মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর জিজান লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি করেছে। এর কয়েকদিন আগেই তারা লোহিত সাগরে দুটি সৌদি পতাকাবাহী জাহাজে হামলা চালায়।
এর জবাবে সৌদি আরব জানায়, তারা ইয়েমেনে হুথিদের সামরিক অবস্থান লক্ষ্য করে "দৃঢ়, কঠোর এবং আনুপাতিক সামরিক অভিযান" পরিচালনা করেছে। সৌদি কর্তৃপক্ষের দাবি, বেসামরিক স্থাপনা নয়, শুধুমাত্র হুথিদের সামরিক লক্ষ্যবস্তুতেই হামলা চালানো হয়েছে।
ট্রাম্পের সামনে সব ধরনের সামরিক বিকল্প খোলা
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে আরও বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালানোর বিষয়টি বিবেচনা করছেন বলে জানা গেছে। গত ১৩ দিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র ইরান-সমর্থিত সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে ধারাবাহিক হামলা চালিয়েছে।
যদিও দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস জানায় যে ট্রাম্প আপাতত বড় আকারের অভিযান স্থগিত রেখেছেন, হোয়াইট হাউস সেই খবরের বিরোধিতা করেছে।
হোয়াইট হাউসের যোগাযোগ পরিচালক স্টিভেন চিউং বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কূটনৈতিক সমাধানকে অগ্রাধিকার দিলেও, যদি ইরান হরমুজ প্রণালী বা যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে যায়, তাহলে সব ধরনের সামরিক বিকল্প এখনও বিবেচনায় রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা ইতোমধ্যেই ইরানের অর্থনীতিকে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে এবং সাম্প্রতিক ধারাবাহিক সামরিক হামলা ইরানের আগ্রাসনের জবাব হিসেবে পরিচালিত হয়েছে।
আলোচনার ইঙ্গিত
মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, ইরান নতুন করে আলোচনায় বসতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। তবে তেহরান আনুষ্ঠানিকভাবে এ বিষয়ে কিছু জানায়নি।
এদিকে টানা ১৩ দিনের হামলার পর শনিবার রাতে কোনো নতুন মার্কিন বিমান হামলার খবর পাওয়া যায়নি, যা পরিস্থিতি সাময়িকভাবে শান্ত হওয়ার ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
খবরে বলা হয়েছে, চীনের উৎসাহে পাকিস্তান যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে আলোচনা শুরু করার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে।
তেলের দাম কমেছে
সম্ভাব্য কূটনৈতিক উদ্যোগের খবরে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কিছুটা কমেছে।
বিশ্ববাজারের মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুড অয়েল শুক্রবার প্রতি ব্যারেল প্রায় ৯৬ মার্কিন ডলারে নেমে আসে। বিশ্লেষকদের মতে, আলোচনার সম্ভাবনা বাড়ায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরে এসেছে।
সামগ্রিক পরিস্থিতি
বিশ্লেষকদের মতে, হুথিদের ধারাবাহিক হামলা এবং ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্যে আরও বড় সংঘাতের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। বিশেষ করে লোহিত সাগর ও হরমুজ প্রণালী—বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ—নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
বর্তমানে কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা থাকলেও পরিস্থিতি অত্যন্ত স্পর্শকাতর এবং যেকোনো সময় নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হতে পারে।