বিজয়ের মাসে সাহিত্যপ্রেমী আব্দুল্লাহ উজ্জ্বল পেলেন ‘নক্ষত্র সাহিত্য পুরস্কার–২০২৫’

রাজপথের সংগ্রাম আর সাহিত্যচর্চা—দুই ধারাকেই সমান গুরুত্ব দিয়ে এগিয়ে চলেছেন এন. এম. আব্দুল্লাহ উজ্জ্বল। বিজয়ের মাসে সেই বহুমাত্রিক অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি পেলেন ‘নক্ষত্র সাহিত্য পুরস্কার–২০২৫’।

PostImage

বিজয়ের মাসে সাহিত্যপ্রেমী আব্দুল্লাহ উজ্জ্বল পেলেন ‘নক্ষত্র সাহিত্য পুরস্কার–২০২৫’


বিজয়ের মাসে যখন দেশজুড়ে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, দেশপ্রেম ও সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ নতুন করে আলোচিত—ঠিক তখনই সাহিত্য, সংস্কৃতি ও সমাজসেবায় ধারাবাহিক অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ‘নক্ষত্র সাহিত্য পুরস্কার–২০২৫’ লাভ করলেন কেন্দ্রীয় যুবদলের নেতা ও সাহিত্যপ্রেমী ভিপি এন. এম. আব্দুল্লাহ উজ্জ্বল। বিজয় দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে তার হাতে এই সম্মাননা তুলে দেওয়া হয়, যা সাহিত্যাঙ্গন ও রাজনৈতিক মহলে ইতোমধ্যেই আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে ‘দেশপ্রেমে আমাদের ভূমিকা’ শীর্ষক আলোচনা সভা, ‘নক্ষত্র সাহিত্য পুরস্কার–২০২৫’ প্রদান ও কবিতা আবৃত্তি অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয় ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫, রোববার বিকেল ৫টায়, ঢাকার বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র মিলনায়তনে। দেশপ্রেম, মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি ও সাহিত্যচর্চার সমন্বয়ে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে দেশের বরেণ্য লেখক, কবি, সংস্কৃতিকর্মী ও বিশিষ্টজনদের উপস্থিতিতে মিলনায়তন ছিল পরিপূর্ণ।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কবি রানা হোসেন। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রণালয়ের সাবেক তথ্য সচিব ও মৃত্তিকা একাডেমির প্রধান উপদেষ্টা সৈয়দ মার্গুব মোর্শেদ। মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণ করেন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সাবেক উপ-সচিব ও প্রখ্যাত সংগীতশিল্পী ফেরদৌস পারভীন।

প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন মিডিয়া ব্যক্তিত্ব ও জি-নাইন সম্পাদক ডা. সাখাওয়াত হোসেন সায়ন্থ।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অ্যাডভোকেট মো. মোজাহার আলী, অ্যাডভোকেট লতিফুর রহমান, সার্বভৌমত্ব আন্দোলনের প্রধান সংগঠক শামীম রেজা, দৈনিক একাত্তর আলো–এর সম্পাদক মো. আসাদুজ্জামান আসাদ, গীতিকবি শান্তনা মিঠুসহ দেশের বরেণ্য সংস্কৃতি ব্যক্তিবর্গ।

সাহিত্যচর্চা থেকেই যাত্রা

শৈশব থেকেই শিক্ষা, সংস্কৃতি, কবিতা, লেখালেখি ও সাহিত্যের প্রতি গভীর অনুরাগ ছিল এন. এম. আব্দুল্লাহ উজ্জ্বলের। মুক্তচিন্তা ও মানবিক মূল্যবোধের চর্চা তার দীর্ঘদিনের অভ্যাস। সাহিত্যকে তিনি কখনোই রাজনীতির বাইরে ভাবেননি; বরং মানুষ ও সমাজকে বোঝার প্রধান মাধ্যম হিসেবেই দেখেছেন।

দীর্ঘ বছর ধরে তিনি পাক্ষিক সাহিত্যপত্রিকা “অন্যরকম অন্য ভুবন”–এর সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি হিসেবে সাহিত্যাঙ্গনে সক্রিয় ভূমিকা রেখে চলেছেন। এই পত্রিকার মাধ্যমে নবীন ও প্রবীণ লেখকদের জন্য তিনি একটি মুক্ত ও প্রগতিশীল প্ল্যাটফর্ম তৈরি করেছেন।

রাজপথ, আন্দোলন ও সমাজসেবা

সাহিত্যচর্চার পাশাপাশি এন. এম. আব্দুল্লাহ উজ্জ্বল রাজপথের আন্দোলন-সংগ্রামেও ছিলেন সবসময় সক্রিয়। তিনি কেন্দ্রীয় যুবদলের সাবেক সহ-সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দীর্ঘদিন রাজনৈতিক আন্দোলনে যুক্ত ছিলেন এবং ২৪ জুলাইয়ের আন্দোলনে তার অগ্রণী ভূমিকা রাজনৈতিক অঙ্গনে বিশেষভাবে আলোচিত।

সমাজসেবায় অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি ইতোমধ্যে ‘মৃত্তিকা পদক’ ও ‘বাসপ পুরস্কার’ লাভ করেছেন। সংগঠক, সাহিত্যপ্রেমী ও সমাজকর্মী—এই তিন পরিচয়ের সমন্বয়েই তাকে মূল্যায়ন করেছে ‘নক্ষত্র সাহিত্য পুরস্কার’ প্রদান কমিটি।

আয়োজকদের মতে, বিজয়ের মাসে দেশপ্রেম, সাহিত্য ও মানবিক মূল্যবোধে ধারাবাহিক অবদান রাখার জন্যই এন. এম. আব্দুল্লাহ উজ্জ্বল এই সম্মাননার জন্য নির্বাচিত হয়েছেন।

বিজয় দিবসের চেতনায় আয়োজিত এই অনুষ্ঠান শুধু একটি পুরস্কার প্রদান নয়—বরং সাহিত্য ও রাজনীতির সুস্থ সমন্বয়ের একটি শক্ত বার্তা হিসেবেই উপস্থিতদের মনে প্রভাব ফেলেছে।