অগ্রণী ব্যাংকের শ্রীনগর শাখায় ৩০০ গ্রাহকের হিসাব ঘিরে সাত বছরের অভিযোগ

প্রায় ৩০০ গ্রাহকের হিসাব, অজান্তে মোবাইল নম্বর পরিবর্তন, সাত বছর ধরে এসএমএস না পাওয়ার অভিযোগ এবং প্রায় অর্ধশত কোটি টাকার কথিত লেনদেন—অগ্রণী ব্যাংকের শ্রীনগর শাখা ঘিরে উঠেছে গুরুতর প্রশ্ন।

অগ্রণী ব্যাংকের শ্রীনগর শাখায় ৩০০ গ্রাহকের হিসাব ঘিরে সাত বছরের অভিযোগ

অগ্রণী ব্যাংকের শ্রীনগর শাখায় ৩০০ গ্রাহকের হিসাব ঘিরে সাত বছরের অভিযোগ


পিয়াস হোসাইন | 

অগ্রণী ব্যাংকের শ্রীনগর শাখায় প্রায় ৩০০ গ্রাহকের ব্যাংক হিসাব ও লেনদেনকে ঘিরে দীর্ঘদিনের একাধিক অভিযোগ সামনে এসেছে। গ্রাহকদের অভিযোগ, তাদের অনেকের হিসাবের সঙ্গে এমন মোবাইল নম্বর যুক্ত করা হয়েছিল, যা তারা নিজেরা ব্যাংককে দেননি। এর ফলে হিসাব থেকে বিভিন্ন লেনদেন হলেও তাদের মোবাইলে কোনো এসএমএস পৌঁছাত না বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগীরা।

গ্রাহকদের ভাষ্য, বিষয়টি নিয়ে তারা বিভিন্ন সময়ে শাখা কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ করলেও প্রায় সাত বছর ধরে তাদের ‘সার্ভার সমস্যা’ বলে জানানো হয়েছে। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও অভিযোগের কার্যকর সমাধান হয়নি বলেও দাবি করেছেন তারা।

অভিযোগকারীদের দাবি, সংশ্লিষ্ট প্রায় ৩০০টি হিসাব ও এসব হিসাবের লেনদেনের অর্থের পরিমাণ মিলিয়ে প্রায় অর্ধশত কোটি টাকা হতে পারে। তবে অর্থের প্রকৃত পরিমাণ, লেনদেনের ধরন এবং কোনো আর্থিক অনিয়ম বা ক্ষতি হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করতে ব্যাংকের মূল নথি, হিসাব বিবরণী ও ডিজিটাল রেকর্ড যাচাই করা প্রয়োজন।

গ্রাহকের অজান্তে মোবাইল নম্বর পরিবর্তনের অভিযোগ

অভিযোগকারীদের অন্যতম দাবি, তাদের ব্যাংক হিসাবের সঙ্গে যুক্ত মোবাইল নম্বর তাদের অজান্তে পরিবর্তন করা হয়েছে। ফলে হিসাব থেকে লেনদেন হলেও তারা সময়মতো এসএমএসের মাধ্যমে তা জানতে পারেননি।

গ্রাহকদের অভিযোগ, বছরের পর বছর বিষয়টি জানানো হলেও প্রতিবারই ‘সার্ভার সমস্যা’কে কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে কোনো একটি হিসাবের মোবাইল নম্বর কখন পরিবর্তন করা হয়েছে, কে পরিবর্তন করেছেন এবং কোন ব্যবহারকারী পরিচয় ব্যবহার করে পরিবর্তনটি করা হয়েছে—এসব তথ্য ব্যাংকের কেন্দ্রীয় ব্যাংকিং ব্যবস্থার ডিজিটাল রেকর্ড থেকে যাচাই করা সম্ভব কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

বিশেষ করে যেসব হিসাবের মোবাইল নম্বর পরিবর্তনের পর গ্রাহকরা এসএমএস পাওয়া বন্ধ করেছেন, সেসব পরিবর্তনের সময়, ব্যবহার করা ব্যবহারকারী পরিচয় এবং পরবর্তী লেনদেনের তথ্য পর্যালোচনা করলে অভিযোগের প্রকৃত চিত্র পাওয়া যেতে পারে বলে মনে করছেন অভিযোগকারীরা।

১০ সংখ্যার মোবাইল নম্বর নিয়েও প্রশ্ন

অভিযোগকারীদের কয়েকজন দাবি করেছেন, তাদের ব্যাংক হিসাবের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রচলিত ১১ সংখ্যার মোবাইল নম্বরের পরিবর্তে ১০ সংখ্যার নম্বরও পাওয়া গেছে।

কীভাবে এসব নম্বর হিসাবের সঙ্গে যুক্ত হলো এবং কে বা কারা তা যুক্ত করেছেন—তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন গ্রাহকরা। এ ধরনের নম্বর পরিবর্তনের ক্ষেত্রে গ্রাহকের কোনো লিখিত আবেদন, অনুমোদন বা স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছিল কি না, সেটিও যাচাইয়ের দাবি উঠেছে।

সন্দেহজনক সঞ্চয় রসিদে টাকা নেওয়ার অভিযোগ

শাখাটিকে ঘিরে সঞ্চয় রসিদ নিয়েও অভিযোগ উঠেছে। গ্রাহকদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, ব্যাংকের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কিছু ব্যক্তি ভুয়া বা সন্দেহজনক সঞ্চয় রসিদ ব্যবহার করে তাদের কাছ থেকে টাকা নিয়েছেন।

অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে সংশ্লিষ্ট রসিদের নম্বর, তারিখ, গ্রাহকের নাম ও টাকার পরিমাণ ব্যাংকের মূল রেজিস্টার, রসিদের সংরক্ষিত অংশ এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকিং ব্যবস্থায় থাকা জমার তথ্যের সঙ্গে মিলিয়ে দেখার প্রয়োজন রয়েছে।

গ্রাহকদের প্রশ্ন, তারা যে রসিদের বিপরীতে টাকা দিয়েছেন, সেই অর্থ সত্যিই ব্যাংকের হিসাবে জমা হয়েছে কি না। রসিদের তথ্য ও ব্যাংকের মূল রেকর্ডের মধ্যে কোনো অমিল পাওয়া গেলে বিষয়টি আরও তদন্তের দাবি রাখে।

চেক যাচাই ছাড়াই টাকা দেওয়ার অভিযোগ

শাখার নগদ বিভাগ নিয়েও অভিযোগ করেছেন গ্রাহকদের কেউ কেউ। তাদের ভাষ্য, কোনো কোনো ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট গ্রাহককে টাকা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হলেও নগদ কাউন্টারে যথাযথভাবে চেক গ্রহণ, স্বাক্ষর যাচাই এবং প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।

এসব অভিযোগ যাচাই করতে সংশ্লিষ্ট চেকের কপি বা ছবি, স্বাক্ষর, নগদ পরিশোধের রসিদ, টাকা প্রদানের কর্মীর নথি, নগদ হিসাবের রেজিস্টার, অনুমোদনকারী কর্মকর্তার ব্যবহারকারী পরিচয় এবং সংশ্লিষ্ট সময়ের সিসিটিভি ফুটেজ গুরুত্বপূর্ণ নথি হতে পারে।

অভিযোগে শরীফুজ্জামান সোহাগের নাম

গ্রাহকদের বক্তব্যে শাখাটির তৎকালীন নগদ ব্যবস্থাপক শরীফুজ্জামান সোহাগের নামও এসেছে। তবে শুধু অভিযোগের ভিত্তিতে তাকে কোনো অনিয়মের জন্য দায়ী বা অপরাধী হিসেবে চূড়ান্তভাবে চিহ্নিত করা যাচ্ছে না।

সংশ্লিষ্ট সময়ে তার দায়িত্ব, দায়িত্ব বণ্টনের নথি, ব্যবহারকারী পরিচয়ের তথ্য, নগদ রেকর্ড, অনুমোদনসংক্রান্ত নথি, লেনদেনের তথ্য এবং সিসিটিভি ফুটেজ যাচাই করেই তার প্রকৃত ভূমিকা নির্ধারণ করা প্রয়োজন।

অভিযোগকারীদের মতে, বিষয়টি শুধু একজন কর্মকর্তা বা কর্মচারীকে কেন্দ্র করে দেখার সুযোগ নেই। কারণ ব্যাংকের লেনদেন ব্যবস্থায় নগদ কর্মকর্তা, হিসাব কর্মকর্তা, অনুমোদনকারী কর্মকর্তা, শাখা ব্যবস্থাপক এবং অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষাসহ একাধিক স্তরের নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা রয়েছে।

সাত বছর ধরে অভিযোগ, ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল কি?

গ্রাহকদের দাবি, এসব বিষয়ে গত প্রায় সাত বছর ধরে বিভিন্ন সময়ে ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। বিশেষ করে হিসাব থেকে লেনদেনের পরও এসএমএস না পাওয়ার বিষয়টি তারা বারবার শাখা কর্তৃপক্ষের নজরে এনেছেন বলে দাবি করেছেন। তাদের অভিযোগ, সমস্যার স্থায়ী সমাধানের পরিবর্তে প্রতিবারই ‘সার্ভার সমস্যা’ বলে বিষয়টি ব্যাখ্যা করা হয়েছে।

এখন অভিযোগকারীদের প্রশ্ন, এসব অভিযোগ ব্যাংকের অভিযোগ নিবন্ধন খাতায় নথিভুক্ত করা হয়েছিল কি না, লিখিত অভিযোগ থাকলে সেগুলোর নিষ্পত্তি কীভাবে হয়েছে, কোনো তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়েছিল কি না এবং কোনো নিরীক্ষা দল বিষয়টি পরীক্ষা করেছিল কি না।

একই সঙ্গে তৎকালীন শাখা ব্যবস্থাপকরা বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছিলেন কি না এবং কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারীর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল কি না, সেটিও জানতে চান অভিযোগকারীরা।

শুধু একজন কর্মচারী, নাকি নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থারও প্রশ্ন?

অভিযোগকারীদের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে, প্রায় ৩০০টি হিসাব এবং দীর্ঘ সময়ের লেনদেনের ঘটনায় যদি অনিয়মের সত্যতা পাওয়া যায়, তাহলে এত দীর্ঘ সময় ধরে তা শুধু একজন কর্মচারীর পক্ষে পরিচালনা করা সম্ভব ছিল কি না। তবে এ বিষয়ে এখনই কোনো কর্মকর্তা বা কর্মকর্তাদের জড়িত থাকার সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়নি।

অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে কে মোবাইল নম্বর পরিবর্তন করেছেন, কোন ব্যবহারকারী পরিচয় ব্যবহার করা হয়েছে, লেনদেন কে করেছেন, চেক কে গ্রহণ করেছেন, টাকা দেওয়ার অনুমোদন কে দিয়েছেন, নগদ থেকে টাকা কে দিয়েছেন এবং অভিযোগ পাওয়ার পর ব্যবস্থা নেওয়ার দায়িত্বে কারা ছিলেন—এসব তথ্য পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।

সাত বছরের নিরীক্ষা ও পরিদর্শন প্রতিবেদন গুরুত্বপূর্ণ

শ্রীনগর শাখায় গত সাত বছরে হওয়া অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা, পরিদর্শন ও পর্যালোচনা প্রতিবেদনও অভিযোগ যাচাইয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

এসব প্রতিবেদনে গ্রাহকের মোবাইল নম্বর, নগদ অর্থ প্রদান, সঞ্চয় রসিদ বা হিসাব পরিচালনায় কোনো অসঙ্গতি উঠে এসেছিল কি না, উঠে থাকলে কর্তৃপক্ষ তা জানত কি না এবং জানার পর কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল—তা নথি পর্যালোচনার মাধ্যমে জানা যেতে পারে।

একই সঙ্গে গত সাত বছরে শাখাটিতে দায়িত্ব পালন করা ব্যবস্থাপক ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দায়িত্বকালও পর্যালোচনার আওতায় আনা প্রয়োজন বলে মনে করছেন অভিযোগকারীরা।

যেসব নথিতে মিলতে পারে অভিযোগের সত্যতা

অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাইয়ে গুরুত্বপূর্ণ নথিগুলোর মধ্যে রয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকিং ব্যবস্থার নিরীক্ষা তথ্য, সংশ্লিষ্ট হিসাবের গ্রাহক পরিচিতি ফরম, মোবাইল নম্বর পরিবর্তনের ইতিহাস, এসএমএস সতর্কতা সংক্রান্ত তথ্য, লেনদেনের ইতিহাস, চেকের ছবি বা ইলেকট্রনিক চেক নিষ্পত্তির রেকর্ড, নগদ অর্থ পরিশোধের রসিদ, টাকা প্রদানের কর্মীর নথি, নগদ হিসাবের রেজিস্টার, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ব্যবহারকারী পরিচয়ের তথ্য, সিসিটিভি ফুটেজ, সঞ্চয় রসিদের নিবন্ধন খাতা ও সংরক্ষিত অংশ, অভিযোগ নিবন্ধন খাতা এবং গত সাত বছরের নিরীক্ষা ও পরিদর্শন প্রতিবেদন।

এসব নথি পরস্পরের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হলে কোনো হিসাবের মোবাইল নম্বর কখন পরিবর্তন হয়েছে, কোন ব্যবহারকারী পরিচয় ব্যবহার করা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট সময়ে কী ধরনের লেনদেন হয়েছে, চেক কে গ্রহণ করেছেন, টাকা দেওয়ার অনুমোদন কে দিয়েছেন এবং নগদ থেকে অর্থ কে দিয়েছেন এসব বিষয়ে স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যেতে পারে।

ব্যাংক কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগকারীদের প্রশ্ন

প্রায় ৩০০ গ্রাহকের মোবাইল নম্বর পরিবর্তনের অভিযোগ ব্যাংক কর্তৃপক্ষের নজরে এসেছিল কি না, সাত বছর ধরে এসএমএস না পাওয়ার অভিযোগ থাকলে তা প্রতিবার ‘সার্ভার সমস্যা’ হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়েছিল কি না এবং এ বিষয়ে কোনো প্রযুক্তিগত প্রতিবেদন তৈরি হয়েছিল কি না—এসব প্রশ্ন সামনে এসেছে।

এ ছাড়া অস্বাভাবিক মোবাইল নম্বরগুলো কে, কখন এবং কোন ব্যবহারকারী পরিচয় দিয়ে পরিবর্তন করেছেন, সন্দেহজনক সঞ্চয় রসিদ নিয়ে কোনো তদন্ত হয়েছে কি না, অভিযোগে উল্লিখিত নগদ অর্থ প্রদানগুলো পুনরায় যাচাই করা হয়েছে কি না এবং গত সাত বছরে গ্রাহকদের কাছ থেকে কতটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে—এসব বিষয়েও ব্যাখ্যা চেয়েছেন অভিযোগকারীরা।

অভিযোগের ভিত্তিতে কোনো অভ্যন্তরীণ তদন্ত বা বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল কি না এবং অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাইয়ে ব্যাংক স্বাধীন ও পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করবে কি না, সেটিও জানতে চান তারা।

সংশ্লিষ্টদের বক্তব্যের সুযোগ

এই প্রতিবেদনে উত্থাপিত বিষয়গুলো গ্রাহকদের অভিযোগ ও অনুসন্ধানের ভিত্তিতে উপস্থাপন করা হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারীকে অপরাধী হিসেবে চূড়ান্তভাবে চিহ্নিত করা হচ্ছে না।

অভিযোগে নাম আসা শরীফুজ্জামান সোহাগসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এবং ব্যাংক কর্তৃপক্ষের বক্তব্য এ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তারা অভিযোগ অস্বীকার করলে, ব্যাখ্যা দিলে কিংবা সংশ্লিষ্ট কোনো নথি উপস্থাপন করলে তা যথাযথভাবে প্রকাশ করা হবে।

পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি

প্রায় ৩০০ গ্রাহকের হিসাব, প্রায় অর্ধশত কোটি টাকার কথিত লেনদেন, গ্রাহকের অজান্তে মোবাইল নম্বর পরিবর্তনের অভিযোগ, দীর্ঘদিন এসএমএস না পাওয়া, ‘সার্ভার সমস্যা’ বলে অভিযোগ এড়িয়ে যাওয়ার দাবি, সন্দেহজনক সঞ্চয় রসিদ এবং নগদ অর্থ প্রদানের প্রক্রিয়া নিয়ে ওঠা প্রশ্ন—সব মিলিয়ে অগ্রণী ব্যাংকের শ্রীনগর শাখাকে ঘিরে অভিযোগের পরিধি বিস্তৃত।

অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই হলে প্রকৃত ঘটনা, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা এবং ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ও তদারকি ব্যবস্থার চিত্র স্পষ্ট হতে পারে। অভিযোগ সত্য হলে কারা সরাসরি জড়িত ছিলেন, কীভাবে অনিয়ম সংঘটিত হয়েছে এবং দায়িত্বশীল পর্যায়ে কোনো গাফিলতি ছিল কি না, তা নির্ধারণের সুযোগ থাকবে। আবার অভিযোগের কোনো অংশ সত্য না হলে নথি ও তদন্তের মাধ্যমেই সেটিও স্পষ্ট করা সম্ভব।

গ্রাহকদের মূল প্রশ্ন, প্রায় সাত বছর ধরে যদি এসব অভিযোগ ব্যাংক কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছে থাকে, তাহলে সেগুলোর যথাযথ যাচাই ও নিষ্পত্তি কীভাবে হয়েছে। আর যদি বিষয়টি বারবার ‘সার্ভার সমস্যা’ হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকে, তাহলে সেই ব্যাখ্যার পক্ষে কোনো প্রযুক্তিগত রেকর্ড, তদন্ত প্রতিবেদন বা নথিভুক্ত সিদ্ধান্ত রয়েছে কি না—সেটিও এখন আলোচনায় এসেছে।

সিএসবি নিউজের অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে।

সিএসবি নিউজ-এর আরও খবর