ইসি একপাক্ষিক আচরণ করছে, নির্বাচন ঝুঁকির মুখে: এনসিপি
নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা ও সাংবিধানিক দায়িত্ব নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। দ্বৈত নাগরিকত্ব ও ঋণখেলাপি প্রার্থীদের বিষয়ে কমিশনের ভূমিকা নিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। দলটির দাবি, বিদেশি নাগরিক বা ঋণখেলাপিদের নির্বাচনে সুযোগ দেওয়া হলে তা সরাসরি গণতন্ত্রকে হুমকির মুখে ফেলবে এবং আসন্ন নির্বাচনকে একটি বিপজ্জনক পথে ঠেলে দেবে।
ইসি একপাক্ষিক আচরণ করছে, নির্বাচন ঝুঁকির মুখে: এনসিপি
নির্বাচন কমিশন (ইসি) একপাক্ষিক আচরণ করছে—এমন অভিযোগ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। তিনি বলেন, ইসি একটি বিশেষ গোষ্ঠীর প্রতি নমনীয়তা দেখাচ্ছে এবং এর ফলে দেশের গণতান্ত্রিক নির্বাচন ব্যবস্থা মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়ছে।
শনিবার (১৭ জানুয়ারি) রাতে রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব অভিযোগ উত্থাপন করেন।
সংবাদ সম্মেলনে আসিফ মাহমুদ বলেন,
“আগামীকাল (রবিবার) নির্বাচন কমিশনের জন্য ‘রেড লাইন’। আপিল শুনানির শেষ দিনে যদি কমিশন কোনো ঋণখেলাপি বা দ্বৈত নাগরিকত্বধারী ব্যক্তিকে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ দেয়, তবে আমরা রাজপথে নামবো এবং একইসঙ্গে আইনি লড়াই শুরু করবো।”
তিনি আরও বলেন,
“আমরা ইসিকে আগের তিনটি নির্বাচনের মতো দায়সারা ও সমঝোতার নির্বাচন করতে দেবো না।”
আসিফ মাহমুদ অভিযোগ করেন, অনেক ব্যক্তি দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকা সত্ত্বেও নির্বাচন কমিশনে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছেন, যা গণতন্ত্রের জন্য ‘অশনি সংকেত’। তিনি স্পষ্ট করে বলেন,
“কোনো বিদেশি নাগরিককে বাংলাদেশের নির্বাচনে অংশ নিতে দেওয়া হবে না।”
এ সময় তিনি বিএনপির ভূমিকারও কঠোর সমালোচনা করেন। তার ভাষায়,
“বিএনপি নিজেকে গণতন্ত্রের ধারক হিসেবে উপস্থাপন করলেও বাস্তবে তারা গণতন্ত্রের বিরুদ্ধেই কাজ করছে।”
সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব জহিরুল ইসলাম মুসা বলেন,
“বিএনপির অনেক প্রার্থী ঋণখেলাপি হওয়া সত্ত্বেও রিটার্নিং কর্মকর্তারা পক্ষপাতদুষ্টভাবে তাদের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করেছেন।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, দ্বৈত নাগরিকত্বের প্রশ্নে নির্বাচন কমিশন সংবিধানের নিজস্ব ব্যাখ্যা দেওয়ার চেষ্টা করছে, যা অত্যন্ত বিপজ্জনক।
“কমিশনের কাজ আইন অনুসরণ করা, ব্যাখ্যা দেওয়া নয়,”—বলেন তিনি।
এনসিপি নেতারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, নির্বাচন কমিশন যদি একটি স্বাধীন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে নিজের মর্যাদা রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়, তবে রাজনৈতিক ও আইনি উভয় পথেই তাদের মোকাবিলা করা হবে। কোনোভাবেই আইনের ফাঁকফোকর ব্যবহার করে ঋণখেলাপি ও দ্বৈত নাগরিকদের নির্বাচনে অংশ নিতে দেওয়া হবে না বলে দলটি সাফ জানিয়ে দেয়।