যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভর্তি নীতি নিয়ে ফেডারেল তদন্ত বাড়ছে
যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ভর্তি নীতি ও বৈচিত্র্য কর্মসূচি নিয়ে ফেডারেল তদন্ত ও নজরদারি বাড়ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভর্তি নীতি নিয়ে ফেডারেল তদন্ত বাড়ছে
যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি নীতি ও বৈচিত্র্য কর্মসূচি নিয়ে ফেডারেল সরকারের তদন্ত ও নজরদারি আরও জোরদার হয়েছে। বিশেষ করে জাতিগত পরিচয়কে ভর্তি সিদ্ধান্তে সরাসরি বা পরোক্ষভাবে বিবেচনা করা হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে মার্কিন বিচার বিভাগ।
সাম্প্রতিক তদন্তের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ডিউক বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন স্কুল। বিচার বিভাগ অভিযোগ করেছে, প্রতিষ্ঠানটি ভর্তি প্রক্রিয়ায় জাতিগত পরিচয় বিবেচনা করে কৃষ্ণাঙ্গ ও হিস্পানিক আবেদনকারীদের তুলনামূলকভাবে সুবিধা দিয়েছে। ডিউক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা বিচার বিভাগের চিঠি পর্যালোচনা করছে এবং আইনসম্মত ভর্তি প্রক্রিয়ার প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা স্কুল নিয়েও বিচার বিভাগ মে মাসে তদন্তের ফল প্রকাশ করে। বিভাগের দাবি, ২০২৩ থেকে ২০২৫ সালের ভর্তি প্রক্রিয়ায় জাতিগত পরিচয় বেআইনিভাবে ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া গেছে। ইয়েলকে আইন মেনে ভর্তি নীতি পরিবর্তনের জন্য সমঝোতার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
এর পাশাপাশি বিচার বিভাগ জুনে আরও ১৫টি মেডিকেল স্কুলের ভর্তি নীতি নিয়ে নতুন তদন্ত শুরু করে। তবে এসব প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়নি বলে বিভাগটি স্পষ্ট করেছে।
নজরদারির পরিধি শুধু ডিউক ও ইয়েলেই সীমাবদ্ধ নয়। ইউসিএলএ ও ইউসি ডেভিসের মেডিকেল স্কুলের ভর্তি প্রক্রিয়া নিয়েও বিচার বিভাগ ইতোমধ্যে বৈষম্যের অভিযোগে তদন্তের ফল প্রকাশ করেছে।
এই পদক্ষেপের পেছনে ২০২৩ সালের মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের রায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ওই রায়ের পর বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ভর্তি প্রক্রিয়ায় জাতিগত পরিচয় ব্যবহারের সীমা নিয়ে নতুন করে আইনি বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর পক্ষ থেকে অবশ্য বলা হচ্ছে, ভর্তি প্রক্রিয়ায় শিক্ষার্থীর সামগ্রিক যোগ্যতা ও মেধাসহ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনা করা হয়। ফলে ফেডারেল সরকারের তদন্ত একদিকে বৈষম্যবিরোধী আইন প্রয়োগের প্রশ্ন তুলছে, অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি-স্বাধীনতা ও বৈচিত্র্য নীতি নিয়েও বিতর্ক বাড়াচ্ছে।