নাটোর–১ আসনে বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর হামলা
নাটোর–১ আসনের লালপুর উপজেলায় নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগকে কেন্দ্র করে সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। ভোট কেনার অভিযোগে বাধা দিতে গিয়ে বিএনপির নেতাকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনায় অন্তত দুইজন আহত হয়েছেন এবং একাধিক মোটরসাইকেল ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে।
নাটোর–১ আসনে বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর হামলা
নাটোর-১ আসনের লালপুর উপজেলার আড়বাব ইউনিয়নে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করে ভোট কেনার অভিযোগকে কেন্দ্র করে বিএনপির নেতাকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত দুইজন আহত হয়েছেন এবং দুটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় সূত্র ও অভিযোগপত্র অনুযায়ী, আড়বাব ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের হিন্দুপাড়া গ্রামে বসবাসরত হিন্দু সম্প্রদায়ের একাধিক ব্যক্তি প্রকাশ্যে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী, বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ব্যারিস্টার ফারজানা শারমিন পুতুলকে ভোট দেওয়ার কথা জানান। অভিযোগ রয়েছে, এই সমর্থনকে টার্গেট করে স্বতন্ত্র প্রার্থী (কলস প্রতীক) তাইফুল ইসলাম টিপুর অনুসারীরা রাতের আঁধারে ওই গ্রামে গিয়ে অর্থের বিনিময়ে ভোট কেনার চেষ্টা করেন, যা সরাসরি নির্বাচনী আচরণবিধির পরিপন্থী।
বিষয়টি বড় বড়বাড়িয়া বাজার এলাকায় জানাজানি হলে বিএনপির ধানের শীষের প্রার্থী ব্যারিস্টার ফারজানা শারমিন পুতুলের প্রায় ১০ জন নেতাকর্মী পাঁচটি মোটরসাইকেলে করে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য হিন্দুপাড়া গ্রামে যান। অভিযোগ অনুযায়ী, গ্রামে প্রবেশের সঙ্গে সঙ্গেই রাতের আঁধারে কলস প্রতীকের অনুসারীরা রড, বাঁশ ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে অতর্কিত হামলা চালায়।
হামলার মুখে প্রাণের ভয়ে তিনটি মোটরসাইকেল দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করলেও বাকি দুটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়। এ সময় বিএনপির নেতাকর্মীরা পালিয়ে আসতে বাধ্য হন। অভিযোগ রয়েছে, হামলাকারীরা শফি মন্ডল নামের এক ব্যক্তিকে হত্যার হুমকি দিয়ে জোরপূর্বক ধরে নিয়ে যায়।
শফি মন্ডলের জবানবন্দিতে জানা যায়, তাকে ঝাড়-জঙ্গলের মধ্য দিয়ে জালাল মাস্টারের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখানে তার হাতে একটি দেশীয় অস্ত্র ধরিয়ে দিয়ে ডাকাতির মিথ্যা জবানবন্দি দিতে চাপ দেওয়া হয়। প্রায় এক ঘণ্টা তিনি নিখোঁজ ছিলেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে জালাল মাস্টারের বাড়ি থেকে তাকে উদ্ধার করে।
এ ঘটনায় আহত ফজলুর রহমান তার জবানবন্দিতে জানান, কিভাবে তার মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয় এবং কিভাবে তাকে রড দিয়ে মারধর করা হয়। তিনি হামলাকারীদের শনাক্ত করতে সক্ষম হয়েছেন এবং কার হাতে কী ধরনের অস্ত্র ছিল তাও উল্লেখ করেছেন বলে অভিযোগে বলা হয়েছে।
ঘটনার পর পুলিশ দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং ভাঙচুর হওয়া দুটি মোটরসাইকেল জব্দ করে থানায় নিয়ে যায়। আহত শফি মণ্ডল ও ফজলুর রহমানকে লালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
ঘটনার খবর পেয়ে বিএনপির ধানের শীষের মনোনীত প্রার্থী ব্যারিস্টার ফারজানা শারমিন পুতুল লালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে আহত শফি মণ্ডল ও ফজলুর রহমানকে দেখতে যান। এ সময় তিনি তাদের শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন এবং চিকিৎসার বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলেন।
পরবর্তীতে আহত ফজলুর রহমান বাদী হয়ে লালপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে ২৫ জনের নাম উল্লেখসহ আরও কয়েকজন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।
বিএনপি নেতাকর্মীদের দাবি, ঘটনার সময় ধানের শীষের কোনো নেতাকর্মী কারও ওপর হাত তোলেননি। তারা পরিস্থিতি শান্ত রাখতে প্রশাসনের সহযোগিতা নেন এবং পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে।
এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসন জানায়, অভিযোগটি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।