যুক্তরাষ্ট্রে তরুণদের বাড়ির মালিকানা কমছে, আবাসন ব্যয়ের চাপ বাড়ছে
যুক্তরাষ্ট্রে তরুণদের বাড়ির মালিকানা কমছে, উচ্চ মূল্য ও আবাসন ব্যয়ে বাড়ছে আর্থিক চাপ।
যুক্তরাষ্ট্রে তরুণদের বাড়ির মালিকানা কমছে, আবাসন ব্যয়ের চাপ বাড়ছে
যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ির দাম ও ঋণের খরচ বেড়ে যাওয়ায় তরুণদের বাড়ির মালিক হওয়ার সুযোগ সংকুচিত হচ্ছে। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথ আবাসন গবেষণা কেন্দ্রের ২০২৬ সালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৩৫ বছরের কম বয়সী পরিবারের বাড়ির মালিকানার হার ২০২২ সালের ৩৯ শতাংশ থেকে ২০২৫ সালে কমে ৩৭ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।
গবেষণা অনুযায়ী, উচ্চ বাড়ির দাম, ঋণের সুদের হার এবং তরুণদের তুলনামূলক কম আয় সব মিলিয়ে নতুন প্রজন্মের জন্য বাড়ি কেনা কঠিন হয়ে উঠছে। একই সময়ে অনেক তরুণ নিজস্ব পরিবার বা আলাদা বাসা গঠনের সিদ্ধান্তও পিছিয়ে দিচ্ছেন।
২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ির মালিকানার জাতীয় হারও টানা দ্বিতীয় বছরের মতো কমেছে। ২০২৩ সালে ৬৫ দশমিক ৯ শতাংশে পৌঁছানোর পর তা ২০২৪ সালে ৬৫ দশমিক ৬ শতাংশ এবং ২০২৫ সালে ৬৫ দশমিক ২ শতাংশে নেমে আসে।
বাড়ি কেনার ব্যয়ের চাপের একটি বড় কারণ হলো বাড়ির মূল্য। ২০২০ সালের তুলনায় ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে বাড়ির দাম ৫৪ শতাংশ বেড়েছে। গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের শেষ দিকে মাঝারি দামের বাড়ির মাসিক ঋণ পরিশোধের পরিমাণ প্রায় ৩ হাজার ১০০ ডলারে পৌঁছেছিল, যা ২০২০ সালের শুরুতে ছিল প্রায় ১ হাজার ৭০০ ডলার।
শুধু বাড়ি কেনার খরচ নয়, বাড়ির মালিক হওয়ার পরও ব্যয় বাড়ছে। ২০১৯ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে সম্পত্তি কর ৩১ শতাংশ বেড়েছে এবং একই সময়ে গড় মাসিক বাড়ির বীমা ব্যয় ৭২ শতাংশ বেড়েছে। ফলে আগে থেকেই বাড়ির মালিক এমন পরিবারগুলোর ওপরও বাড়তি আর্থিক চাপ তৈরি হচ্ছে।
অন্যদিকে, ভাড়ার বাজারেও স্বস্তি পুরোপুরি ফেরেনি। ২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ২ কোটি ২৭ লাখ ভাড়াটিয়া পরিবার তাদের আয়ের ৩০ শতাংশের বেশি আবাসন ব্যয়ে ব্যয় করেছে। এর মধ্যে ১ কোটি ২১ লাখ পরিবার আয়ের অর্ধেকের বেশি আবাসনের পেছনে খরচ করেছে।
তরুণদের জন্য বাড়ির মালিকানার সুযোগ বাড়াতে সাশ্রয়ী মূল্যের বাড়ির সরবরাহ বৃদ্ধি, নির্মাণ ব্যয় কমানো এবং বাড়ি কেনার অর্থায়ন সহজ করার মতো উদ্যোগ প্রয়োজন।
কমিউনিটি নিউজের দৃষ্টিতে, যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি তরুণ ও নতুন অভিবাসী পরিবারের জন্য এই পরিস্থিতি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। বাড়ি কেনার আগে শুধু মাসিক ঋণের কিস্তি নয়, সম্পত্তি কর, বীমা, রক্ষণাবেক্ষণ ও অন্যান্য আবাসন ব্যয়ও হিসাব করা জরুরি।