ভাই হারানোর পর নোরার পাশে দাঁড়াল ব্র্যাডির বন্ধুরা, ফিরল হাসি
ভাইকে হারানোর শূন্যতায় ভেঙে পড়া নোরার পাশে দাঁড়িয়ে হৃদয় ছুঁয়ে গেল ব্র্যাডির বন্ধুরা।
ভাই হারানোর পর নোরার পাশে দাঁড়াল ব্র্যাডির বন্ধুরা, ফিরল হাসি
যুক্তরাষ্ট্রের আরকানসাসে হৃদয়ছোঁয়া এক ঘটনায় মানুষের মন ছুঁয়ে গেছে। মাত্র আট মাস আগে সড়ক দুর্ঘটনায় ১৪ বছর বয়সী ছেলে ব্র্যাডি কার্টরাইটকে হারিয়েছিল একটি পরিবার। এবার স্কুলের প্রথম দিনে সেই শূন্যতা আরও গভীরভাবে অনুভব করল ব্র্যাডির ছোট বোন নোরা।
ব্র্যাডি ও নোরার মধ্যে বয়সের পার্থক্য ছিল ছয় বছর। বয়সের ব্যবধান থাকলেও ভাই-বোনের সম্পর্ক ছিল অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ। প্রতি বছর স্কুলের প্রথম দিনে দুজনের ছবি তোলা ছিল তাদের পরিবারের একটি বিশেষ ঐতিহ্য। ব্র্যাডি বড় হওয়ার পরও সেই ছবি তোলার ঐতিহ্যবাহী বন্ধ হয়নি; বরং নোরাও এতে যোগ দিয়েছিল। এমনকি দুজনের ব্যাগও একরকম ছিল।
কিন্তু ব্র্যাডির মৃত্যুর পর এবার প্রথম স্কুলে যাওয়ার সময় নোরার মনে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন ছিল—“এবার আমার সঙ্গে ছবিটা কে তুলবে?”
নোরার মা অ্যাশলি কার্টরাইট জানান, স্কুল শুরু হওয়ার প্রায় এক মাস আগে তিনি মেয়েকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, সে স্কুলে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত কি না। নোরা তখন জানায়, সে প্রস্তুত নয়। কারণ তার ভাই আর নেই—প্রথম দিনের সেই বিশেষ ছবিতে এবার সে কার সঙ্গে থাকবে, সেটিই তাকে কষ্ট দিচ্ছিল।
তবে নোরাকে একা থাকতে দেয়নি ব্র্যাডির বন্ধুরা।ব্র্যাডির সবচেয়ে কাছের বন্ধু গ্যাবে গনজালেস বিষয়টি জানতে পেরে তাদের বন্ধুদের গ্রুপে বার্তা পাঠান। তিনি জানতে চান, কে নোরার সঙ্গে প্রথম দিনের স্কুলের ছবি তুলতে রাজি। এরপর একে একে ব্র্যাডির বন্ধুরা এগিয়ে আসে।
স্কুলের প্রথম দিনে নোরা তার ভাইয়ের একটি ছবি সঙ্গে নিয়ে যায়। এরপর স্কুলে পৌঁছে সে দেখতে পায়—ব্র্যাডির একদল বন্ধু তাকে স্বাগত জানানোর জন্য সেখানে অপেক্ষা করছে।
ভাইকে হারানোর শূন্যতা কেউ পূরণ করতে না পারলেও, সেই মুহূর্তে নোরার পাশে দাঁড়িয়ে বন্ধুরা যেন তাকে বুঝিয়ে দেয়—ব্র্যাডি নেই, কিন্তু তার ভালোবাসার মানুষগুলো এখনো নোরার পাশে আছে।
নোরার মা অ্যাশলি বলেন, তাদের পুরো কমিউনিটি গত আট মাস ধরে পরিবারের পাশে রয়েছে। ব্র্যাডিকে হারানোর শূন্যতা কখনো পূরণ হবে না, তবে তার বন্ধুরা এখন তাদের পরিবারেরই অংশ হয়ে উঠেছে।
ব্র্যাডির বন্ধু গ্যাবে ও পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা ভবিষ্যতেও নোরার সঙ্গে স্কুলের প্রথম দিনের এই ছবির ঐতিহ্যটি চালিয়ে যেতে চান।
একটি ছবি হয়তো কয়েক সেকেন্ডের স্মৃতি—কিন্তু সেই ছবির পেছনে থাকা ভালোবাসা কখনো শেষ হয় না।