অংশ: যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন ২০২৬
মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে মিশিগানে ট্রাম্প, বাণিজ্যনীতি নিয়ে বাড়ছে আলোচনা
মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে মিশিগানে রিপাবলিকানদের সমর্থন বাড়াতে সমাবেশ করতে যাচ্ছেন ট্রাম্প, আলোচনায় অর্থনীতি ও কানাডার সঙ্গে বাণিজ্য বিরোধ।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে রিপাবলিকান প্রার্থীদের সমর্থন আদায়ে মিশিগান অঙ্গরাজ্যে নির্বাচনী সমাবেশ করতে যাচ্ছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। অঙ্গরাজ্যটির পোর্ট হুরন শহরের ম্যাকমরান প্লেস অ্যারেনায় এই সমাবেশ আয়োজনের কথা রয়েছে। আগামী ৩ নভেম্বরের নির্বাচনের আগে গুরুত্বপূর্ণ আসনগুলোতে দলের অবস্থান শক্তিশালী করতেই ট্রাম্পের এই প্রচারাভিযান। তবে এই সমাবেশের গুরুত্ব শুধু নির্বাচনী প্রচারে সীমাবদ্ধ নয়; মিশিগানের অর্থনীতি, গাড়িশিল্প এবং কানাডার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য সম্পর্কও আলোচনায় আসতে পারে।
মিশিগানে সিনেটের একটি গুরুত্বপূর্ণ আসন নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা চলছে। রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সের মুখোমুখি হচ্ছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী আবদুল এল-সাইয়েদ। এই নির্বাচনের ফল সিনেটে কোন দল নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারবে, তা নির্ধারণে ভূমিকা রাখতে পারে। ফলে দুই দলের জাতীয় নেতারাই মিশিগানের ভোটারদের সমর্থন পাওয়ার চেষ্টা করছেন।
ট্রাম্পের সমাবেশের আগের দিন সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ডেট্রয়েটে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীদের পক্ষে প্রচার চালান। তিনি এল-সাইয়েদ ও গভর্নর পদপ্রার্থী জোসেলিন বেনসনের সমর্থনে বক্তব্য দেন। এর পর মিশিগানে ট্রাম্পের উপস্থিতি অঙ্গরাজ্যটির নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় দুই দলের প্রচারের গুরুত্ব তুলে ধরছে।
মিশিগানে ট্রাম্পের প্রচারের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো কানাডার সঙ্গে বাণিজ্য বিরোধ। অঙ্গরাজ্যটির গাড়ি নির্মাণশিল্প কানাডার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত। দুই দেশের মধ্যে যন্ত্রাংশ ও অন্যান্য পণ্য নিয়মিত সীমান্ত পারাপার হয়। ফলে আমদানি পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপ এবং পাল্টা বাণিজ্যিক পদক্ষেপের প্রভাব স্থানীয় ব্যবসা, উৎপাদন ব্যয় ও ভোক্তাদের ওপর পড়তে পারে।
পোর্ট হুরনের মেয়র অনিতা অ্যাশফোর্ড এর আগে বলেছেন, ট্রাম্পের শুল্কনীতি এবং কানাডার পাল্টা পদক্ষেপের কারণে সীমান্তবর্তী শহরটির অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। কানাডা থেকে আসা ক্রেতার সংখ্যা কমে যাওয়ায় স্থানীয় দোকান, রেস্তোরাঁ ও অন্যান্য ব্যবসাও চাপের মুখে পড়তে পারে বলে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। একই সঙ্গে তিনি প্রেসিডেন্টের শহর সফরকে স্বাগত জানিয়েছেন।
রিপাবলিকান সিনেট প্রার্থী মাইক রজার্সও ট্রাম্পের শুল্কনীতি থেকে কিছুটা দূরত্ব বজায় রেখেছেন। এই পরিস্থিতি দেখাচ্ছে, জাতীয় পর্যায়ে দলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বজায় রাখার পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনৈতিক উদ্বেগের বিষয়টিও মিশিগানের প্রার্থীদের বিবেচনায় নিতে হচ্ছে।
নির্বাচনে জীবনযাত্রার ব্যয়, কর্মসংস্থান, জ্বালানির দাম এবং অর্থনৈতিক পরিস্থিতিও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে। ট্রাম্প তাঁর প্রচারে প্রশাসনের অর্থনৈতিক নীতি তুলে ধরতে চাইছেন। অন্যদিকে ডেমোক্র্যাটরা সাধারণ মানুষের ব্যয়, বাণিজ্যনীতি ও প্রশাসনের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। ভোটাররা এসব বিষয়ে কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানান, তা নির্বাচনের ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে।
মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের আসনগুলোর পাশাপাশি বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে গুরুত্বপূর্ণ পদেও ভোট হবে। কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে রিপাবলিকানদের প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আসনগুলোতে সমর্থন ধরে রাখা প্রয়োজন। অন্যদিকে ডেমোক্র্যাটরা আসন বাড়িয়ে কংগ্রেসে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করার চেষ্টা করছেন।
পোর্ট হুরনে ট্রাম্পের এই সমাবেশকে তাই শুধু একটি রাজনৈতিক অনুষ্ঠান হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এটি এমন একটি অঙ্গরাজ্যে রিপাবলিকানদের সমর্থন বাড়ানোর প্রচেষ্টা, যেখানে বাণিজ্যনীতি ও শিল্পকারখানার অর্থনৈতিক অবস্থা ভোটারদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। তবে সমাবেশে ট্রাম্প কী বক্তব্য দেন এবং স্থানীয় অর্থনৈতিক উদ্বেগের বিষয়ে কী বলেন, তা তাঁর বক্তব্যের পরই স্পষ্ট হবে।
আগামী ৩ নভেম্বরের ভোটে মিশিগানের ফল জাতীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে সিনেটের প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আসনটির ফল কংগ্রেসের ক্ষমতার ভারসাম্যে প্রভাব ফেলতে পারে। তবে নির্বাচনের ফল আগে থেকে নিশ্চিত নয়; ভোটারদের সিদ্ধান্তই শেষ পর্যন্ত নির্ধারণ করবে কোন দল কতটা সমর্থন পাবে।

মিশিগানে পরিবর্তনের ডাক ওবামার, ভোট দিতে ডেমোক্র্যাট সমর্থকদের আহ্বান

বিশাল সমাবেশের পর ট্রাম্পের ওয়াশিংটন ফেরা নিয়ে তোলপাড়, বিশ্রামহীনতার দাবিতে বাড়ছে প্রশ্ন

ইউক্রেনের স্টারলিংক সচল, ড্রোন হামলার অভিযোগে ইলন মাস্কের সঙ্গে নতুন বিতর্কে ওয়াশিংটন






মন্তব্য ০
লগইন করুন অথবা বিনা মূল্যে অ্যাকাউন্ট খুলুন আলোচনায় যোগ দিতে। নাম গোপন রেখেও মন্তব্য করতে পারবেন।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।