নিউইয়র্কে বড় অপরাধ কমলেও বাড়ছে হেট ক্রাইম, বাংলাদেশি কমিউনিটিতে নতুন উদ্বেগ
নিউইয়র্ক সিটিতে বড় অপরাধ কমলেও হেট ক্রাইম বেড়েছে। ২০২৬ সালের প্রথম নয় মাসে হত্যাকাণ্ড ও গুলির ঘটনা রেকর্ড নিম্নে নেমেছে। একই সময়ে বাংলাদেশি কমিউনিটির জন্য নিরাপত্তা ও গণপরিবহন পরিস্থিতিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
নিউইয়র্কে বড় অপরাধ কমলেও বাড়ছে হেট ক্রাইম, বাংলাদেশি কমিউনিটিতে নতুন উদ্বেগ
নিউইয়র্ক সিটিতে ২০২৬ সালের প্রথম নয় মাসে বড় ধরনের অপরাধ উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের প্রকাশিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বড় অপরাধ গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৬ দশমিক ৬ শতাংশ কমেছে। একই সময়ে হত্যাকাণ্ড, গুলির ঘটনা এবং গুলিতে আহত মানুষের সংখ্যাও রেকর্ড নিম্নে নেমেছে।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নিউইয়র্কে ২০৩টি হত্যাকাণ্ড, ৪৮৯টি গুলির ঘটনা এবং ৫৯৪ জন গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। এগুলো কোনো বছরের প্রথম নয় মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে রয়েছে।
তবে সব ধরনের অপরাধের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি একই নয়। শহরে হেট ক্রাইম বা বিদ্বেষপ্রসূত অপরাধ বেড়েছে। নিউইয়র্ক পুলিশ জানিয়েছে, চলতি বছর এখন পর্যন্ত নিশ্চিত হেট ক্রাইম প্রায় ১৩ শতাংশ বেড়েছে। বিশেষ করে ধর্ম ও পরিচয়ভিত্তিক কিছু হামলা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে রয়েছে।
গণপরিবহনেও মিশ্র চিত্র দেখা যাচ্ছে। সাবওয়েতে বড় ধরনের অপরাধ সামগ্রিকভাবে ঐতিহাসিকভাবে নিম্ন পর্যায়ের কাছাকাছি থাকলেও বছরের শুরু থেকে ফেলনি অ্যাসল্ট বা গুরুতর হামলার ঘটনা বেড়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, জনপরিবহনে কর্মরত সরকারি কর্মীদের ওপর হামলাও এই বৃদ্ধির একটি কারণ।
অন্যদিকে নিউইয়র্কের খুচরা দোকানে চুরির ঘটনাও কমেছে। পুলিশের হিসাবে চলতি বছর খুচরা চুরি ১২ শতাংশের বেশি কমেছে এবং গত বছরের তুলনায় প্রায় ৫ হাজার কম ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে।
নিউইয়র্কের মেয়র জোহান মামদানি ও পুলিশ কমিশনার জেসিকা টিশ মঙ্গলবার অপরাধ পরিস্থিতি নিয়ে ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য তুলে ধরেন। কর্মকর্তারা বলেন, শহরের প্রায় সব প্রধান অপরাধের ক্ষেত্রে নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। তবে হেট ক্রাইম এবং জনপরিবহনে হামলার মতো বিষয়গুলোতে নজরদারি অব্যাহত থাকবে।
বাংলাদেশি-অধ্যুষিত জ্যাকসন হাইটস, জ্যামাইকা, কুইন্স ও আশপাশের এলাকার বাসিন্দাদের জন্যও এই তথ্য গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এসব এলাকায় বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি পরিবার বসবাস ও ব্যবসা করেন এবং প্রতিদিন সাবওয়ে, বাস ও অন্যান্য গণপরিবহন ব্যবহার করেন।
এদিকে বাংলাদেশি কমিউনিটির জন্য ইতিবাচক আরেকটি খবর হলো, জ্যামাইকা, কুইন্সে বাংলাদেশ সোসাইটি ইনকরপোরেটেড তাদের তৃতীয় বাংলা স্কুলের শাখা চালু করেছে। নতুন শাখাটি ৮৭-৪১, ১৬৫তম স্ট্রিটে চালু হয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রে বেড়ে ওঠা বাংলাদেশি শিশুদের বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির সঙ্গে যুক্ত রাখার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
অর্থাৎ নিউইয়র্কের বর্তমান লোকাল চিত্রে একদিকে বড় অপরাধের পরিমাণ কমছে, অন্যদিকে হেট ক্রাইম ও জননিরাপত্তার কিছু নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশি কমিউনিটির জন্য নিরাপত্তা, গণপরিবহন এবং নতুন প্রজন্মের বাংলা শিক্ষার বিষয়গুলো তাই বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।