সরাসরি মানচিত্র, পূর্বাভাস ও জরিপের গড়: PoliAgg (CC BY-SA 4.0)

পূর্ণ ফলাফল, মানচিত্র ও জরিপ
ব্রেকিং
কানাডার অভিবাসননীতিতে কড়াকড়ি, কমছে অস্থায়ী বাসিন্দা; আবাসন ও চাকরির বাজারে কী প্রভাব?ইউক্রেনের ভবিষ্যৎ নিয়ে ট্রাম্প ও শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকের প্রস্তাব পুতিনেরআগারগাঁওয়ে যাচ্ছে সচিবালয়, ২০২৯ সালের মধ্যে নতুন প্রশাসনিক কমপ্লেক্স চালুর লক্ষ্য সরকারেরইরান সংঘাতের আগুনে জ্বলছে জ্বালানির বাজার, ক্যালিফোর্নিয়ায় ডিজেলের দাম গ্যালনপ্রতি ৮.৮০ ডলারের শঙ্কা!ম্যাসাচুসেটসে দুর্ঘটনায় গ্রেপ্তারের পর রিপাবলিকান উপগভর্নর প্রার্থীর নির্বাচনী প্রচার স্থগিত

আগারগাঁওয়ে যাচ্ছে সচিবালয়, ২০২৯ সালের মধ্যে নতুন প্রশাসনিক কমপ্লেক্স চালুর লক্ষ্য সরকারের

রাজধানীর আবদুল গনি রোড থেকে সচিবালয় সরিয়ে শেরেবাংলা নগরে ১৪টি ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা অনুমোদন পেয়েছে; কার্যক্রম শুরুর লক্ষ্য ২০২৯ সালে।

আগারগাঁওয়ে যাচ্ছে সচিবালয়, ২০২৯ সালের মধ্যে নতুন প্রশাসনিক কমপ্লেক্স চালুর লক্ষ্য সরকারের
আগারগাঁওয়ে যাচ্ছে সচিবালয়, ২০২৯ সালের মধ্যে নতুন প্রশাসনিক কমপ্লেক্স চালুর লক্ষ্য সরকারের

রাজধানীর প্রশাসনিক কার্যক্রম আরও সুশৃঙ্খল করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ সচিবালয় স্থানান্তরের প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। বর্তমান সচিবালয় রাজধানীর আবদুল গনি রোড থেকে সরিয়ে শেরেবাংলা নগরের পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠে নতুন প্রশাসনিক কমপ্লেক্স নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সরকারের ঘোষিত লক্ষ্য অনুযায়ী, ২০২৯ সালের মধ্যে নতুন কমপ্লেক্স থেকে সরকারি দপ্তরগুলোর কার্যক্রম শুরু হতে পারে। তবে এই সময়সীমা একটি পরিকল্পিত লক্ষ্য; নির্ধারিত সময়ে নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার নিশ্চয়তা নয়।

রোববার, ১৮ অক্টোবর, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার ২৫তম বৈঠকে স্থানান্তরের প্রস্তাব অনুমোদিত হয়। বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি সংবাদ ব্রিফিংয়ে সিদ্ধান্তের বিস্তারিত তুলে ধরেন। বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা, প্রথম আলো, ডেইলি স্টার এবং ঢাকা ট্রিবিউনের প্রকাশিত প্রতিবেদনে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত ও প্রস্তাবিত ভবনসংক্রান্ত তথ্যের সমর্থন পাওয়া গেছে।

সরকারি পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগারগাঁওয়ের শেরেবাংলা নগরে পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠের প্রায় ৩১ দশমিক ৫৮ একর জমিতে নতুন সচিবালয় নির্মাণ করা হবে। প্রস্তাবিত নকশায় থাকবে ১২ তলাবিশিষ্ট ১৪টি ভবন। প্রতিটি ভবনের নিচে তিনটি করে ভূগর্ভস্থ তলা রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। পুরো কমপ্লেক্সে প্রায় ৩৩ লাখ ১৬ হাজার বর্গফুট জায়গা তৈরির কথা জানানো হয়েছে। এসব ভবনে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনার ব্যবস্থা থাকবে।

নতুন কমপ্লেক্সে যানবাহন রাখার জন্য প্রায় ৩ হাজার ৮০০টি গাড়ির পার্কিং সুবিধা পরিকল্পনা করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ২০০টি গাড়ি রাখার জায়গা থাকবে ভূমির ওপরে এবং বাকি ব্যবস্থা থাকবে ভূগর্ভে। পাশাপাশি একটি মসজিদ, ৩৫০ জন ধারণক্ষমতার দুটি বহুমুখী মিলনায়তন, একটি খাবারের স্থান এবং একটি ডাকঘর রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রকল্প এলাকার প্রায় ৩০ শতাংশ জায়গা সবুজায়ন ও জলাধারের জন্য সংরক্ষণের কথাও জানানো হয়েছে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিবের বক্তব্য অনুযায়ী, নতুন কমপ্লেক্স নির্মাণে বিখ্যাত স্থপতি লুই আই কানের পরিকল্পনার সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখার বিষয়টি বিবেচনা করা হয়েছে। স্থাপত্য অধিদপ্তর নতুন সচিবালয়ের ধারণাগত নকশা তৈরি করেছে। তবে ধারণাগত নকশা অনুমোদন এবং প্রকল্পের সব নির্মাণসংক্রান্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়া এক বিষয় নয়। নির্মাণের চূড়ান্ত নকশা, ব্যয়, দরপত্র ও বাস্তবায়নের সময়সূচি সম্পর্কে পরবর্তী সরকারি সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

বর্তমান সচিবালয়ে জায়গার সংকট নতুন স্থানান্তর পরিকল্পনার অন্যতম কারণ হিসেবে তুলে ধরেছে সরকার। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, পুরোনো সচিবালয় প্রায় ১৭ দশমিক ৫৭ একর জমির ওপর অবস্থিত। সেখানে ১৩টি ভবন রয়েছে, যার আটটি স্বাধীনতার আগে নির্মিত হয়েছিল। পুরোনো ভবনগুলোর বয়স, দাপ্তরিক জায়গার সীমাবদ্ধতা এবং কর্মপরিবেশ নিয়ে সরকারি পর্যায়ে উদ্বেগের কথা জানানো হয়েছে।

সরকারি তথ্যের বরাতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমান সচিবালয়ে প্রায় ১৮ লাখ ৭৬ হাজার বর্গফুট জায়গা রয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ সচিবের বক্তব্য অনুযায়ী, বিদ্যমান পরিসরে সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগকে একসঙ্গে স্থান দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। ফলে কিছু দপ্তরকে সচিবালয়ের বাইরে কার্যক্রম পরিচালনা করতে হয়। নতুন কমপ্লেক্স নির্মিত হলে সরকারি দপ্তরগুলোকে একটি কেন্দ্রীয় স্থানে আনার সুযোগ তৈরি হতে পারে। এতে দাপ্তরিক যোগাযোগ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া সহজ করার প্রত্যাশা করছে সরকার।

তবে সচিবালয় স্থানান্তরের পরিকল্পনার সঙ্গে বড় ধরনের আর্থিক ও প্রশাসনিক দায়িত্বও যুক্ত রয়েছে। ডেইলি স্টারের ১৮ অক্টোবরের প্রতিবেদনে প্রকল্পের সম্ভাব্য ব্যয় নিয়ে আগের পর্যায়ের একটি হিসাব প্রকাশিত হয়েছিল। কিন্তু ১৯ অক্টোবর প্রকাশিত হালনাগাদ প্রতিবেদনে মোট ব্যয় চূড়ান্ত হয়নি বলে জানানো হয়েছে। তাই আগের প্রস্তাবে উল্লেখিত কোনো অঙ্ককে চূড়ান্ত অনুমোদিত ব্যয় হিসেবে উপস্থাপন করা সঠিক হবে না। সরকার নিজস্ব অর্থায়নে প্রকল্প বাস্তবায়নের কথা জানিয়েছে; তবে চূড়ান্ত ব্যয়, অর্থ বরাদ্দ এবং নির্মাণের বিভিন্ন ধাপ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য এখনো গুরুত্বপূর্ণ।

নতুন স্থানে সচিবালয় চালু হলে কর্মকর্তা-কর্মচারী, নাগরিক ও বিভিন্ন কাজে আসা মানুষের যাতায়াতের বিষয়টিও গুরুত্ব পাবে। আগারগাঁওয়ে একাধিক সরকারি দপ্তর একত্র হলে দাপ্তরিক সমন্বয় সহজ হতে পারে। অন্যদিকে যানজট, গণপরিবহন, সড়কের ধারণক্ষমতা এবং সাধারণ মানুষের প্রবেশগম্যতা নিশ্চিত করা জরুরি হবে। এ জন্য আশপাশের সড়ক উন্নয়ন, যান চলাচল ব্যবস্থাপনা এবং পর্যাপ্ত পার্কিং সুবিধা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে।

বর্তমান সচিবালয় খালি হওয়ার পর ভবনগুলো কী কাজে ব্যবহার করা হবে, সে বিষয়েও আলোচনা রয়েছে। ডেইলি স্টারের প্রতিবেদনে মন্ত্রণালয় সূত্রের বরাতে বলা হয়েছে, পুরোনো ভবনগুলোতে পুরান ঢাকায় অবস্থিত সরকারি দপ্তর অথবা রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে ভাড়া করা ভবনে পরিচালিত সরকারি কার্যালয় স্থানান্তরের সম্ভাবনা বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ও বিস্তারিত পরিকল্পনা আলাদাভাবে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।

সচিবালয় স্থানান্তরের প্রস্তাবে মন্ত্রিসভার অনুমোদন বাংলাদেশের প্রশাসনিক অবকাঠামোতে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিকল্পনাগত পরিবর্তন। তবে এখনো প্রকল্পের মোট ব্যয় চূড়ান্ত হওয়া, নির্মাণকাজের আনুষ্ঠানিক অগ্রগতি এবং নির্ধারিত সময়ে কার্যক্রম শুরু করার বিষয়গুলো পর্যবেক্ষণ করতে হবে। সরকারের ঘোষিত লক্ষ্য ২০২৯ সালের মধ্যে নতুন কমপ্লেক্সে দাপ্তরিক কার্যক্রম শুরু করা। পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে সরকারি দপ্তরগুলোর জন্য অতিরিক্ত জায়গা তৈরি হতে পারে; এর প্রকৃত সুফল নির্ভর করবে স্বচ্ছ ব্যয় ব্যবস্থাপনা, সময়মতো নির্মাণ এবং কার্যকর যোগাযোগব্যবস্থা নিশ্চিত করার ওপর।


ট্যাগ: বাংলাদেশসচিবালয়সচিবালয়স্থানান্তরআগারগাঁওশেরেবাংলানগরঢাকাবাংলাদেশসরকারমন্ত্রিসভা

প্রতিবেদক

CSB News USA

ফটোকার্ড তৈরি হচ্ছে…

সিএসবি নিউজ ইউএসএ ফলো করুন

প্রতিদিন সকালে প্রধান সংবাদ, আর ব্রেকিং নিউজ ঘটার সাথে সাথে। বিনামূল্যে।