ব্রেকিং
যুক্তরাষ্ট্রের স্কুলে চারজনকে হত্যা, মায়ের কেনা বন্দুক নিয়ে উঠছে বড় প্রশ্নযুক্তরাষ্ট্রে ২০২৭ সালের অভিবাসন লটারি চালুর নির্দেশ দিলেন ক্যালিফোর্নিয়ার ফেডারেল বিচারকওবামার মন্তব্যে ক্ষুব্ধ নেতানিয়াহু, ইসরায়েলের ভূমি নিয়ে নতুন করে তীব্র বিতর্কডিসেম্বরের মায়ামি সম্মেলনে জেলেনস্কি-ট্রাম্প-পুতিন বৈঠকের সম্ভাবনা, এখনো সম্মতি দেয়নি ওয়াশিংটন-মস্কোকুইন্সে পাঁচ বছরের মেয়ের মৃত্যু, হত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত মা বিনা জামিনে আটক

যুক্তরাষ্ট্রে ২০২৭ সালের অভিবাসন লটারি চালুর নির্দেশ দিলেন ক্যালিফোর্নিয়ার ফেডারেল বিচারক

যুক্তরাষ্ট্রে ২০২৭ সালের অভিবাসন লটারি চালুর নির্দেশ দিয়েছেন ফেডারেল বিচারক। নতুন সময়সূচি অনুযায়ী আবেদন শুরুর অপেক্ষায় রয়েছেন হাজারো বিদেশি নাগরিক।

যুক্তরাষ্ট্রে ২০২৭ সালের অভিবাসন লটারি চালুর নির্দেশ দিলেন ক্যালিফোর্নিয়ার ফেডারেল বিচারক
যুক্তরাষ্ট্রে ২০২৭ সালের অভিবাসন লটারি চালুর নির্দেশ দিলেন ক্যালিফোর্নিয়ার ফেডারেল বিচারক

বিচারক জিনসুক ওহতা গত ১৪ অক্টোবর এই মামলায় প্রাথমিক নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। এর ফলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং তাঁর দপ্তরের ওপর ২০২৭ অর্থবছরের বৈচিত্র্যভিত্তিক অভিবাসন ভিসা কর্মসূচি পুনরায় চালুর জন্য পদক্ষেপ নেওয়ার বাধ্যবাধকতা তৈরি হয়। মামলাটির নাম ‘রেড ঈগল ল বনাম রুবিও’। ক্যালিফোর্নিয়াভিত্তিক রেড ঈগল ল নামের একটি আইন প্রতিষ্ঠান এই মামলা করে। তাদের অভিযোগ ছিল, সরকার নির্ধারিত সময়ে আবেদন গ্রহণ শুরু না করায় আইনসম্মত একটি অভিবাসন কর্মসূচি কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

প্রাথমিক আদেশে আদালত নিবন্ধন শুরুর জন্য ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত সময় নির্ধারণ করেছিলেন। কিন্তু পরে সরকার ও মামলাকারী পক্ষের যৌথ আবেদনের ভিত্তিতে বিচারক সময়সূচি সংশোধন করেন। সংশোধিত নির্দেশ অনুযায়ী, ২৯ অক্টোবরের মধ্যে নিবন্ধনের সময়সূচি প্রকাশ করতে হবে এবং ১ নভেম্বর থেকে আবেদন গ্রহণ শুরু করতে হবে। নিবন্ধন চলবে ৩০ দিন। নির্বাচিত আবেদনকারীদের ৩ ডিসেম্বরের মধ্যে অবহিত করার নির্দেশও রয়েছে। অর্থাৎ, কর্মসূচি পুনরায় চালুর বিষয়ে আদালতের নির্দেশ কার্যকর হলেও আবেদন গ্রহণের নির্দিষ্ট তারিখ এখন ১ নভেম্বর।

এই কর্মসূচির আওতায় প্রতিবছর সর্বোচ্চ ৫৫ হাজার অভিবাসন ভিসা দেওয়ার সুযোগ থাকে। যুক্তরাষ্ট্রে যেসব দেশ থেকে ঐতিহাসিকভাবে তুলনামূলক কমসংখ্যক মানুষ অভিবাসন করেন, সেসব দেশের যোগ্য নাগরিকদের জন্য এই ব্যবস্থা তৈরি করা হয়েছে। আফ্রিকা, এশিয়া এবং অন্যান্য অঞ্চলের বহু দেশের মানুষ এই কর্মসূচির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের সুযোগ পাওয়ার আশায় আবেদন করেন। তবে কোন দেশের নাগরিক আবেদন করতে পারবেন, তা নির্দিষ্ট বছরের সরকারি যোগ্যতার তালিকার ওপর নির্ভর করে। তাই সব দেশের নাগরিকের জন্য একই সুযোগ রয়েছে—এমন ধারণা সঠিক নয়।

এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় পরিষ্কার করা প্রয়োজন। ৫৫ হাজার বলতে নিবন্ধনকারী বা লটারিতে নির্বাচিত ব্যক্তির সংখ্যা বোঝায় না; এটি কর্মসূচির আওতায় ভিসা দেওয়ার সর্বোচ্চ বার্ষিক সীমা। আবেদনকারীদের মধ্য থেকে দৈবচয়নের মাধ্যমে প্রার্থী নির্বাচন করা হয়। নির্বাচিত হলেই কেউ স্বয়ংক্রিয়ভাবে স্থায়ী বসবাসের অনুমতি পান না। তাঁদের প্রয়োজনীয় যোগ্যতা, নথিপত্র, নিরাপত্তা যাচাই, সাক্ষাৎকার এবং অন্যান্য শর্ত পূরণ করতে হয়। ফলে লটারিতে নির্বাচিত হওয়া মানে পরবর্তী ধাপে যাওয়ার সুযোগ পাওয়া, নিশ্চিতভাবে ভিসা পাওয়া নয়।

মামলাটির সূত্রপাত হয় নিবন্ধন নিয়ে দীর্ঘ অনিশ্চয়তার পর। ২০২৭ অর্থবছরের কর্মসূচির নিবন্ধন শুরুর তারিখ যথাসময়ে ঘোষণা করা হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর ২০২৫ সালের ৫ নভেম্বর জানিয়েছিল, আবেদনপ্রক্রিয়ায় কিছু পরিবর্তন আনা হচ্ছে এবং নিবন্ধন শুরুর তারিখ পরে জানানো হবে। কিন্তু পরবর্তী সময়ে নিবন্ধন চালু না হওয়ায় আগ্রহী আবেদনকারীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়। মামলাকারী পক্ষের বক্তব্য ছিল, শুধু বিলম্বের কারণে একটি আইনসম্মত কর্মসূচির সুযোগ থেকে মানুষকে বঞ্চিত করা উচিত নয়।

এই মামলায় সরকারের অবস্থানও গুরুত্বপূর্ণ। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিবন্ধন চালু করতে দেরি হওয়ার পর সরকার যুক্তি দিয়েছিল যে কর্মসূচিটি বাস্তবায়নের জন্য সময় আর যথেষ্ট নেই। অন্যদিকে মামলাকারী প্রতিষ্ঠানটির দাবি ছিল, সরকারের নিষ্ক্রিয়তার কারণে যে সংকট তৈরি হয়েছে, সেটিকে পরবর্তী সময়ে কর্মসূচি বন্ধ রাখার যুক্তি হিসেবে ব্যবহার করা যায় না। বিচারক প্রাথমিক নিষেধাজ্ঞা দিয়ে নিবন্ধন পুনরায় চালুর নির্দেশ দেন। তবে মামলার সব আইনি প্রশ্ন চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তি হয়েছে—এমন দাবি করা ঠিক হবে না, কারণ এটি প্রাথমিক পর্যায়ের আদালতের আদেশ।
বিচারক জিনসুক ওহতার পরিচয় নিয়েও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল বিচার বিভাগের সরকারি জীবনী অনুযায়ী, তাঁর জন্ম ১৯৭৬ সালে দক্ষিণ কোরিয়ার সিউলে। সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ২০২১ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর তাঁকে ক্যালিফোর্নিয়ার দক্ষিণাঞ্চলীয় ফেডারেল আদালতের বিচারক পদে মনোনীত করেন। একই বছরের ১৭ ডিসেম্বর সিনেট তাঁর মনোনয়ন অনুমোদন করে। ফলে তাঁকে বাইডেনের মনোনীত বিচারক বলা তথ্যগতভাবে সঠিক। তবে তাঁর নিয়োগের রাজনৈতিক পরিচয় উল্লেখ করলেই আদালতের সিদ্ধান্তের আইনগত ভিত্তি ব্যাখ্যা করা হয় না। রায়ের যথার্থতা বিচার করতে হলে সংশ্লিষ্ট আইন, মামলার যুক্তি এবং আদালতের লিখিত আদেশ বিবেচনা করতে হবে।

কর্মসূচিটি স্থগিত রাখার পেছনে নিরাপত্তাসংক্রান্ত উদ্বেগও রয়েছে। সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসন বৈচিত্র্যভিত্তিক অভিবাসন ভিসা কর্মসূচি স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেয়। এর পেছনে এমন এক পর্তুগিজ নাগরিকের সংশ্লিষ্টতার কথা উল্লেখ করা হয়েছিল, যিনি এই কর্মসূচির মাধ্যমে ভিসা পেয়েছিলেন বলে জানানো হয় এবং পরে রোড আইল্যান্ড ও ম্যাসাচুসেটসে পৃথক দুটি গুলির ঘটনায় চারজনকে হত্যার সন্দেহভাজন হিসেবে আলোচনায় আসেন। ওই ব্যক্তি পরে আত্মহত্যা করে মারা যান বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। এসব ঘটনা ঘিরে আবেদনকারীদের পরিচয় যাচাই, নিরাপত্তা পরীক্ষা এবং ভিসা প্রদানের পদ্ধতি নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়। তবে কোনো একজন ব্যক্তির অপরাধের অভিযোগকে একটি গোটা দেশের নাগরিক বা সব আবেদনকারীর বিরুদ্ধে প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করা যায় না।

নিরাপত্তার বিষয়টি সামনে রেখে প্রশাসনের উদ্বেগ থাকলেও নিবন্ধন কর্মসূচি নিয়ে সরকারের নিষ্ক্রিয়তা আইনসম্মত কি না, সেটিই আদালতের সামনে মূল প্রশ্ন হয়ে ওঠে। আদালতের আদেশে নিবন্ধন চালু করার পাশাপাশি নির্বাচিত ব্যক্তিদের অবহিত করা এবং তাঁদের আবেদন প্রচলিত নিয়মে প্রক্রিয়াকরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আদেশে ২০২৭ অর্থবছরের বরাদ্দ শেষ হওয়া অথবা ২০২৭ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর অর্থবছর শেষ হওয়া পর্যন্ত প্রক্রিয়া চালানোর কথা উল্লেখ রয়েছে। তবে এই নির্দেশের বাস্তব প্রয়োগ এবং ভিসা প্রদানের ক্ষেত্রে অন্য কোনো সরকারি বিধিনিষেধ কার্যকর আছে কি না, তা আবেদনকারীদের জন্য আলাদাভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
আগ্রহী আবেদনকারীদের জন্য সবচেয়ে জরুরি হলো, নিবন্ধন শুরুর আগেই যোগ্যতা ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য সংগ্রহ করা। আবেদন করার আগে নিজের জন্মদেশের যোগ্যতা, শিক্ষাগত বা কর্ম-অভিজ্ঞতার শর্ত, পাসপোর্টসংক্রান্ত নিয়ম এবং আবেদনপদ্ধতি সরকারি নির্দেশনা থেকে যাচাই করা উচিত। নিবন্ধন চালু হওয়ার ঘোষণা এবং আবেদন জমা দেওয়ার নির্ধারিত ওয়েবসাইট যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হওয়ার কথা। তাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত অনানুষ্ঠানিক আবেদনপত্র, অর্থের বিনিময়ে নির্বাচিত হওয়ার প্রতিশ্রুতি কিংবা ভুয়া নিবন্ধন-সংক্রান্ত বিজ্ঞাপন থেকে সতর্ক থাকা প্রয়োজন।

বাংলাদেশি আবেদনকারীদের ক্ষেত্রেও একটি বিষয় বিশেষভাবে মনে রাখা দরকার: কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার যোগ্যতা শুধু বাংলাদেশি নাগরিকত্বের ওপর নির্ভর করে না। নির্দিষ্ট বছরের দেশভিত্তিক যোগ্যতা ও অন্যান্য শর্ত দেখতে হবে। আগের কোনো বছরের নিয়ম বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া তালিকা দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক হবে না। সরকারি নির্দেশনা প্রকাশিত হলে সেটিই অনুসরণ করা সবচেয়ে নিরাপদ।
সব মিলিয়ে, যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৭ সালের বৈচিত্র্যভিত্তিক অভিবাসন ভিসা কর্মসূচি পুনরায় চালুর নির্দেশ দেওয়ার খবরটি সত্য। তবে প্রচারিত পোস্টে নিবন্ধন অবিলম্বে চালুর যে ধারণা দেওয়া হয়েছে, তা সংশোধন করা প্রয়োজন। সর্বশেষ পাওয়া আদালতবিষয়ক তথ্য অনুযায়ী, নিবন্ধন শুরু হওয়ার নির্ধারিত তারিখ ১ নভেম্বর ২০২৬; এর আগে ২৯ অক্টোবরের মধ্যে সময়সূচি প্রকাশের নির্দেশ রয়েছে। ৫৫ হাজার ভিসার সুযোগও সর্বোচ্চ সীমা, প্রত্যেক আবেদনকারীর জন্য নিশ্চিত অভিবাসনের প্রতিশ্রুতি নয়। আবেদনকারীদের তাই সরকারি ঘোষণা, যোগ্যতার শর্ত এবং ভিসা প্রদানের সর্বশেষ নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে।


ট্যাগ: যুক্তরাষ্ট্রঅভিবাসন লটারিবৈচিত্র্যভিত্তিক ভিসামার্কো রুবিওজিনসুক ওহতাক্যালিফোর্নিয়া আদালতস্থায়ী বসবাসঅভিবাসন আইনভিসা আবেদনবাংলাদেশি অভিবাসনপ্রত্যাশা

প্রতিবেদক

Desk Report

Reporter

ফটোকার্ড তৈরি হচ্ছে…

সংবাদ পান আপনার ইনবক্সে

প্রতিদিন সকালে প্রধান সংবাদ, আর ব্রেকিং নিউজ ঘটার সাথে সাথে। বিনামূল্যে।