৪০১ কৃষিবিদ ও ৭৬৫ আইনজীবীর স্পষ্ট বার্তা: ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন ও গণভোট বর্জনের আহ্বান
প্রশ্নবিদ্ধ ও অগণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় আয়োজিত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন ও গণভোট বর্জনের আহ্বান জানিয়েছেন দেশের বিশিষ্ট পেশাজীবীরা। ৪০১ জন কৃষিবিদ ও ৭৬৫ জন আইনজীবীর যৌথ বিবৃতিতে উঠে এসেছে ভোটাধিকার, গণতন্ত্র ও সংবিধান রক্ষার দাবি।
৪০১ কৃষিবিদ ও ৭৬৫ আইনজীবীর স্পষ্ট বার্তা: ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন ও গণভোট বর্জনের আহ্বান
প্রশ্নবিদ্ধ ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন ও গণভোট বর্জনের আহ্বান
৪০১ জন কৃষিবিদ ও ৭৬৫ জন আইনজীবীর যৌথ বিবৃতি
ঢাকা, বিশেষ প্রতিনিধি —
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় নির্বাচন ও প্রস্তাবিত গণভোটকে প্রশ্নবিদ্ধ, অগণতান্ত্রিক ও অবাধ-নিরপেক্ষতার পরিপন্থী আখ্যা দিয়ে তা বর্জনের আহ্বান জানিয়েছেন দেশের বিশিষ্ট কৃষিবিদ ও আইনজীবীরা।
এক যৌথ বিবৃতিতে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা প্রতিষ্ঠান, সরকারি-বেসরকারি সংস্থা ও পেশাজীবী সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ৪০১ জন কৃষিবিদ এবং ৭৬৫ জন আইনজীবী বলেন, বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করার মতো পরিবেশ দেশে বিদ্যমান নেই।
“নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় জনগণের আস্থা নেই”
বিবৃতিতে বলা হয়,
“বর্তমান শাসনব্যবস্থায় নির্বাচন কমিশন কার্যত স্বাধীন নয়। প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিরপেক্ষ ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ। ফলে জনগণের ভোটাধিকার প্রয়োগের কোনো বাস্তব সুযোগ নেই।”
তারা অভিযোগ করেন, বিরোধী রাজনৈতিক শক্তির ওপর দমন-পীড়ন, গ্রেপ্তার, মামলা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা হরণ করে একটি একতরফা নির্বাচন আয়োজনের চেষ্টা চলছে।
কৃষিবিদদের বক্তব্য
কৃষিবিদরা বলেন,
“গণতন্ত্র ছাড়া টেকসই কৃষি, খাদ্য নিরাপত্তা ও গ্রামীণ উন্নয়ন সম্ভব নয়। ভোটাধিকার হরণ মানে কৃষক ও সাধারণ মানুষের ভবিষ্যৎ কেড়ে নেওয়া।”
তারা মনে করেন, রাষ্ট্র পরিচালনায় জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত না হলে কৃষি খাতসহ সামগ্রিক উন্নয়ন মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়বে।
আইনজীবীদের উদ্বেগ
আইনজীবীরা বিবৃতিতে বলেন,
“সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হওয়া বাধ্যতামূলক। কিন্তু বর্তমান বাস্তবতায় সেই শর্ত পূরণ হচ্ছে না।”
তারা আরও বলেন, আইনের শাসন ভেঙে পড়লে বিচারব্যবস্থা ও গণতন্ত্র—উভয়ই হুমকির মুখে পড়ে।
দাবি ও আহ্বান
কৃষিবিদ ও আইনজীবীরা যৌথভাবে দাবি জানান—
-
অবিলম্বে নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে
-
সকল রাজনৈতিক বন্দির মুক্তি দিতে হবে
-
নির্বাচন কমিশনকে স্বাধীন ও শক্তিশালী করতে হবে
-
জনগণের ভোটাধিকার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে
তারা দেশবাসীকে গণতন্ত্র, ভোটাধিকার ও সাংবিধানিক অধিকার রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান।