বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পারস্পরিক শুল্ক চুক্তি স্বাক্ষর, দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যে নতুন দিগন্ত
দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদারে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পারস্পরিক শুল্ক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। ওয়াশিংটন ডিসিতে স্বাক্ষরিত এই চুক্তির ফলে দুই দেশের বাজারে একে অপরের পণ্যের প্রবেশাধিকার আরও সহজ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পারস্পরিক শুল্ক চুক্তি স্বাক্ষর, দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যে নতুন দিগন্ত
বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পারস্পরিক শুল্ক চুক্তি (Agreement on Reciprocal Tariff) স্বাক্ষরিত হয়েছে। সোমবার ওয়াশিংটন ডিসিতে এই চুক্তি স্বাক্ষরের মাধ্যমে দুই দেশের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক নতুন এক উচ্চতায় পৌঁছাল বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
বাংলাদেশের পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশির উদ্দিন এবং জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে স্বাক্ষর করেন মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি (ইউএস ট্রেড রিপ্রেজেন্টেটিভ) রাষ্ট্রদূত জেমিসন গ্রিয়ার।
গত বছরের এপ্রিল থেকে শুরু হয়ে প্রায় নয় মাস ধরে এই চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলে। সোমবার বাংলাদেশ সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ চুক্তিটি অনুমোদন দেয়। উভয় দেশ আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন জারি করলে চুক্তিটি কার্যকর হবে।
চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রদূত জেমিসন গ্রিয়ার আলোচনার সার্বিক প্রক্রিয়ায় প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বের প্রশংসা করেন এবং বাংলাদেশের আলোচক দলের “অবিশ্বাস্য প্রচেষ্টা”র ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, এই চুক্তি যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য নীতির সঙ্গে বাংলাদেশের অবস্থানকে আরও সুসংহত করবে।
চুক্তি স্বাক্ষরের পর বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশির উদ্দিন বলেন, এটি বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিপাক্ষিক অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্কে একটি ঐতিহাসিক নতুন অধ্যায় সূচিত করলো।
তিনি বলেন, “এই চুক্তির মাধ্যমে দুই দেশের বাজারে একে অপরের জন্য উল্লেখযোগ্যভাবে প্রবেশাধিকার বৃদ্ধি পাবে।”
চুক্তি অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশি পণ্যের ওপর আরোপিত পারস্পরিক শুল্ক আরও কমিয়ে ১৯ শতাংশে নামিয়ে আনবে। এই শুল্ক প্রথমে ৩৭ শতাংশ নির্ধারিত ছিল, যা গত বছরের আগস্টে ২০ শতাংশে নামানো হয়।
এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র একটি বিশেষ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সম্মত হয়েছে, যার আওতায় যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদিত তুলা ও মানবসৃষ্ট ফাইবার ব্যবহার করে তৈরি বাংলাদেশের নির্দিষ্ট কিছু বস্ত্র ও পোশাক পণ্য যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে শূন্য পারস্পরিক শুল্কে প্রবেশের সুযোগ পাবে।
বাংলাদেশের প্রধান আলোচক জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান বলেন, শুল্ক হ্রাস বাংলাদেশের রপ্তানিকারকদের জন্য বড় ধরনের সুবিধা বয়ে আনবে।
তিনি বলেন, “পারস্পরিক শুল্ক হ্রাস আমাদের রপ্তানিকারকদের জন্য বাড়তি সুবিধা নিশ্চিত করবে। পাশাপাশি মার্কিন কাঁচামাল ব্যবহার করে উৎপাদিত নির্দিষ্ট পোশাক পণ্যে শূন্য শুল্ক সুবিধা তৈরি পোশাক খাতে উল্লেখযোগ্য গতি সঞ্চার করবে।”
চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান এবং যুক্তরাষ্ট্রের সহকারী বাণিজ্য প্রতিনিধি ব্রেন্ডান লিঞ্চ উপস্থিত ছিলেন।