যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি স্কুলে প্রযুক্তির অতিরিক্ত ব্যবহার নিয়ে বাড়ছে বিতর্ক

যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি স্কুলে প্রযুক্তির অতিরিক্ত ব্যবহার নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ, শিক্ষার ফলাফলের চেয়ে পর্দানির্ভরতা বেশি হচ্ছে কি না উঠেছে প্রশ্ন।

যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি স্কুলে প্রযুক্তির অতিরিক্ত ব্যবহার নিয়ে বাড়ছে বিতর্ক

যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি স্কুলে প্রযুক্তির অতিরিক্ত ব্যবহার নিয়ে বাড়ছে বিতর্ক


যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি স্কুলগুলোতে প্রযুক্তি ব্যবহারের পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় এর সুফল ও ক্ষতি নিয়ে অভিভাবক, শিক্ষক ও শিক্ষা বিশেষজ্ঞদের মধ্যে বিতর্ক তীব্র হচ্ছে। সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অনেক স্কুলে প্রযুক্তি দ্রুত ছড়িয়ে পড়লেও শিক্ষার্থীদের শেখার ফলাফলে এর বাস্তব প্রভাব নিয়ে আরও বেশি প্রমাণ প্রয়োজন।

যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষা বিভাগ গত ২০ আগস্ট নতুন নির্দেশনায় স্কুলগুলোকে শুধু শিক্ষার্থীরা কতক্ষণ পর্দার সামনে থাকছে, সেটি না দেখে প্রযুক্তি ব্যবহারে শিক্ষার প্রকৃত উন্নতি হচ্ছে কি না তা মূল্যায়নের আহ্বান জানিয়েছে। প্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রে শিক্ষার উদ্দেশ্য, স্বাধীন গবেষণার প্রমাণ, শিক্ষকদের মতামত এবং শিক্ষার্থীদের ফলাফলকে গুরুত্ব দিতে বলা হয়েছে।

একই সময়ে অভিভাবকদের একটি অংশ স্কুলে অতিরিক্ত পর্দা ব্যবহারের বিরোধিতা করছেন। বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, মোবাইল ফোন ও বিভিন্ন অনলাইন শিক্ষামাধ্যম নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। তবে প্রযুক্তির সম্পূর্ণ বিরোধিতা করছেন না অনেক শিক্ষক। তাদের মতে, সঠিকভাবে ব্যবহার করলে প্রযুক্তি বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থী ও পিছিয়ে থাকা শিক্ষার্থীদের শেখার সুযোগ বাড়াতে পারে।

সাম্প্রতিক একটি জাতীয় জরিপে ১,৭০৯ জন সরকারি স্কুলের শিক্ষক ও শিক্ষা প্রশাসকের মতামত নেওয়া হয়। এতে ৯২ শতাংশ শিক্ষক শিক্ষামূলক প্রযুক্তি ও শুধু বিনোদনমূলক পর্দা ব্যবহারের মধ্যে পার্থক্য করেছেন। অর্থাৎ শিক্ষকদের বড় অংশ প্রযুক্তি পুরোপুরি বাদ দেওয়ার বদলে উদ্দেশ্যপূর্ণ ও কার্যকর ব্যবহারের পক্ষে। 

অন্যদিকে, সিলিকন ভ্যালিসহ বিভিন্ন এলাকায় কিছু অভিভাবক স্কুলে প্রযুক্তির ব্যবহার আরও সীমিত করার দাবি তুলেছেন। তাদের অভিযোগ, অতিরিক্ত পর্দা শিক্ষার্থীদের মনোযোগ, চিন্তাশক্তি ও সরাসরি শেখার অভ্যাসে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

ফলে যুক্তরাষ্ট্রে এখন মূল বিতর্ক প্রযুক্তি থাকবে কি থাকবে না—এটি নয়; বরং কোন প্রযুক্তি, কতক্ষণ এবং কী উদ্দেশ্যে ব্যবহার করলে শিক্ষার্থীদের শেখার ফলাফল সবচেয়ে ভালো হবে, সেটিই হয়ে উঠছে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।

সিএসবি নিউজ-এর আরও খবর