ব্রেকিং
মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে ইলন মাস্কের ১৫৮ মিলিয়ন ডলার, টেক্সাসের লড়াইয়ে বাড়ছে উত্তাপজর্জিয়ায় ভোটের লড়াইয়ে ট্রাম্পের প্রচার, দশ পয়েন্টে এগিয়ে ওসফের দাবি ঘিরে উত্তাপযুক্তরাষ্ট্রে চাকরির বাজারে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত, নতুন কর্মীদের জন্য কী অর্থ?রকেটের প্রযুক্তিতে আকাশে উড়ল টেসলা! ইলন মাস্কের নতুন প্রদর্শনী ঘিরে বিশ্বজুড়ে আলোচনাযুক্তরাষ্ট্রের স্কুলে ভয়াবহ বন্দুক হামলা, নিহত তিন শিশু ও শিক্ষক, সন্দেহভাজন কিশোরও নিহত বলে দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনী ব্যবস্থা ও সুপ্রিম কোর্টে বড় পরিবর্তনের পক্ষে কমলা হ্যারিস

যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনী ব্যবস্থায় সংস্কার, সুপ্রিম কোর্টে বিচারপতির সংখ্যা বৃদ্ধি এবং পুয়ের্তো রিকো ও ওয়াশিংটন ডিসির অঙ্গরাজ্যের মর্যাদা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনী ব্যবস্থা ও সুপ্রিম কোর্টে বড় পরিবর্তনের পক্ষে কমলা হ্যারিস
যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনী ব্যবস্থা ও সুপ্রিম কোর্টে বড় পরিবর্তনের পক্ষে কমলা হ্যারিস

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস দেশটির নির্বাচনী ব্যবস্থা ও বিচার বিভাগে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের পক্ষে নিজের অবস্থান তুলে ধরেছেন। সুপ্রিম কোর্টে বিচারপতির সংখ্যা বাড়ানো, প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ইলেকটোরাল কলেজ ব্যবস্থার পরিবর্তনের সম্ভাবনা পর্যালোচনা এবং পুয়ের্তো রিকো ও ওয়াশিংটন ডিসিকে অঙ্গরাজ্যের মর্যাদা দেওয়ার বিষয়গুলো তাঁর প্রস্তাবের মধ্যে রয়েছে। ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে এসব বক্তব্য নতুন করে বিতর্ক তৈরি করেছে।

১৪ অক্টোবর প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে ফক্স নিউজ জানায়, ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেলে কী ধরনের পরিবর্তন আনা যেতে পারে, সে বিষয়ে এক সাক্ষাৎকারে হ্যারিস আলোচনা করেন। পডকাস্ট উপস্থাপক কেকে পামারের সঙ্গে কথোপকথনে তিনি বলেন, সুপ্রিম কোর্টে বিচারপতির সংখ্যা বাড়ানো প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন। তাঁর যুক্তি, আদালতকে এমনভাবে কাজ করতে হবে, যাতে যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের মূল চেতনা ও নীতিগুলো যথাযথভাবে প্রতিফলিত হয়।

বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টে নয়জন বিচারপতি রয়েছেন। এই সংখ্যা বাড়ানোর প্রস্তাবটি মার্কিন রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্কিত। সমর্থকদের মতে, আদালতের কাঠামো পরিবর্তন করলে বিচার বিভাগের কার্যক্রম ও প্রতিনিধিত্ব নিয়ে নতুনভাবে আলোচনা করা সম্ভব। অন্যদিকে সমালোচকদের আশঙ্কা, রাজনৈতিক পরিস্থিতি অনুযায়ী বিচারপতির সংখ্যা বাড়ানোর উদ্যোগ আদালতের স্বাধীনতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে বিতর্ক বাড়াতে পারে। তবে বিচারপতির সংখ্যা বাড়ানোর পক্ষে বক্তব্য দেওয়া মানেই এ বিষয়ে আইন পাস হয়ে গেছে, এমন নয়।

হ্যারিস যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ইলেকটোরাল কলেজ ব্যবস্থার পরিবর্তনের সম্ভাবনা নিয়েও কথা বলেছেন। তাঁর বক্তব্যের মূল বিষয় হলো, জাতীয় নির্বাচনে সাধারণ ভোটারদের দেওয়া ভোটের গুরুত্ব যথাযথভাবে প্রতিফলিত হওয়া উচিত। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ভোটাররা সরাসরি জাতীয় পর্যায়ে একজন প্রার্থীকে নির্বাচিত করেন না; বরং প্রতিটি অঙ্গরাজ্যে নির্বাচনের ফলের ভিত্তিতে ইলেকটোরাল ভোট নির্ধারিত হয়। অধিকাংশ অঙ্গরাজ্যে যে প্রার্থী বেশি ভোট পান, তিনি সাধারণত সেই অঙ্গরাজ্যের সব ইলেকটোরাল ভোট পেয়ে থাকেন। মেইন ও নেব্রাস্কায় এ ক্ষেত্রে ব্যতিক্রমী ব্যবস্থা রয়েছে।

এই ব্যবস্থার কারণে কোনো প্রার্থী দেশজুড়ে মোট জনপ্রিয় ভোটে এগিয়ে থেকেও ইলেকটোরাল কলেজে পরাজিত হতে পারেন। অতীতে এমন ঘটনা ঘটেছে, যা যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাচনী ব্যবস্থার সংস্কার নিয়ে বিতর্ককে আরও জোরালো করেছে। হ্যারিসের বক্তব্য অনুযায়ী, জনপ্রিয় ভোটের গুরুত্ব বাড়ানোর উপায় নিয়ে আলোচনা করা দরকার। তবে ইলেকটোরাল কলেজ ব্যবস্থা পরিবর্তন করা সহজ নয়। এর জন্য বড় ধরনের সাংবিধানিক ও রাজনৈতিক বাধা অতিক্রম করতে হবে।

সাক্ষাৎকারে পুয়ের্তো রিকো এবং ওয়াশিংটন ডিসিকে অঙ্গরাজ্যের মর্যাদা দেওয়ার বিষয়টিও উঠে আসে। বর্তমানে পুয়ের্তো রিকো যুক্তরাষ্ট্রের একটি স্বশাসিত অঞ্চল এবং ওয়াশিংটন ডিসি দেশটির ফেডারেল রাজধানী জেলা। এ দুটি এলাকার বাসিন্দারা যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক হলেও অঙ্গরাজ্যগুলোর মতো কংগ্রেসে পূর্ণ ভোটাধিকারসম্পন্ন প্রতিনিধিত্ব পান না। বিশেষ করে সিনেটে তাদের প্রতিনিধিত্ব না থাকা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক বিতর্ক চলছে।

অঙ্গরাজ্যের মর্যাদা দেওয়ার সমর্থকেরা মনে করেন, এতে সংশ্লিষ্ট এলাকার বাসিন্দাদের জাতীয় আইন প্রণয়নে প্রতিনিধিত্ব বাড়বে। অন্যদিকে বিরোধীদের মধ্যে এ পদক্ষেপের সাংবিধানিক, রাজনৈতিক ও নির্বাচনী প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। পুয়ের্তো রিকোর ক্ষেত্রে স্থানীয় জনগণের মতামত এবং ওয়াশিংটন ডিসির ক্ষেত্রে কংগ্রেসের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তাই এ ধরনের পরিবর্তনের জন্য রাজনৈতিক সমর্থন ও আইনগত প্রক্রিয়া প্রয়োজন।

হ্যারিসের বক্তব্য এমন সময়ে এসেছে, যখন যুক্তরাষ্ট্রে ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা চলছে। এই নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদের সব আসন এবং সিনেটের একাংশের আসনে ভোট হবে। নির্বাচনের ফল প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের নীতি বাস্তবায়ন এবং বিরোধী দলের আইন প্রণয়নের সক্ষমতার ওপর গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।

হ্যারিস বর্তমানে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীদের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারেও অংশ নিচ্ছেন। তবে তাঁর সাম্প্রতিক বক্তব্যকে কেবল নির্বাচনী কৌশল হিসেবে দেখার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের সাংবিধানিক কাঠামো নিয়ে চলমান বৃহত্তর বিতর্কের অংশ হিসেবেও বিবেচনা করা যায়। আদালতের কাঠামো, নির্বাচনী প্রতিনিধিত্ব এবং নতুন অঙ্গরাজ্য গঠনের প্রশ্ন দেশটির দুই প্রধান দলের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই মতবিরোধের কারণ।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি পোস্টে হ্যারিসের বক্তব্যকে রিপাবলিকানদের জন্য হুমকি হিসেবে তুলে ধরে সিনেটের ফিলিবাস্টার প্রথা বাতিলের আহ্বান জানানো হয়েছে। তবে ফিলিবাস্টার বাতিলের আহ্বানটি হ্যারিসের ওই সাক্ষাৎকারে তাঁর সরাসরি বক্তব্য ছিল—এমন নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তাই এ দাবিকে তাঁর বক্তব্যের অংশ হিসেবে প্রকাশ করা সঠিক হবে না।

কমলা হ্যারিস যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনী ব্যবস্থা ও সুপ্রিম কোর্টে কাঠামোগত পরিবর্তনের পক্ষে কথা বলেছেন—এ তথ্য সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে সমর্থিত। তবে এসব প্রস্তাব বাস্তবায়িত হয়েছে, কিংবা ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ পেলেই পরিবর্তনগুলো নিশ্চিতভাবে কার্যকর হবে, এমন কোনো তথ্য নেই। প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সাংবিধানিক বিধান, কংগ্রেসের সমর্থন এবং রাজনৈতিক ঐকমত্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

ট্যাগ: কমলাহ্যারিসযুক্তরাষ্ট্রেররাজনীতিমার্কিননির্বাচনসুপ্রিমকোর্টমধ্যবর্তীনির্বাচন

প্রতিবেদক

Desk Report

Reporter

ফটোকার্ড তৈরি হচ্ছে…

সংবাদ পান আপনার ইনবক্সে

প্রতিদিন সকালে প্রধান সংবাদ, আর ব্রেকিং নিউজ ঘটার সাথে সাথে। বিনামূল্যে।