মক্কার সুরক্ষায় যৌথ সামরিক শক্তি জোরদারে একজোট পাকিস্তান, সৌদি ও তুরস্ক

মক্কা নগরীর নিরাপত্তায় যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি কার্যকরের ঘোষণা দিয়ে সৌদি আরবের পাশে থাকার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে পাকিস্তান সরকার।

মক্কার সুরক্ষায় যৌথ সামরিক শক্তি জোরদারে একজোট পাকিস্তান, সৌদি ও তুরস্ক

মক্কার সুরক্ষায় যৌথ সামরিক শক্তি জোরদারে একজোট পাকিস্তান, সৌদি ও তুরস্ক


পবিত্র নগরী মক্কার আকাশসীমায় সম্ভাব্য হুমকি প্রতিহত করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে নতুন উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। সম্প্রতি মক্কার দক্ষিণ সীমানার আকাশে বিস্ফোরকবাহী একটি হুথি ড্রোন সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা বাহিনী সফলভাবে ধ্বংস করে। ড্রোনটি পবিত্র নগরীর নিষিদ্ধ আকাশসীমায় প্রবেশ করার আগেই আকাশেই সেটিকে ভূপাতিত করা হয়। এই ঘটনার তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী খাজা আসিফ স্পষ্ট জানিয়েছেন, পবিত্র মক্কা নগরী ও ইসলাম ধর্মের সবথেকে পবিত্র স্থানগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার সময় এসেছে এবং এর জন্য পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের মধ্যে স্বাক্ষরিত 'মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি' কার্যকর করার প্রক্রিয়া শুরু করা প্রয়োজন।


পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী একটি টেলিভিশন সাক্ষাৎকার চলাকালে এই অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান যে, মক্কা চুক্তি ইসলামাবাদের জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব এবং যে কোনো মূল্যে পাকিস্তান তার এই ধর্মীয় ও নৈতিক দায়িত্ব পালন করতে প্রস্তুত। তিনি আরও যোগ করেন, কোনো আনুষ্ঠানিক সামরিক চুক্তি থাকুক বা না থাকুক, পবিত্র স্থানগুলোর সুরক্ষা দেওয়া পাকিস্তানের নীতিগত এবং মৌলিক দায়িত্বের অংশ। পাকিস্তান সরকারের এই অবস্থানের সাথে পূর্ণ সহমত পোষণ করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ। তিনি সৌদি আরবের আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং যে কোনো আক্রমণের বিরুদ্ধে রিয়াদকে পূর্ণ সমর্থন দেওয়ার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের পক্ষ থেকে একজন মুখপাত্র নিশ্চিত করেছেন যে, পবিত্র মক্কা শহর এবং সেখানে আসা তীর্থযাত্রী ও হাজীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা একটি অখণ্ড নীতি বা লাল রেখা। এতে কোনো ধরনের আপস করা হবে না। তবে এই ঘটনা সম্পর্কে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করে বিবৃতি দিয়েছে হুথি সামরিক গোষ্ঠী। হুথি মুখপাত্ররা পবিত্র নগরীতে হামলার চেষ্টার অভিযোগ সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করেছেন। তাদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, তাদের সামরিক অভিযানসমূহ কেবল সৌদি আরবের সামরিক ঘাঁটি এবং কৌশলগত জ্বালানি অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে পরিচালিত হচ্ছে, কোনো ধর্মীয় বা পবিত্র স্থানকে লক্ষ্য করে নয়।


কেবল আকাশপথের হুমকিই নয়, ওই অঞ্চলে সামুদ্রিক বাণিজ্য পথের নিরাপত্তাহীনতা নিয়েও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী। তিনি উল্লেখ করেন যে, হরমুজ প্রণালী এবং বাব আল-মানদেবের মতো আন্তর্জাতিক গুরুত্বসম্পন্ন জলপথে অব্যাহত অস্থিরতার কারণে বৈশ্বিক বাণিজ্যে মারাত্মক বাধা সৃষ্টি হচ্ছে। এর সরাসরি ক্ষতিকর প্রভাব পড়ছে পাকিস্তানসহ আশেপাশের দেশগুলোর অর্থনীতির ওপর।


বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে উঠে আসা মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিটি মুসলিম বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি ত্রিপক্ষীয় নিরাপত্তা জোট। ২০২৬ সালের ৭ আগস্ট সৌদি আরব, পাকিস্তান এবং তুরস্কের মধ্যে এই ঐতিহাসিক নিরাপত্তা চুক্তিটি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত হয়েছিল। এর আগে ২০২৫ সালের শেষের দিকে রিয়াদ এবং ইসলামাবাদের মধ্যে একটি দ্বিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা সমঝোতা চুক্তি হয়। পরবর্তীতে তুরস্কের সংযোজনের মাধ্যমে এটি একটি পূর্ণাঙ্গ ত্রিপক্ষীয় সামরিক ও কৌশলগত জোটে রূপ নেয়। মুসলিম বিশ্বের এই তিন বৃহৎ সামরিক শক্তির একত্রীকরণ মূলতঃ মধ্যপ্রাচ্য এবং আশেপাশের অঞ্চলের নিরাপত্তা ভারসাম্য রক্ষায় বড় ভূমিকা পালন করছে। পাকিস্তান ও সৌদি আরবের পক্ষ থেকে ড্রোন হামলার তীব্র নিন্দা জানানো সত্ত্বেও কূটনৈতিক উপায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে, যাতে করে আঞ্চলিক উত্তেজনা বড় ধরনের যুদ্ধে রূপ না নেয়।


সিএসবি নিউজ-এর আরও খবর