পরিত্যক্ত স্কুলের জমিতে ৩৯১ আবাসন, কর্মীদের জন্য বড় উদ্যোগ লস অ্যাঞ্জেলেসে
পরিত্যক্ত কলিন্স স্ট্রিট স্কুলের জমিতে ৩৯১টি সাশ্রয়ী আবাসন নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে লস অ্যাঞ্জেলেস শিক্ষা কর্তৃপক্ষ।
পরিত্যক্ত স্কুলের জমিতে ৩৯১ আবাসন, কর্মীদের জন্য বড় উদ্যোগ লস অ্যাঞ্জেলেসে
লস অ্যাঞ্জেলেসের উডল্যান্ড হিলস এলাকায় দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত পড়ে থাকা একটি সাবেক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জায়গায় ৩৯১টি আবাসিক ইউনিট নির্মাণের পরিকল্পনা এগিয়ে নিয়েছে লস অ্যাঞ্জেলেস একীভূত স্কুল জেলা। উচ্চ আবাসন ব্যয়ের কারণে শিক্ষক, কর্মচারী ও অন্যান্য বিদ্যালয়কর্মীদের নিয়োগ এবং ধরে রাখার ক্ষেত্রে যে চাপ তৈরি হয়েছে, তা মোকাবিলায় এই প্রকল্পকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে প্রকল্পটি এখনো নির্মাণ পর্যায়ে যায়নি; জমি উন্নয়নের জন্য বেসরকারি অংশীদার নির্বাচন ও পরবর্তী চুক্তির প্রক্রিয়াই বর্তমানে মূল বিষয়। সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, সাবেক কলিন্স স্ট্রিট প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৬ দশমিক ৫৬ একর জমিতে এই আবাসন প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তথ্য যাচাই করে দেখা গেছে, ৩৯১টি আবাসনের বিষয়টি পুরোপুরি ভিত্তিহীন কোনো দাবি নয়। সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ৬ অক্টোবর স্কুল জেলা উডল্যান্ড হিলসের ওই জমির জন্য একটি উন্নয়নকারী দল নির্বাচন করেছে এবং প্রায় ৩৯১টি আবাসিক ইউনিট তৈরির পরিকল্পনা এগিয়ে নেওয়া হয়েছে। উন্নয়নকারী হিসেবে অ্যাফার্মড হাউজিং গ্রুপ ও এইচএ বিল্ডার্সের নাম উঠে এসেছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে এটি স্কুল জেলার কর্মীদের জন্য সাশ্রয়ী আবাসনের বড় সংযোজন হবে।
প্রকল্পটির অবস্থান ৫৭১৭ রাডনিক অ্যাভিনিউ এলাকায়। সরকারি পরিবেশগত নথিতে জায়গাটির আয়তন ৬ দশমিক ৫৬ একর হিসেবে উল্লেখ রয়েছে। এটি একসময় কলিন্স স্ট্রিট প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস ছিল। বিদ্যালয়টির পুরোনো ভবনগুলোর অবস্থা দীর্ঘদিন ধরেই সমস্যাজনক ছিল। সরকারি নথি অনুযায়ী, বিদ্যালয়টি কয়েক দশক আগে বন্ধ হয়ে যায় এবং পরে সেখানে বিভিন্ন ব্যবহার ও ইজারা কার্যক্রম চললেও জায়গাটি দীর্ঘ সময় স্থায়ীভাবে অব্যবহৃত ছিল।
পুরোনো বিদ্যালয় ভবনগুলোর বয়স এবং নিরাপত্তাজনিত সমস্যাও জমিটির ভবিষ্যৎ ব্যবহারে বড় ভূমিকা রেখেছে। সরকারি পরিবেশগত পর্যালোচনায় পুরোনো ভবনে অ্যাসবেস্টস ও সীসাযুক্ত রঙের মতো ক্ষতিকর উপাদানের ঝুঁকির কথা উল্লেখ করা হয়েছিল। ভবনগুলোকে ভূমিকম্প, নির্মাণ ও প্রতিবন্ধীবান্ধবতার আধুনিক মানদণ্ডে আনার প্রয়োজনও ছিল। শেষ পর্যন্ত বিদ্যালয়ের পুরোনো কাঠামো সরিয়ে জমিটিকে নতুন ব্যবহারের উপযোগী করার পথ নেওয়া হয়।
নতুন আবাসন প্রকল্পের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো এর লক্ষ্যভুক্ত বাসিন্দা। স্কুল জেলার কর্মীদের জন্য সাশ্রয়ী আবাসন তৈরিই এই উদ্যোগের প্রধান উদ্দেশ্য। পরিকল্পনায় বিভিন্ন আয়স্তরের পরিবারের জন্য আবাসনের ব্যবস্থা রাখার কথা বলা হয়েছে। সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে আয়সীমা স্থানীয় মধ্যম পরিবারের আয়ের প্রায় ৩০ শতাংশ থেকে ১২০ শতাংশ পর্যন্ত পরিবারের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ প্রকল্পটি শুধু সবচেয়ে কম আয়ের কর্মীদের জন্য নয়, বরং আবাসন ব্যয়ের চাপে থাকা বিভিন্ন শ্রেণির জেলা কর্মীদের জন্যও সুযোগ তৈরি করতে পারে।
স্কুল জেলার আবাসন উদ্যোগ অবশ্য নতুন নয়। কর্তৃপক্ষের নিজস্ব তথ্য অনুযায়ী, এর আগে গ্লাসেল পার্কে ৫০টি, সেজ পার্কে ৯০টি, সেলমা এলাকায় ৬৬টি এবং নরউড এলাকায় ২৯টি আবাসিক ইউনিটের প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে। এসব প্রকল্পের কিছুতে স্কুল জেলার পরিবার ও কর্মীদের জন্য অগ্রাধিকার রাখা হয়েছে। নতুন উডল্যান্ড হিলস প্রকল্পটি সেই ধারাবাহিকতাকেই আরও বড় পরিসরে এগিয়ে নিতে পারে।
স্কুল জেলা ২০২১ সাল থেকেই শিক্ষক ও কর্মীদের জন্য সাশ্রয়ী আবাসন তৈরির উদ্যোগকে গুরুত্ব দিয়ে আসছে। কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, উচ্চ আবাসন ব্যয় ও দীর্ঘ যাতায়াত দক্ষ শিক্ষক ও কর্মীদের নিয়োগ এবং ধরে রাখার ক্ষেত্রে বাধা তৈরি করে। জেলা মালিকানাধীন জমি ব্যবহার করে আবাসন তৈরি করা হলে জমি কেনার ব্যয় কমানোর পাশাপাশি কর্মীদের কর্মস্থলের কাছাকাছি থাকার সুযোগ তৈরি হতে পারে।
২০২৪ সালের কর্মী জরিপের তথ্যও এই উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তার পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ। প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জরিপে অংশ নেওয়া কর্মীদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ উচ্চ আবাসন ব্যয়ের কারণে চাকরি ছাড়ার কথা বিবেচনা করেছেন। কেউ কেউ আবাসন হারানোর আশঙ্কা এবং আবাসন-অনিরাপত্তার কথাও জানিয়েছেন। ফলে আবাসন প্রকল্পকে শুধু কল্যাণমূলক উদ্যোগ হিসেবে নয়, কর্মী ধরে রাখার কৌশল হিসেবেও দেখা হচ্ছে।
প্রকল্পের অর্থায়ন নিয়েও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে। জেলা সরাসরি নিজের অর্থে পুরো আবাসন নির্মাণ করবে এমন তথ্য পাওয়া যায়নি। বরং পরিকল্পনায় বেসরকারি উন্নয়নকারী, করছাড়ভিত্তিক আবাসন অর্থায়ন এবং সরকারি সহায়তার সমন্বয়ের কথা রয়েছে। জমির মালিকানা স্কুল জেলার কাছেই রাখার পরিকল্পনা থাকায় দীর্ঘমেয়াদে জমিটি সরকারি সম্পদ হিসেবেই থাকবে।
প্রকল্পে প্রায় ৫৫০টি গাড়ি রাখার ব্যবস্থা, সামষ্টিক ব্যবহারের জায়গা, শরীরচর্চার সুবিধা এবং হাঁটার পথ রাখার পরিকল্পনার কথাও সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে এসেছে। তবে এসব নকশা ও সুবিধা চূড়ান্ত নির্মাণ পরিকল্পনায় পরিবর্তিত হতে পারে। স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য যানবাহনের চাপ, জনঘনত্ব এবং আশপাশের অবকাঠামোর ওপর সম্ভাব্য প্রভাবও গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য বিষয় হয়ে থাকবে।
সময় নির্ধারণের ক্ষেত্রেও সতর্ক থাকা জরুরি। বর্তমানে ৩৯১টি আবাসন নির্মাণের পরিকল্পনা এগোলেও আগামীকাল থেকেই নির্মাণ শুরু হচ্ছে—এমন দাবি সঠিক নয়। সাম্প্রতিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, উন্নয়ন চুক্তি পরবর্তী সময়ে চূড়ান্ত অনুমোদনের প্রয়োজন হবে। এরপর নির্মাণ শুরুর সম্ভাব্য সময় ২০২৯ সালের দিকে এবং কাজ শেষ হওয়ার লক্ষ্য ২০৩১ সালের দিকে ধরা হয়েছে। অর্থাৎ এটি কয়েক বছরের একটি দীর্ঘমেয়াদি আবাসন প্রকল্প।
সাবেক কলিন্স স্ট্রিট প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দীর্ঘদিনের অব্যবহৃত জমিকে ৩৯১টি সাশ্রয়ী আবাসনে রূপান্তরের উদ্যোগ লস অ্যাঞ্জেলেসের কর্মী আবাসন সংকট মোকাবিলায় উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ। তবে তথ্য যাচাইয়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো এটি এখনো নির্মাণ শেষ হওয়া আবাসন নয়, বরং অনুমোদন ও উন্নয়ন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে এগিয়ে যাওয়া একটি পরিকল্পিত প্রকল্প। তাই “৩৯১টি আবাসন নির্মাণের পরিকল্পনা অনুমোদনের পথে বা এগিয়ে গেছে” এভাবে বলা যথাযথ; কিন্তু “৩৯১টি আবাসন ইতোমধ্যে নির্মাণ শুরু হয়েছে” বলা এখনই সঠিক হবে না।