ব্রেকিং
মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে ইলন মাস্কের ১৫৮ মিলিয়ন ডলার, টেক্সাসের লড়াইয়ে বাড়ছে উত্তাপজর্জিয়ায় ভোটের লড়াইয়ে ট্রাম্পের প্রচার, দশ পয়েন্টে এগিয়ে ওসফের দাবি ঘিরে উত্তাপযুক্তরাষ্ট্রে চাকরির বাজারে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত, নতুন কর্মীদের জন্য কী অর্থ?রকেটের প্রযুক্তিতে আকাশে উড়ল টেসলা! ইলন মাস্কের নতুন প্রদর্শনী ঘিরে বিশ্বজুড়ে আলোচনাযুক্তরাষ্ট্রের স্কুলে ভয়াবহ বন্দুক হামলা, নিহত তিন শিশু ও শিক্ষক, সন্দেহভাজন কিশোরও নিহত বলে দাবি

ব্যাংকে দাবিহীন ১৭২ কোটি টাকা, মালিক ও উত্তরাধিকারীদের খোঁজ মিলছে না

দেশের ৫৬টি ব্যাংকের ১৭২ কোটি টাকা দাবিহীন আমানত হিসেবে জমার খবর সামনে এসেছে। ঠিকানা পরিবর্তন, পরিচয়গত অসংগতি ও আইনি জটিলতায় আটকে আছে অর্থ ফেরত পাওয়ার পথ।

ব্যাংকে দাবিহীন ১৭২ কোটি টাকা, মালিক ও উত্তরাধিকারীদের খোঁজ মিলছে না
ব্যাংকে দাবিহীন ১৭২ কোটি টাকা, মালিক ও উত্তরাধিকারীদের খোঁজ মিলছে না

দেশের ব্যাংকিং খাতে দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা দাবিহীন আমানত নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে। প্রকাশিত এক সংবাদ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশের ৫৬টি ব্যাংকের মোট ১৭২ কোটি টাকা দাবিহীন আমানত হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা রয়েছে। এসব অর্থের প্রকৃত মালিক কিংবা তাঁদের উত্তরাধিকারীদের অনেকেই নিজেদের প্রাপ্য অর্থের বিষয়ে জানেন না। আবার কেউ কেউ জানতে পারলেও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ, পরিচয় যাচাই এবং উত্তরাধিকার প্রমাণের জটিলতায় অর্থ ফেরত পেতে সমস্যার মুখে পড়ছেন।

ব্যাংকে টাকা জমা রাখার পর দীর্ঘ সময় কোনো লেনদেন না হলে সংশ্লিষ্ট হিসাব নিষ্ক্রিয় হয়ে যেতে পারে। নির্দিষ্ট আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে দীর্ঘদিনের দাবিহীন আমানত বাংলাদেশ ব্যাংকে স্থানান্তরের ব্যবস্থাও রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সরকারি ওয়েবসাইটে এ ধরনের আমানত সম্পর্কে তথ্য এবং সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর তালিকা দেওয়া আছে। সেখানে দীর্ঘ ১০ বছর কোনো লেনদেন না হওয়া হিসাবের আমানত সম্পর্কেও তথ্য পাওয়া যায়। তবে সব নিষ্ক্রিয় হিসাবের অর্থ একই নিয়মে বা একই সময়ে স্থানান্তরিত হয়, এমন নয়।

দাবিহীন আমানতের পেছনে অন্যতম বড় সমস্যা হলো গ্রাহকের পরিচয় ও যোগাযোগের তথ্য হালনাগাদ না থাকা। অনেক গ্রাহক বছরের পর বছর আগে ব্যাংক হিসাব খুলেছেন। এর মধ্যে কেউ বাসা পরিবর্তন করেছেন, কেউ অন্য শহরে চলে গেছেন, আবার কেউ মারা গেছেন। তাঁদের মৃত্যুর পর উত্তরাধিকারীদের কাছে ব্যাংকে জমা থাকা অর্থের তথ্য পৌঁছায়নি। ফলে হিসাবের অর্থ থাকলেও সঠিক ব্যক্তির কাছে তা পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়ছে।

নামের বানান, বাবার নাম, স্থায়ী ঠিকানা কিংবা অন্যান্য পরিচয়সংক্রান্ত তথ্যেও অসংগতি দেখা দিতে পারে। পুরোনো নথিতে থাকা ঠিকানা ও বর্তমান ঠিকানার মধ্যে পার্থক্য থাকলে প্রকৃত আমানতকারীকে শনাক্ত করতে সময় লাগে। কোনো গ্রাহক মারা গেলে তাঁর বৈধ উত্তরাধিকারী কারা, কে কত অংশ পাবেন এবং প্রয়োজনীয় প্রমাণপত্র কী—এসব বিষয়ও যাচাই করতে হয়। বিশেষ করে পুরোনো হিসাবের নথিতে পর্যাপ্ত তথ্য না থাকলে পুরো প্রক্রিয়া আরও জটিল হয়ে ওঠে।

এমন পরিবারের কথাও তুলে ধরা হয়েছে, যাঁরা মৃত স্বজনের ব্যাংকে জমা থাকা অর্থ তুলতে গিয়ে উত্তরাধিকার সনদ সংগ্রহসহ বিভিন্ন আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হয়েছেন। তাঁদের জন্য এসব কাগজপত্র সংগ্রহের খরচও বাড়তি চাপ তৈরি করতে পারে। তবে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা নির্দিষ্ট ব্যয়ের হিসাবকে সবার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য ধরে নেওয়া ঠিক হবে না। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও ব্যয় নির্ভর করতে পারে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক, সম্পত্তির ধরন এবং উত্তরাধিকারসংক্রান্ত পরিস্থিতির ওপর।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, দাবিহীন আমানত হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংকে অর্থ জমা পড়েছে বলেই প্রকৃত মালিকের অধিকার স্বয়ংক্রিয়ভাবে শেষ হয়ে যায় না। নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট আমানতের বিষয়ে দাবি জানানো যায়। অর্থ পাওয়ার জন্য আবেদনকারীকে নিজের পরিচয় এবং আমানতের সঙ্গে তাঁর আইনগত সম্পর্ক প্রমাণ করতে হতে পারে। মৃত আমানতকারীর ক্ষেত্রে উত্তরাধিকারসংক্রান্ত নথি বা আদালতের নির্দেশ প্রয়োজন হতে পারে, বিশেষত উত্তরাধিকারীদের মধ্যে বিরোধ থাকলে।

এ ক্ষেত্রে গ্রাহক ও উত্তরাধিকারীদের প্রথম কাজ হতে পারে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের শাখায় যোগাযোগ করা। মৃত ব্যক্তির নাম, পুরোনো হিসাবের তথ্য, পরিচয়পত্র, মৃত্যুসনদ এবং প্রযোজ্য উত্তরাধিকারসংক্রান্ত কাগজপত্র সঙ্গে নিয়ে ব্যাংকের কাছে জানতে হবে, আমানতটি কোথায় স্থানান্তরিত হয়েছে এবং দাবি জানানোর সঠিক পদ্ধতি কী। বাংলাদেশ ব্যাংকের সরকারি ওয়েবসাইটেও দাবিহীন আমানত অনুসন্ধানের ব্যবস্থা রয়েছে। সেখানে তালিকাভুক্ত তথ্য মিলিয়ে দেখা যেতে পারে। তবে তালিকায় তথ্য না পেলেই যে কোনো আমানত নেই, এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে না।

ব্যাংকগুলোর দায়িত্বও এখানে গুরুত্বপূর্ণ। গ্রাহকের যোগাযোগের তথ্য নিয়মিত হালনাগাদ রাখা, দীর্ঘদিন লেনদেন না হওয়া হিসাব শনাক্ত করা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী গ্রাহক বা তাঁর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের উদ্যোগ নেওয়া হলে অনেক ক্ষেত্রে সমস্যার সমাধান সহজ হতে পারে। একই সঙ্গে আমানত দাবি করার নিয়ম, প্রয়োজনীয় নথি এবং সম্ভাব্য খরচ সম্পর্কে পরিষ্কার তথ্য দেওয়া প্রয়োজন, যাতে সাধারণ মানুষ অযথা হয়রানি বা বিভ্রান্তির শিকার না হন।

দাবিহীন আমানতের ১৭২ কোটি টাকার অঙ্কটি প্রকাশিত সংবাদ প্রতিবেদনের তথ্য; বাংলাদেশ ব্যাংকের আলাদা সরকারি ঘোষণায় এই নির্দিষ্ট অঙ্কটি স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। তবে দাবিহীন আমানত শনাক্ত ও ফেরত দেওয়ার প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা রয়েছে। এখন প্রয়োজন সেই ব্যবস্থা সম্পর্কে মানুষের সচেতনতা বাড়ানো, ব্যাংকের নথি হালনাগাদ রাখা এবং বৈধ দাবিদারদের জন্য প্রক্রিয়াটি আরও সহজ ও স্বচ্ছ করা, যাতে মানুষের কষ্টার্জিত অর্থ যথাযথ মালিকের কাছে পৌঁছাতে পারে।

ট্যাগ: বাংলাদেশবাংলাদেশব্যাংকদাবিহীনআমানতব্যাংকিংখবরআমানত

প্রতিবেদক

staf reporter

Reporter

ফটোকার্ড তৈরি হচ্ছে…

সংবাদ পান আপনার ইনবক্সে

প্রতিদিন সকালে প্রধান সংবাদ, আর ব্রেকিং নিউজ ঘটার সাথে সাথে। বিনামূল্যে।