মনোনয়নপত্র বৈধ বা অবৈধ ঘোষণায় ইসির পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ জামায়াতের

প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র বৈধ বা অবৈধ ঘোষণার ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) ভূমিকা নিয়ে গুরুতর অভিযোগ তুলেছে জামায়াতে ইসলামী। ঋণখেলাপি ও দ্বৈত নাগরিকত্বের মতো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে একই ধরনের ঘটনায় ভিন্ন সিদ্ধান্ত দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করে দলটি বলেছে, এতে ইসির নিরপেক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে এবং আসন্ন নির্বাচন নিয়ে জনমনে সংশয় তৈরি হতে পারে।

PostImage

মনোনয়নপত্র বৈধ বা অবৈধ ঘোষণায় ইসির পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ জামায়াতের


প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র বৈধ বা অবৈধ ঘোষণার ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশন (ইসি) পক্ষপাতিত্ব করছে বলে অভিযোগ করেছে জামায়াতে ইসলামী। ঋণখেলাপি ও দ্বৈত নাগরিকত্বের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে কেন্দ্র করে একই ধরনের ঘটনায় ভিন্ন সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে, যা ইসির নিরপেক্ষতার প্রশ্ন তুলেছে।

আজ রোববার রাত ৮টার দিকে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠক শেষে জামায়াতের নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের সংবাদ ব্রিফিংয়ে এ অভিযোগ করেন। ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, “মনোনয়নপত্রের বৈধতা বা অবৈধতার ক্ষেত্রে আরপিওর বিধান অনুযায়ী সিদ্ধান্ত না নেওয়া হলে নির্বাচন কমিশনের কার্যকারিতা প্রশ্নবিদ্ধ হবে। যদি কমিশন কোনো দলের প্রতি পক্ষপাতিত্ব করছে, তবে জনগণের মধ্যে সংশয় ও হতাশা দেখা দিতে পারে।”

এছাড়াও তিনি উল্লেখ করেন, ঋণখেলাপি ও দ্বৈত নাগরিকত্বের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে কিছু ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনে ভিন্নতা দেখা যাচ্ছে। “কোনো এক দলের পক্ষ থেকে ইসিতে চাপ প্রয়োগের প্রচেষ্টা আমরা শুনেছি। এতে যাদের মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়ার কথা, তারা বাঁচতে পারে। আমরা চাই কোনো ধরনের চাপে নতি স্বীকার না করে, যে দলেরই হোক, নিয়ম অনুযায়ী বৈধ ও অবৈধ বিষয়গুলো নির্ধারণ করা হোক।”

ব্রিফিংয়ে জামায়াতের প্রতিনিধি দলে ছিলেন আমির শফিকুর রহমান, নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের, সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এবং সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খান। প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনা উপদেষ্টা ওয়াহিদ উদ্দিন মাহমুদ, গৃহায়ন ও গণপূর্ত, শিল্প, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ এবং সড়ক ও রেলপথ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান।

তিনি আরও বলেন, “গত দুই-তিন সপ্তাহ ধরে কোনো একটি দলের প্রধানকে কেন্দ্র করে সরকার বাড়াবাড়ি করছে। তাকে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ও প্রটোকল দেওয়া হচ্ছে। এটি নির্বাচনী মাঠে সব দলের প্রতি সমান আচরণ লঙ্ঘন করছে। জামায়াতের আপত্তি নেই কাউকে নিরাপত্তা দেওয়া নিয়ে, তবে আমাদের প্রধানের সঙ্গেও সম আচরণ নিশ্চিত করতে হবে।”

জামায়াতের এই বক্তব্যে স্পষ্ট করা হয় যে, ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া নির্বাচনে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ পরিবেশ নিশ্চিত করতে ইসির সতর্ক এবং পক্ষপাতহীন সিদ্ধান্ত অপরিহার্য।