ব্রাহ্মণবাড়িয়া–২ আসনে ভোটকৌশল, নীরব সমঝোতা ও ‘টার্গেট রুমিন ফারহানা

ব্রাহ্মণবাড়িয়া–২ আসনে পরিকল্পিতভাবে তৈরি করা হচ্ছে ভোটের অঙ্ক। অভিযোগ রয়েছে, রুমিন ফারহানাকে ঠেকাতে আওয়ামী ভোটারদের সক্রিয়ভাবে কাজে লাগানো হচ্ছে। বিদ্রোহী প্রার্থী, নীরব আঁতাত ও প্রশাসনিক চাপ—সব মিলিয়ে প্রশ্ন উঠছে নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিয়ে।

PostImage

ব্রাহ্মণবাড়িয়া–২ আসনে ভোটকৌশল, নীরব সমঝোতা ও ‘টার্গেট রুমিন ফারহানা


ব্রাহ্মণবাড়িয়া–২ আসনের নির্বাচনী রাজনীতিতে দিন দিন স্পষ্ট হয়ে উঠছে একাধিক জটিল সমীকরণ, যেখানে ভোটের অঙ্ক, দলীয় বিদ্রোহ, অদৃশ্য সমঝোতা এবং প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা—সবকিছু মিলিয়ে তৈরি হয়েছে একটি গভীর উদ্বেগজনক চিত্র। এই প্রেক্ষাপটে সবচেয়ে বেশি চাপে পড়েছেন বিএনপির প্রার্থী ও সাবেক সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা।

বিএনপি থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বহিষ্কৃত হলেও বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান কল্যাণ ফ্রন্টের মহাসচিব তরুণ দে ব্রাহ্মণবাড়িয়া–২ আসনে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে সক্রিয় রয়েছেন। রাজনৈতিকভাবে তার মূল ভরসা সরাইল উপজেলার প্রায় ৩ লাখ ভোটারের মধ্যে থাকা আনুমানিক ৮০ হাজার হিন্দু সংখ্যালঘু ভোট।

স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, তরুণ দের নির্বাচনী তৎপরতার পেছনে রয়েছেন সরাইল উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুবলীগ সাধারণ সম্পাদক ও সর্বশেষ নির্বাচিত উপজেলা চেয়ারম্যান শেরে আলম। অভিযোগ রয়েছে, শেরে আলমের স্থানীয় জনপ্রিয়তা ও সাংগঠনিক প্রভাবকে কাজে লাগিয়েই তরুণ দে সংসদে যাওয়ার স্বপ্ন দেখছেন।

যদিও তরুণ দের বিরুদ্ধে ৫ আগস্টের পর কমিটি বাণিজ্য, আর্থিক লেনদেন ও নানা বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে, তবুও স্থানীয় রাজনীতিতে তার সরাসরি সম্পৃক্ততা ও গ্রহণযোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ। এ কারণেই শেরে আলমের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতার বিষয়টি আলোচনার কেন্দ্রে।

তবে এসব অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছেন শেরে আলম। তার দাবি, তিনি ২০২৪ সালের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে একমাত্র ভূমিহীন চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিলেন এবং ক্ষমতায় থাকাকালীন দম্ভ, প্রভাব বা অর্থের অপব্যবহারে জড়াননি। সে কারণেই ৫ আগস্ট-পরবর্তী রাজনৈতিক সহিংসতা বা মামলার মুখোমুখি হতে হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি।  তবে স্থানীয়দের একটি বড় অংশ মনে করেন, ক্ষমতার পালাবদল অনুমান করে শেরে আলম নিজের রাজনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই সুবিধাবাদী কৌশল অবলম্বন করছেন।

সূত্রগুলোর দাবি, খেজুর গাছ প্রতীকে জমিয়তে উলামার প্রার্থী জুনায়েদ আল হাবিবের শক্ত অবস্থান ও সম্ভাব্য ফলাফলের কারণে বিএনপির উচ্চপর্যায়ের নির্দেশেই তরুণ দেকে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত মাঠে রাখা হয়েছে—যাতে ভোট বিভাজনের মাধ্যমে নির্দিষ্ট রাজনৈতিক লক্ষ্য অর্জন করা যায়।

এমনকি স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনায় রয়েছে, বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতা রুহুল কবির রিজভীর পক্ষ থেকে তরুণ দেকে প্রায় এক কোটি টাকা সহায়তা দেওয়া হয়েছে। যদিও এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক স্বীকারোক্তি নেই, তবুও এই আলোচনা নির্বাচনী পরিবেশের স্বচ্ছতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলছে।

এই জটিল রাজনৈতিক সমীকরণের সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী হিসেবে উঠে আসছেন ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। অভিযোগ রয়েছে—একদিকে প্রশাসনিক চাপ, অন্যদিকে প্রতিপক্ষদের নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন,

চরিত্রহনন ও বিভ্রান্তিমূলক প্রচারণা—

সব মিলিয়ে তার বিরুদ্ধে একটি পরিকল্পিত চাপের পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে।

অথচ এসব অভিযোগের বিপরীতে কার্যকর প্রশাসনিক পদক্ষেপের ঘাটতি স্পষ্টভাবে চোখে পড়ছে।

নাগরিক সমাজ ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের মতে, রুমিন ফারহানা কেবল একটি দলের প্রার্থী নন—তিনি সংবিধান, মানবাধিকার, গণতন্ত্র ও সংখ্যালঘু সুরক্ষার প্রশ্নে আপসহীন কণ্ঠস্বর। সংসদে তার পূর্ববর্তী ভূমিকা তাকে জাতীয় পর্যায়ের একজন প্রতিনিধিতে পরিণত করেছে।

সিএসবি নিউজ-এর আরও খবর