মঞ্চে কে উঠবেন কেউ জানে না—সতর্ক নেতাকর্মী, সক্রিয় সমাবেশ

বিএনপির সাম্প্রতিক সমাবেশগুলো আর আগের মতো নেই। হঠাৎ করে জনতার ভেতর থেকে সাধারণ মানুষকে মঞ্চে ডেকে নিয়ে সরাসরি কথা বলছেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এই অনিশ্চিত কিন্তু অংশগ্রহণমূলক কৌশল সমাবেশে যেমন এনেছে নতুন প্রাণ, তেমনি ভাড়াকরা লোকের ওপর নির্ভরশীল রাজনীতিকে ফেলেছে বড় চাপে। ফলে সতর্ক হচ্ছেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা, বাড়ছে রাজনৈতিক চর্চা, আর সমাবেশে ফিরছে মনোযোগ ও আগ্রহ—যাকে রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হিসেবেই দেখছেন অনেকেই।

PostImage

মঞ্চে কে উঠবেন কেউ জানে না—সতর্ক নেতাকর্মী, সক্রিয় সমাবেশ


তারেক রহমানের নতুন কৌশলে বিএনপির সমাবেশে বদল: ভাড়াকরা লোকের রাজনীতি সংকটে, সক্রিয় হচ্ছেন নেতাকর্মীরা

বিএনপির সাম্প্রতিক সমাবেশগুলোতে এক ভিন্নধর্মী দৃশ্য লক্ষ্য করা যাচ্ছে। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সমাবেশে উপস্থিত জনতার ভেতর থেকে হঠাৎ করেই সাধারণ মানুষকে মঞ্চে ডেকে নিয়ে সরাসরি কথা বলছেন। এই অনির্ধারিত ও তাৎক্ষণিক সংলাপের কৌশল বিএনপির রাজনীতিতে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

এই পদ্ধতির ফলে সবচেয়ে বেশি সতর্ক হয়ে পড়েছেন দলের স্থানীয় পর্যায়ের নেতাকর্মীরা—বিশেষ করে যারা আগে সমাবেশে লোকসংখ্যা বাড়াতে ভাড়াকরা মানুষের ওপর নির্ভর করতেন। কারণ এখন কেউই জানেন না, তারেক রহমান কখন, কাকে এবং কোন স্থান থেকে মঞ্চে ডেকে নেবেন। যদি ভাড়াকরা কেউ মঞ্চে উঠে পড়েন, তাহলে তার রাজনৈতিক অজ্ঞতা, বক্তব্যে অসংলগ্নতা বা নেতার প্রশ্নের জবাব দিতে না পারার বিষয়টি প্রকাশ্যে চলে আসতে পারে। এতে শুধু ব্যক্তিগত নয়, সংশ্লিষ্ট স্থানীয় নেতার ভাবমূর্তিও প্রশ্নের মুখে পড়ার আশঙ্কা থাকে।

এই বাস্তবতা থেকেই মাঠপর্যায়ে একটি দৃশ্যমান পরিবর্তন শুরু হয়েছে। স্থানীয় নেতারা এখন তাদের কর্মীদের সঙ্গে রাজনৈতিক আলোচনা, দলের ইতিহাস, আন্দোলনের প্রেক্ষাপট ও বর্তমান দাবিদাওয়ার বিষয়ে নিয়মিত চর্চার তাগিদ দিচ্ছেন। লক্ষ্য একটাই—সমাবেশে উপস্থিত প্রতিটি মানুষ যেন প্রয়োজনে দলের অবস্থান তুলে ধরতে সক্ষম হন।

সমাবেশগুলোতেও এসেছে নতুন প্রাণচাঞ্চল্য। আগে যেখানে দীর্ঘ বক্তৃতা ও পূর্বানুমেয় বক্তব্যে একঘেয়েমি তৈরি হতো, সেখানে এখন অনিশ্চয়তা ও প্রত্যাশা কাজ করছে। হাজার থেকে লক্ষাধিক মানুষের সমাগমের মধ্যেও সবাই মঞ্চের দিকে মনোযোগী থাকছেন—কারণ যে কেউই যে কোনো মুহূর্তে আলোচনার কেন্দ্রে চলে আসতে পারেন। এই ‘অংশগ্রহণমূলক রাজনীতি’ সমাবেশকে কেবল বক্তৃতার মঞ্চ নয়, বরং সরাসরি রাজনৈতিক সংলাপের ক্ষেত্র হিসেবে রূপ দিচ্ছে।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এটি বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের ইঙ্গিত। সমাবেশে লোকসংখ্যা দেখানোর কৃত্রিমতা কমে গিয়ে গুরুত্ব পাচ্ছে রাজনৈতিক সচেতনতা, স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ এবং নেতাকর্মীদের প্রস্তুতি। একই সঙ্গে দলীয় নেতৃত্ব ও সাধারণ কর্মীর মধ্যে দূরত্বও কমছে।

সব মিলিয়ে, তারেক রহমানের এই কৌশল বিএনপির সাংগঠনিক সংস্কৃতিতে চাপ সৃষ্টি করেছে ইতিবাচক পরিবর্তনের জন্য। ভাড়াকরা লোকের রাজনীতি থেকে বেরিয়ে এসে সচেতন, প্রস্তুত ও অংশগ্রহণমূলক কর্মীবাহিনী গড়ে তোলার পথে এটি এক বড় ধাপ বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।