মক্কা চুক্তিতে বাংলাদেশ: কৌশলগত লাভের আড়ালে উগ্রবাদ বিস্তারের ঝুঁকি কতটা?

বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের সম্পর্ক যখন পাঁচ দশকের টানাপোড়েন পেরিয়ে নতুন কৌশলগত পর্যায়ে প্রবেশের সম্ভাবনা তৈরি করেছে, ঠিক তখনই নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মধ্যে আরেকটি প্রশ্ন সামনে এসেছে—ইসলামাবাদের সঙ্গে গভীরতর রাজনৈতিক, সামরিক ও নিরাপত্তা সহযোগিতা বাংলাদেশের অভ্যন্তরে উগ্রবাদী নেটওয়ার্কের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারে কি না?

মক্কা চুক্তিতে বাংলাদেশ: কৌশলগত লাভের আড়ালে উগ্রবাদ বিস্তারের ঝুঁকি কতটা?

মক্কা চুক্তিতে বাংলাদেশ: কৌশলগত লাভের আড়ালে উগ্রবাদ বিস্তারের ঝুঁকি কতটা?


বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের সম্পর্ক যখন পাঁচ দশকের টানাপোড়েন পেরিয়ে নতুন কৌশলগত পর্যায়ে প্রবেশের সম্ভাবনা তৈরি করেছে, ঠিক তখনই নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মধ্যে আরেকটি প্রশ্ন সামনে এসেছে—ইসলামাবাদের সঙ্গে গভীরতর রাজনৈতিক, সামরিক ও নিরাপত্তা সহযোগিতা বাংলাদেশের অভ্যন্তরে উগ্রবাদী নেটওয়ার্কের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারে কি না?

প্রশ্নটি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে ২০২৬ সালের আগস্টে সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরের পর। চুক্তিতে পারস্পরিক প্রতিরক্ষার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে এবং পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এটিকে প্রতিরক্ষামূলক ও অন্য দেশের জন্য উন্মুক্ত কাঠামো হিসেবে বর্ণনা করেছেন। বাংলাদেশও চুক্তিতে যোগ দেওয়ার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

তবে এখানেই মূল প্রশ্ন—রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা এবং উগ্রবাদী কর্মকাণ্ডকে এক করে দেখা যাবে কি?

উত্তর হলো, সরাসরি নয়। কিন্তু অতীতের কিছু ঘটনা, পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গি সংগঠনের আঞ্চলিক বিস্তার এবং বাংলাদেশের নিজস্ব উগ্রবাদী নেটওয়ার্ক—এই তিনটি বিষয় একসঙ্গে বিবেচনা করলে সম্ভাব্য ঝুঁকিকে উপেক্ষা করার সুযোগও নেই।

অতীতের নজির কেন গুরুত্বপূর্ণ

বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের নিরাপত্তা সম্পর্ক নিয়ে সন্দেহের সবচেয়ে বড় ভিত্তি তৈরি হয়েছে অতীতের কয়েকটি ঘটনায়।

২০১৫ সালে বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষ পাকিস্তানি কূটনৈতিক কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জামায়াতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশ (JMB)-এর সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা ও অর্থায়নের অভিযোগ তুলেছিল। পাকিস্তান এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছিল এবং সংশ্লিষ্ট কূটনীতিকদের প্রত্যাহার করেছিল। অর্থাৎ অভিযোগগুলোকে আদালত-নির্ধারিত প্রমাণ হিসেবে নয়, বরং দুই দেশের সম্পর্কের ইতিহাসে একটি গুরুতর নিরাপত্তা-অভিযোগ হিসেবে দেখা উচিত।

এ ধরনের ঘটনা দেখায় যে কূটনৈতিক যোগাযোগের আড়ালে কোনো ব্যক্তি বা নেটওয়ার্ক নিরাপত্তা-ঝুঁকি তৈরি করতে পারে কি না—এটি বাংলাদেশের জন্য সম্পূর্ণ নতুন প্রশ্ন নয়।

পাকিস্তান নিজেই এখন বড় জঙ্গি-চ্যালেঞ্জের মুখে

এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বাস্তবতা হলো—পাকিস্তান নিজেও বর্তমানে সন্ত্রাসবাদের বড় চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি।

২০২৬ সালের Global Terrorism Index অনুযায়ী, ২০২৫ সালে বিশ্বের চারটি সবচেয়ে প্রাণঘাতী সন্ত্রাসী সংগঠনের একটি ছিল Tehrik-e-Taliban Pakistan (TTP) এবং এই সংগঠনটির কারণে প্রাণহানি আগের বছরের তুলনায় বেড়েছে।

অর্থাৎ পাকিস্তানের সঙ্গে নিরাপত্তা সহযোগিতা করলে বাংলাদেশকে শুধু পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা কাঠামোর সঙ্গে নয়, পাকিস্তানের অভ্যন্তরে সক্রিয় বিভিন্ন সশস্ত্র নেটওয়ার্ক ও তাদের আন্তঃদেশীয় যোগাযোগের বিষয়টিও বিবেচনা করতে হবে।

এখানে ঝুঁকিটি দ্বিমুখী

বাংলাদেশের উগ্রবাদীরা পাকিস্তানি নেটওয়ার্ক ব্যবহার করতে পারে।

আবার

পাকিস্তানভিত্তিক কোনো উগ্রবাদী নেটওয়ার্ক বাংলাদেশকে যোগাযোগ, অর্থায়ন, প্রশিক্ষণ বা প্রচারণার ক্ষেত্র হিসেবে ব্যবহার করার চেষ্টা করতে পারে।

তবে দ্বিতীয় দাবিটির ক্ষেত্রে বর্তমান সময়ের সরাসরি প্রমাণ প্রয়োজন; সম্ভাবনাকে প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করা যাবে না।

সবচেয়ে বড় ঝুঁকি: মানুষ ও যোগাযোগের চলাচল

নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হতে পারে people-to-people connectivity।

দুই দেশের মধ্যে বিমান যোগাযোগ, ব্যবসা, শিক্ষা, ধর্মীয় যোগাযোগ, পর্যটন ও সামরিক যোগাযোগ বাড়লে স্বাভাবিকভাবেই বৈধ যোগাযোগও বাড়বে।

কিন্তু একই সঙ্গে নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হতে পারে—

ভুয়া পরিচয়ে যাতায়াত;

অবৈধ অর্থ স্থানান্তর;

অনলাইন উগ্রবাদী নিয়োগ;

সীমান্তপারের যোগাযোগ;

প্রশিক্ষণ বা সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে যাতায়াত;

চরমপন্থী মতাদর্শের প্রচার;

অপরাধী ও জঙ্গি নেটওয়ার্কের পারস্পরিক যোগাযোগ।

অর্থাৎ সম্পর্ক বৃদ্ধি নিজে উগ্রবাদ সৃষ্টি করে না; কিন্তু দুর্বল নিরাপত্তা যাচাই থাকলে একই যোগাযোগ অবকাঠামো অপব্যবহারের সুযোগ তৈরি করতে পারে।

পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গি নেটওয়ার্কের আঞ্চলিক প্রভাব

পাকিস্তানভিত্তিক বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠনের দীর্ঘ আঞ্চলিক ইতিহাস রয়েছে। বিশেষ করে আফগানিস্তান ও ভারতের সঙ্গে সম্পর্কিত সংঘাতের কারণে পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সশস্ত্র নেটওয়ার্কের কেন্দ্রীয় ভূগোলের অংশ।

আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণে Lashkar-e-Taiba এবং Jaish-e-Mohammed-এর মতো পাকিস্তানভিত্তিক সংগঠনগুলোর আঞ্চলিক কার্যক্রম ও আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে সম্পর্ক বহু বছর ধরে আলোচিত হয়েছে।

বাংলাদেশের জন্য এর তাৎপর্য হলো—একটি রাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক বৃদ্ধি আর সেই রাষ্ট্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব অ-রাষ্ট্রীয় নেটওয়ার্কের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি—দুইটি এক জিনিস নয়।

তাই ঢাকা–ইসলামাবাদ সম্পর্ক বাড়লেও বাংলাদেশের নিরাপত্তা নীতির প্রথম শর্ত হওয়া উচিত রাষ্ট্রীয় সহযোগিতা ও সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ককে সম্পূর্ণ আলাদা রাখা।

বাংলাদেশে কি ইতোমধ্যেই পাকিস্তানমুখী উগ্রবাদী যোগাযোগের প্রমাণ আছে?

সাম্প্রতিক নিরাপত্তা বিশ্লেষণে এমন কিছু তথ্য সামনে এসেছে যে বাংলাদেশি উগ্রবাদীদের একটি অংশ পাকিস্তানের সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে গিয়ে সশস্ত্র কর্মকাণ্ডে যুক্ত হয়েছে। RSIS-এর ২০২৬ সালের Counter-Terrorism Trend and Analysis-এর একটি প্রতিবেদনে পাকিস্তানে বাংলাদেশি উগ্রবাদীদের সক্রিয়তার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

আরও কিছু বিশ্লেষণী প্রতিবেদনে TTP-র সঙ্গে বাংলাদেশি ব্যক্তিদের সম্ভাব্য যোগাযোগের কথাও বলা হয়েছে। তবে এসব দাবির প্রতিটি আলাদাভাবে যাচাই করা প্রয়োজন এবং এগুলোকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে পাকিস্তান রাষ্ট্রের সরাসরি হস্তক্ষেপের প্রমাণ হিসেবে দেখানো যাবে না।

এই পার্থক্যটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বাংলাদেশি নাগরিক কোনো পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গি সংগঠনে যোগ দিয়েছে—এটি এক ধরনের প্রমাণ।

পাকিস্তান সরকার বাংলাদেশে সেই জঙ্গি কার্যক্রম পরিচালনা করছে—এটি সম্পূর্ণ ভিন্ন এবং অনেক বেশি গুরুতর দাবি।

দ্বিতীয় দাবির জন্য অনেক শক্তিশালী প্রমাণ প্রয়োজন।

মক্কা চুক্তি কেন নতুন উদ্বেগ তৈরি করছে?

মক্কা চুক্তির মূল বৈশিষ্ট্য হলো সদস্যদের মধ্যে নিরাপত্তা সহযোগিতা ও পারস্পরিক প্রতিরক্ষার ধারণা।

বাংলাদেশ যদি ভবিষ্যতে এতে যোগ দেয়, তাহলে পাকিস্তানের সঙ্গে সামরিক ও গোয়েন্দা যোগাযোগ স্বাভাবিকভাবেই বাড়তে পারে। Reuters-এর বিশ্লেষণেও বলা হয়েছে, বাংলাদেশের সম্ভাব্য সদস্যপদ দীর্ঘদিনের অ-জোট/ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতির জন্য একটি পরীক্ষা হতে পারে।

এখানেই নিরাপত্তা প্রশ্নটি গুরুত্বপূর্ণ।

যত বেশি রাষ্ট্রীয় যোগাযোগ, তত বেশি নিরাপত্তা যাচাইয়ের প্রয়োজন।

বিশেষ করে—

১. সামরিক কর্মকর্তা ও প্রশিক্ষণ বিনিময়;

২. গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়;

৩. প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি;

৪. যৌথ সামরিক মহড়া;

৫. নিরাপত্তা সহযোগিতা;

৬. সীমান্ত ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা;

এসব ক্ষেত্রে তথ্যের প্রবাহ বাড়বে।

তাই বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হবে counter-intelligence safeguards।

সবচেয়ে বড় বিপদ কোথায়?

বাংলাদেশের জন্য সম্ভাব্য ঝুঁকি তিন স্তরে ভাগ করা যায়।

প্রথম স্তর: মতাদর্শগত প্রভাব

পাকিস্তান ও দক্ষিণ এশিয়ার কিছু উগ্রবাদী নেটওয়ার্ক যে ধরনের ধর্মীয়-রাজনৈতিক বয়ান ব্যবহার করে, তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে বাংলাদেশের তরুণদের কাছে পৌঁছাতে পারে।

বিশেষ করে যুদ্ধ, মুসলিম নিপীড়ন, আন্তর্জাতিক সংঘাত ও ধর্মীয় পরিচয়কে কেন্দ্র করে তৈরি প্রচারণা উগ্রবাদী নিয়োগে ব্যবহৃত হতে পারে।

দ্বিতীয় স্তর: অর্থ ও নেটওয়ার্ক

চ্যারিটি, ব্যবসা, এনজিও, ব্যক্তিগত লেনদেন বা অনলাইন ফান্ডিং ব্যবস্থার অপব্যবহার করে অর্থ স্থানান্তরের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

তবে এখানে আবারও বলা প্রয়োজন—কোনো পাকিস্তানি ব্যবসা বা ধর্মীয় সংগঠনকে প্রমাণ ছাড়া জঙ্গি নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত করা যাবে না।

তৃতীয় স্তর: প্রশিক্ষণ ও অপারেশনাল যোগাযোগ

এটি সবচেয়ে গুরুতর সম্ভাব্য ঝুঁকি।

যদি বাংলাদেশি কোনো উগ্রবাদী পাকিস্তান বা পাকিস্তান-সংলগ্ন সংঘাতপূর্ণ এলাকায় গিয়ে প্রশিক্ষণ নেয়, এরপর দেশে ফিরে আসে, তাহলে সে স্থানীয় নেটওয়ার্ককে নতুন দক্ষতা দিতে পারে।

এই ধরনের transnational militant mobility-ই নিরাপত্তা সংস্থার কাছে সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় হতে পারে।

কিন্তু আরেকটি বাস্তবতা ভুললে চলবে না

বাংলাদেশের উগ্রবাদের মূল কারণকে শুধু পাকিস্তানের ওপর চাপিয়ে দেওয়া বাস্তবসম্মত নয়।

বাংলাদেশের নিজস্ব সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও অনলাইন পরিবেশের মধ্যেই উগ্রবাদী সংগঠনগুলোর বিকাশের কারণ রয়েছে।

International Crisis Group-এর গবেষণায় বাংলাদেশে JMB ও Ansar al-Islam-এর মতো জিহাদি সংগঠন এবং তাদের নিজস্ব সাংগঠনিক ও মতাদর্শিক বিকাশের বিষয়টি বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

অর্থাৎ পাকিস্তান থাকুক বা না থাকুক, বাংলাদেশের নিজস্ব counter-extremism কাঠামো শক্তিশালী না হলে উগ্রবাদী ঝুঁকি থাকবে।

তাই আসল প্রশ্ন পাকিস্তান নয়—নিরাপত্তা কাঠামো কতটা শক্তিশালী?

বাংলাদেশ যদি পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক বাড়ায়, তাহলে কয়েকটি ব্যবস্থা বাধ্যতামূলক হওয়া উচিত।

প্রথমত, পাকিস্তান থেকে আসা সন্দেহজনক অর্থপ্রবাহের কঠোর নজরদারি।

দ্বিতীয়ত, উচ্চঝুঁকির ব্যক্তিদের travel ও immigration screening।

তৃতীয়ত, পাকিস্তান ও অন্যান্য দেশের সঙ্গে intelligence-sharing mechanism শক্তিশালী করা।

চতুর্থত, অনলাইন উগ্রবাদী প্রচারণা শনাক্ত করার সক্ষমতা বাড়ানো।

পঞ্চমত, কোনো বিদেশি নিরাপত্তা সংস্থার সঙ্গে সহযোগিতার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের নিজস্ব আইন ও সার্বভৌম নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করা।

ষষ্ঠত, রাজনৈতিক ইসলাম ও সশস্ত্র জিহাদকে একই বিষয় হিসেবে না দেখে উগ্রবাদী সহিংসতার ওপর নির্দিষ্ট নজর রাখা।

বর্তমান তথ্যের ভিত্তিতে “পাকিস্তান বাংলাদেশে উগ্রবাদ ছড়িয়ে দিচ্ছে”—এমন সরাসরি সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো পর্যাপ্ত প্রমাণ প্রকাশ্যে নেই।

কিন্তু “পাকিস্তানের সঙ্গে নিরাপত্তা ও যোগাযোগ বৃদ্ধি বাংলাদেশে সম্ভাব্য আন্তঃদেশীয় উগ্রবাদী নেটওয়ার্কের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারে”—এটি একটি যৌক্তিক নিরাপত্তা-ঝুঁকি হিসেবে বিবেচনা করা যায়।

কারণ একদিকে পাকিস্তান নিজেই TTP-সহ বড় জঙ্গি হুমকির মুখে; অন্যদিকে বাংলাদেশের কিছু উগ্রবাদী ব্যক্তির পাকিস্তানভিত্তিক সশস্ত্র নেটওয়ার্কের সঙ্গে যোগাযোগের সাম্প্রতিক তথ্যও সামনে এসেছে।

সুতরাং বাংলাদেশের সামনে মূল সিদ্ধান্তটি হওয়া উচিত

পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক থাকবে কি থাকবে না—শুধু সেটি নয়; বরং সম্পর্ক থাকলে তার সঙ্গে যুক্ত নিরাপত্তা ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণ করার মতো রাষ্ট্রীয় সক্ষমতা বাংলাদেশের আছে কি না।

সিএসবি নিউজ-এর আরও খবর