মানবিক সংকটে নীরব প্রশাসন—কার দায় এড়ানোর গল্প?
একজন কারাবন্দি স্বামী ও পিতা, যিনি শেষবারের মতো তার স্ত্রী ও সন্তানের মুখ দেখার সুযোগটুকুও পেলেন না। প্যারোলে মুক্তি না দিয়ে জেল গেটে মৃত স্বজনের মুখোমুখি করা—এই ঘটনা শুধু ব্যক্তিগত ট্র্যাজেডি নয়, এটি রাষ্ট্রীয় মানবিকতার এক ভয়াবহ ব্যর্থতার দলিল।
মানবিক সংকটে নীরব প্রশাসন—কার দায় এড়ানোর গল্প?
একটি রাষ্ট্রের আইনের শক্তি তার কঠোরতায় নয়, বরং তার মানবিকতায়। অথচ বাগেরহাট সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি কারাবন্দি সাদ্দামের ক্ষেত্রে রাষ্ট্র যেন সেই মানবিকতার পরীক্ষায় ব্যর্থ হয়েছে।
স্ত্রী ও সন্তানের আত্মহত্যার মতো ভয়াবহ ঘটনার পরও একজন বন্দিকে শেষবারের মতো প্রিয়জনের মুখ দেখার সুযোগ না দেওয়া কোন সভ্য রাষ্ট্রের নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে পারে না। জেল গেটে মৃত স্ত্রী ও সন্তানের সঙ্গে সাক্ষাতের নির্মম দৃশ্য শুধু একটি পরিবারের ট্র্যাজেডি নয়, এটি রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার নির্মমতার প্রতিচ্ছবি।
প্রশাসন বলছে, সাদ্দামের পরিবার প্যারোলে মুক্তির আবেদন করেনি। কিন্তু এই দাবি প্রশ্নবিদ্ধ। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম আল জাজিরার সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়েরের বক্তব্য এবং বিবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সাদ্দামের চাচাতো ভাই সাগর মিয়াজীর বক্তব্য প্রশাসনিক দাবির সঙ্গে সরাসরি সাংঘর্ষিক।
যদি সত্যিই আবেদন করা হয়ে থাকে এবং তা প্রত্যাখ্যান করা হয়ে থাকে, তবে প্রশাসনের বর্তমান বক্তব্য কি দায় এড়ানোর কৌশল নয়? আর যদি আবেদনই না করা হয়ে থাকে, তবে এমন চরম মানবিক সংকটে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সক্রিয় ভূমিকা না নেওয়াও কি দায়িত্বহীনতার শামিল নয়?
আইন অবশ্যই সবার জন্য সমান। কিন্তু আইন কি মানবিক বিবেচনার ঊর্ধ্বে? প্যারোল কোনো ক্ষমা নয়, এটি মানবিক কারণে সাময়িক মুক্তির একটি বিধান। সেই বিধান প্রয়োগে অনমনীয়তা দেখিয়ে রাষ্ট্র আসলে কাকে শাস্তি দিল—একজন বন্দিকে, নাকি মানবিক মূল্যবোধকেই?
এই ঘটনায় প্রশাসনের ভূমিকা কেবল ব্যাখ্যা দিয়ে শেষ করা যায় না। প্রয়োজন স্বচ্ছ তদন্ত, দায় নির্ধারণ এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণভাবে ভবিষ্যতে এমন অমানবিক দৃশ্য যেন আর কোনো পরিবারকে দেখতে না হয়, সেই নিশ্চয়তা।
রাষ্ট্র যদি মানুষের হয়, তবে তার আইনও মানবিক হতে হবে।