ভোটাধিকার নিয়ে উদ্বেগ
ক্যালিফোর্নিয়ায় ভোটারদের নাগরিকত্ব যাচাই নিয়ে বিতর্ক, বৈধ ভোটাধিকার নিয়ে উদ্বেগ

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যে ভোটারদের নাগরিকত্ব যাচাই নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রায় ২০ হাজার ভোটারের নাগরিকত্ব নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছে দেশটির বিচার বিভাগ। এসব ভোটারের তথ্য যাচাই করতে অঙ্গরাজ্যের বিভিন্ন কাউন্টির নির্বাচন কর্মকর্তাদের কাছে সহযোগিতা চেয়েছে ফেডারেল কর্তৃপক্ষ। তবে ক্যালিফোর্নিয়ার কর্মকর্তারা বলছেন, সরকারের দেওয়া তালিকায় ভুল থাকতে পারে। ফলে বৈধ মার্কিন নাগরিকদের ভোটাধিকার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের ২৪ অক্টোবরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ ক্যালিফোর্নিয়ার ৫৮টি কাউন্টির নির্বাচন কর্মকর্তাদের কাছে চিঠি পাঠিয়ে সন্দেহভাজন ভোটারদের নাগরিকত্ব যাচাইয়ের অনুরোধ জানিয়েছে। চিঠিতে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। যেসব ভোটারের নাগরিকত্ব নিশ্চিত করা যাবে না, তাঁদের ডাকযোগে পাঠানো ব্যালট বাতিল না করে আলাদা করে রাখার অনুরোধ জানানো হয়েছে। নাগরিকত্ব যাচাই শেষ না হওয়া পর্যন্ত এসব ব্যালট গণনা না করার বিষয়েও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিচার বিভাগের দাবি, ভোটার তালিকায় এমন কিছু মানুষের নাম রয়েছে, যাঁরা মার্কিন নাগরিক নন বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল নির্বাচনে ভোট দেওয়ার জন্য নাগরিক হওয়া বাধ্যতামূলক। তাই ভোটার তালিকা যাচাই এবং নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। তবে সন্দেহের তালিকায় নাম থাকা মানেই কেউ আইন ভেঙে ভোট দিয়েছেন, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই। প্রত্যেক ব্যক্তির নাগরিকত্ব ও ভোটার নিবন্ধনের তথ্য নির্ভরযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে যাচাই করা জরুরি।

ক্যালিফোর্নিয়ার নির্বাচন কর্মকর্তারা ফেডারেল সরকারের দেওয়া তথ্যের নির্ভুলতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁদের বক্তব্য, তালিকায় থাকা ব্যক্তিদের কেন অনাগরিক হিসেবে সন্দেহ করা হচ্ছে, সে বিষয়ে পর্যাপ্ত প্রমাণ ও ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। এ ছাড়া ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা এবং নির্বাচন পরিচালনার নিয়ম নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। কর্মকর্তাদের আশঙ্কা, যাচাইয়ের প্রক্রিয়ায় ভুল হলে বৈধ নাগরিকদের ভোটও আটকে যেতে পারে।

অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টিতে তালিকার ২০০টি নাম নিয়ে প্রাথমিক পর্যালোচনায় একাধিক অসংগতি পাওয়া গেছে। ওই নামগুলোর ৪০ শতাংশের বেশি ক্ষেত্রে ভোটার নিবন্ধন ইতিমধ্যে বাতিল হয়ে গিয়েছিল। ৭০ শতাংশের বেশি ব্যক্তির ভোট দেওয়ার কোনো ইতিহাস পাওয়া যায়নি। আবার প্রায় ৪০ শতাংশ ব্যক্তি যুক্তরাষ্ট্রেই জন্মেছেন বলে প্রাথমিক যাচাইয়ে উঠে এসেছে। এসব তথ্য পুরো ২০ হাজার মানুষের তালিকা সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেয় না। তবে তালিকাটি যাচাই না করে সবাইকে অনাগরিক ভোটার হিসেবে চিহ্নিত করা ঠিক হবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

এই বিরোধের সূত্রপাত চলতি মাসের মাঝামাঝি সময়ে। বিচার বিভাগ ক্যালিফোর্নিয়ার বিরুদ্ধে মামলাও করেছে। সরকারের অভিযোগ, ২০ হাজারের বেশি এমন ব্যক্তি ভোটার হিসেবে নিবন্ধিত রয়েছেন, যাঁরা সম্ভবত মার্কিন নাগরিক নন। তবে এটি সরকারের দাবি; প্রত্যেক ব্যক্তির ক্ষেত্রে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে, এমন নয়। ক্যালিফোর্নিয়ার কর্মকর্তারা ফেডারেল সরকারের তথ্য সংগ্রহের পদ্ধতি ও দাবির আইনি ভিত্তি নিয়েও আপত্তি জানিয়েছেন। মামলাটি নিয়ে আইনি বিরোধ এখনো চলছে।

এই পরিস্থিতিতে ভোটারদের ব্যক্তিগত তথ্যও আলোচনায় এসেছে। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফেডারেল চিঠিতে সন্দেহভাজন ভোটারদের সামাজিক নিরাপত্তা নম্বর, পরিচয়পত্র এবং ভোটার নিবন্ধনের নথিসহ বিভিন্ন তথ্য চাওয়া হয়েছে। রাজ্য ও স্থানীয় কর্মকর্তাদের একাংশ মনে করছেন, এত অল্প সময়ের মধ্যে এসব তথ্য যাচাই করা কঠিন। তাঁদের মতে, নাগরিকত্ব যাচাইয়ের কাজ করতে হলে নির্ভুল তথ্য, যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া এবং ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষা নিশ্চিত করা দরকার।

অন্যদিকে, বিচার বিভাগের অবস্থান হলো—নির্বাচনে অনাগরিকদের ভোট দেওয়া ঠেকানো এবং ফেডারেল আইন কার্যকর রাখা জরুরি। তবে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে অনাগরিকদের ভোট দেওয়ার ঘটনা বিরল এবং এ ধরনের ভোট কোনো নির্বাচনের ফল বদলে দিয়েছে, এমন প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ফলে এই উদ্যোগের মাধ্যমে প্রকৃত অনিয়ম শনাক্ত করা যাবে, নাকি ভুল তথ্যের কারণে বৈধ ভোটারদের সমস্যায় পড়তে হবে, তা নিয়ে বিতর্ক চলছে।

ক্যালিফোর্নিয়ার ঘটনাটি শুধু একটি অঙ্গরাজ্যের ভোটার তালিকা যাচাইয়ের বিষয় নয়; এটি নির্বাচনের নিরাপত্তা, ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষা এবং নাগরিকদের ভোটাধিকার রক্ষার মধ্যকার ভারসাম্যের প্রশ্নও সামনে এনেছে। একদিকে অনাগরিকদের ভোট দেওয়া ঠেকানোর দাবি, অন্যদিকে বৈধ ভোটারদের অধিকার যেন ভুল যাচাইয়ের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়—দুই বিষয়ই গুরুত্বপূর্ণ। এখন আদালতের সিদ্ধান্ত এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যাচাই প্রক্রিয়ার দিকে নজর থাকবে। নাগরিকত্ব নিয়ে সন্দেহের ভিত্তিতে কাউকে আগেভাগে অবৈধ ভোটার হিসেবে চিহ্নিত না করে নির্ভরযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়াই এ বিতর্কের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক।

ট্যাগ: ক্যালিফোর্নিয়াযুক্তরাষ্ট্রনির্বাচনভোটাধিকারনাগরিকত্ব

প্রতিবেদক

Mukti Dipita

INTERNATIONAL BROADCAST JOURNALIST

মন্তব্য ০

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।

ফটোকার্ড তৈরি হচ্ছে…

সিএসবি নিউজ ইউএসএ ফলো করুন

প্রতিদিন সকালে প্রধান সংবাদ, আর ব্রেকিং নিউজ ঘটার সাথে সাথে। বিনামূল্যে।