বিএনপি নেতার গোয়ালে চুরি যাওয়া গরু উদ্ধার, কারণ দর্শানোর নোটিশ

চুরি হওয়া গরু বিএনপি নেতার গোয়ালে উদ্ধারের পর শোকজ, ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করে ব্যাখ্যা দিয়েছেন স্থানীয় নেতা।

বিএনপি নেতার গোয়ালে চুরি যাওয়া গরু উদ্ধার, কারণ দর্শানোর নোটিশ

বিএনপি নেতার গোয়ালে চুরি যাওয়া গরু উদ্ধার, কারণ দর্শানোর নোটিশ


লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলায় চুরি হয়ে যাওয়া একটি গরু স্থানীয় বিএনপির এক নেতার গোয়ালঘর থেকে উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় বিএনপির পক্ষ থেকে ওই নেতাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।


অভিযুক্ত নেতার নাম দেলোয়ার হোসেন। তিনি উপজেলার ভোলাকোট ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক। গত মঙ্গলবার বিকেলে ভোলাকোট ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড এলাকা থেকে পুলিশ গরুটি উদ্ধার করে।


পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার রাতে রামগঞ্জ উপজেলার ভাটরা ইউনিয়নের নলছারা জোয়ার বাড়ি এলাকার বাসিন্দা হতি বেগমের দুটি গরু চুরি হয়। পরদিন শুক্রবার তিনি অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে রামগঞ্জ থানায় মামলা করেন।

গরু দুটি চুরি হওয়ার পর পরিবারের সদস্য, স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা বিভিন্ন এলাকায় খোঁজ শুরু করেন। একপর্যায়ে স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি দেলোয়ার হোসেনের গোয়ালঘরে একটি গরু দেখতে পান। তাদের সন্দেহ হয়, গরুটিই হতি বেগমের চুরি যাওয়া গরু।


বিষয়টি এলাকায় ছড়িয়ে পড়ার পর দেলোয়ার হোসেনের বাড়ির সামনে স্থানীয় লোকজন জড়ো হন। খবর পেয়ে রামগঞ্জ থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে যায় এবং গোয়ালঘর থেকে গরুটি উদ্ধার করে।

পুলিশ জানিয়েছে, গরুটি কীভাবে দেলোয়ার হোসেনের গোয়ালে গেল এবং এর সঙ্গে কারা জড়িত, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এ বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দেলোয়ার হোসেনকে খোঁজা হচ্ছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। তবে ঘটনার সময় তাঁকে এলাকায় পাওয়া যায়নি।

তবে দেলোয়ার হোসেন অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। মুঠোফোনে তিনি বলেন, গভীর রাতে দুজন ব্যক্তি তাঁর গোয়ালঘরে গরুটি রেখে গেছেন। গরুটি চুরি করা হয়েছে—এ বিষয়ে তিনি কিছু জানতেন না বলেও দাবি করেন।

এদিকে ঘটনাটি নিয়ে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিয়েছে স্থানীয় বিএনপি। ভোলাকোট ইউনিয়ন বিএনপির পক্ষ থেকে দেলোয়ার হোসেনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। নোটিশের জবাব দেওয়ার জন্য তাঁকে তিন দিনের সময় দেওয়া হয়েছে।


ভোলাকোট ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আবদুর রহিম মজুমদার বলেন, ঘটনাটি দলের জন্য দুঃখজনক। সাংগঠনিক নিয়ম অনুযায়ী দেলোয়ার হোসেনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তাঁর জবাব পাওয়ার পর বিষয়টি পর্যালোচনা করে দলীয়ভাবে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পুলিশের তদন্তে গরুটি কীভাবে ওই নেতার গোয়ালঘরে পৌঁছেছে, সেটিই এখন মূল প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেলোয়ার হোসেনের দাবি অনুযায়ী, অন্য দুজন ব্যক্তি গরুটি সেখানে রেখে গেলে তাদের পরিচয় ও উদ্দেশ্যও তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত করতে হবে।

এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত দেলোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে গরু চুরির অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে—এমন কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। পুলিশ তদন্ত করছে এবং দলের পক্ষ থেকেও তাঁর কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। তদন্ত ও নোটিশের জবাবের পরই ঘটনার প্রকৃত চিত্র আরও পরিষ্কার হবে।

সিএসবি নিউজ-এর আরও খবর