তরুণদের কর্মসংস্থান, পরিবেশ ও দক্ষতা—টাইমে তারেক রহমানের রোডম্যাপ
প্রতি বছর প্রায় ২০ লাখ তরুণ শ্রমবাজারে প্রবেশ করছে—কিন্তু সুযোগ তৈরি হচ্ছে না সেই গতিতে। এই বাস্তবতা মাথায় রেখেই টাইম ম্যাগাজিনের বিশেষ সাক্ষাৎকারে তারেক রহমান কথা বলেছেন দক্ষতা, কর্মসংস্থান, পরিবেশ ও দায়িত্বশীল নেতৃত্ব নিয়ে।
তরুণদের কর্মসংস্থান, পরিবেশ ও দক্ষতা—টাইমে তারেক রহমানের রোডম্যাপ
টাইম ম্যাগাজিনের দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে তারেক রহমান যে উন্নয়ন পরিকল্পনার কথা বলেছেন, তা কেবল রাজনৈতিক বক্তব্য বা নির্বাচনী স্লোগানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বরং এসব প্রস্তাব বাংলাদেশের বিদ্যমান সংকট, সম্পদ ও সক্ষমতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কিছু বাস্তবভিত্তিক ও প্রয়োগযোগ্য পদক্ষেপের রূপরেখা তুলে ধরে।
১. ১২ হাজার মাইল খাল খনন ও ভূগর্ভস্থ পানির স্তর পুনরুদ্ধার:
বাংলাদেশে পানির সংকট ও জলাবদ্ধতা একই সঙ্গে বিদ্যমান—এটি নীতিগত ব্যর্থতার ফল। খাল খনন প্রকল্পটি একদিকে যেমন কৃষি ও সেচ ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করবে, অন্যদিকে নগর ও গ্রামীণ জলাবদ্ধতা কমাবে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এটি ভূগর্ভস্থ পানির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমিয়ে দীর্ঘমেয়াদি পানির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারে। এটি পরিবেশবান্ধব এবং স্থানীয় পর্যায়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টিরও সুযোগ রাখে।
২. প্রতিবছর ৫ কোটি গাছ রোপণ: পরিবেশ ও অর্থনীতির যুগপৎ বিনিয়োগ:
গাছ লাগানোকে তিনি কেবল প্রতীকী কর্মসূচি হিসেবে দেখাননি। জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা বাংলাদেশের জন্য এটি একটি প্রতিরোধমূলক অর্থনৈতিক বিনিয়োগ।
সঠিক পরিকল্পনায় এই কর্মসূচি কার্বন নিঃসরণ কমানো, গ্রামীণ অর্থনীতি চাঙা করা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বাসযোগ্য পরিবেশ গড়ে তুলতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
৩. ঢাকায় ৫০টি নতুন সবুজ এলাকা: শহর ব্যবস্থাপনায় দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন:
ঢাকা বিশ্বের অন্যতম জনবহুল ও দূষিত শহর। এখানে ৫০টি নতুন সবুজ এলাকা তৈরির প্রস্তাব নগর পরিকল্পনায় একটি প্যারাডাইম শিফট নির্দেশ করে।
এটি জনস্বাস্থ্য উন্নয়ন, মানসিক চাপ হ্রাস এবং নগরবাসীর জীবনমান বৃদ্ধিতে সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে—যা স্বল্প ব্যয়ে দীর্ঘমেয়াদি সুফল দেবে।
৪. বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন: সমস্যা থেকেই সমাধান:
বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বাংলাদেশের একটি দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনার উদাহরণ। এটিকে শক্তিতে রূপান্তরের পরিকল্পনা একদিকে যেমন নগর দূষণ কমাবে, অন্যদিকে বিকল্প জ্বালানি উৎস তৈরি করবে।
এটি প্রযুক্তিনির্ভর হলেও বাস্তবায়নযোগ্য, এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের মাধ্যমে দ্রুত ফল পাওয়া সম্ভব।
৫. প্রবাসী শ্রমিকদের দক্ষতা উন্নয়ন: রেমিট্যান্সের গুণগত রূপান্তর।
প্রবাসী আয়ের ওপর নির্ভরশীল অর্থনীতিতে দক্ষতা উন্নয়ন একটি কৌশলগত সিদ্ধান্ত। কম দক্ষ শ্রমিক নয়, বরং প্রশিক্ষিত মানবসম্পদ পাঠানোর মাধ্যমে আয় বৃদ্ধি ও শ্রমিকদের মর্যাদা নিশ্চিত করা যায়।
এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে রেমিট্যান্স শুধু পরিমাণে নয়, মানেও বৃদ্ধি পাবে।
৬. স্বাস্থ্যখাতে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব: সক্ষমতা বাড়ানোর বাস্তব পথ:
স্বাস্থ্যখাতে এককভাবে রাষ্ট্রের পক্ষে মানসম্মত সেবা নিশ্চিত করা কঠিন। তারেক রহমানের প্রস্তাবিত সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব মডেল বিদ্যমান সম্পদকে কাজে লাগিয়ে দ্রুত সেবা সম্প্রসারণের সুযোগ সৃষ্টি করে।
এটি আদর্শবাদী নয়, বরং বাস্তব অভিজ্ঞতার আলোকে গড়া একটি কার্যকর মডেল।
তারেক রহমান আশা প্রকাশ করেন,“আমার পরিকল্পনার ৩০ শতাংশ বাস্তবায়ন করতে পারলেই মানুষ আমাকে সমর্থন করবে”—এই বক্তব্য উচ্চাশা নয়, বরং পরিমিত ও বাস্তববাদী রাজনীতির প্রতিফলন।
এটি বুঝিয়ে দেয়, তিনি সর্বস্ব প্রতিশ্রুতির রাজনীতিতে বিশ্বাসী নন; বরং সীমিত কিন্তু দৃশ্যমান অর্জনের মাধ্যমে আস্থা তৈরি করতে চান।
টাইম ম্যাগাজিনে উল্লিখিত তারেক রহমানের পরিকল্পনাগুলো একত্রে বিচার করলে স্পষ্ট হয়—এগুলো কল্পনাভিত্তিক নয়, বরং বাংলাদেশের বর্তমান বাস্তবতা থেকে উঠে আসা প্রয়োগযোগ্য কর্মপথ।
এই পরিকল্পনাগুলোর সাফল্য নির্ভর করবে বাস্তবায়নের রাজনৈতিক সদিচ্ছা, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা ও স্বচ্ছতার ওপর। তবে ধারণাগতভাবে এগুলো বাংলাদেশের জন্য কার্যকর ও সময়োপযোগী পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হওয়ার যথেষ্ট কারণ রয়েছে।