তারেক রহমানের নিরাপত্তা: ব্যক্তিগত ইস্যু নয়, জাতীয় স্থিতিশীলতার প্রশ্ন

তারেক রহমান বর্তমান বাংলাদেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক। দেশ যখন অস্থিরতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, ঠিক তখনই সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ঝুঁকি নিয়ে তিনি দেশে ফিরেছেন—এটি নিঃসন্দেহে একটি বড় রাজনৈতিক দায়িত্ববোধের প্রকাশ। কিন্তু বাস্তবতা হলো, বিমানবন্দরে অবতরণের পর থেকে শুরু করে বিভিন্ন কর্মসূচি ও চলাচলের পথে তার নিরাপত্তা ব্যবস্থা বারবার প্রশ্নের মুখে পড়ছে। বিশেষ করে গাড়ি থেকে নেমে পায়ে হাঁটার সময় এবং জনসমাগমের মধ্যে চলাচলের ক্ষেত্রে যে ঝুঁকি দৃশ্যমান হয়েছে, তা কোনোভাবেই উপেক্ষা করার মতো নয়। নিরাপত্তা কোনো আনুষ্ঠানিকতা নয়—এটি জীবন-মৃত্যুর প্রশ্ন। আর এই প্রশ্ন আজ কেবল একজন ব্যক্তিকে ঘিরে নয়, এটি দেশের সামগ্রিক স্থিতিশীলতার সঙ্গেও জড়িত।

PostImage

তারেক রহমানের নিরাপত্তা: ব্যক্তিগত ইস্যু নয়, জাতীয় স্থিতিশীলতার প্রশ্ন


বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় তারেক রহমান কেবল একটি রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতা নন—তিনি বহু মানুষের চোখে দেশের স্থিতিশীলতার প্রতীক। দীর্ঘদিনের অস্থিরতা, সংঘাত ও অনিশ্চয়তার প্রেক্ষাপটে তিনি সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ঝুঁকি নিয়ে দেশে ফিরে এসেছেন—যা নিঃসন্দেহে একটি সাহসী ও তাৎপর্যপূর্ণ রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত।

কিন্তু বিমানবন্দরে অবতরণের পর থেকে শুরু করে সর্বশেষ সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধ পর্যন্ত তার চলাচলের প্রতিটি ধাপে যে নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিলক্ষিত হয়েছে, তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠছে। বিভিন্ন স্থানে দেখা গেছে—গাড়ি থেকে নামা, সমাবেশস্থল বা বাসস্থানে যাওয়া-আসার সময় নিরাপত্তা বলয় যথেষ্ট দুর্বল ও অপ্রতুল ছিল। নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের পরিস্থিতি যে কোনো সময় দেশের জন্য অপূরণীয় ক্ষতির কারণ হতে পারে।

 পায়ে হাঁটা মুভমেন্ট: সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অধ্যায়

উচ্চ ঝুঁকিতে থাকা কোনো জাতীয় রাজনৈতিক নেতার ক্ষেত্রে সবচেয়ে সংবেদনশীল মুহূর্ত হলো—পায়ে হাঁটা মুভমেন্ট। বর্তমান বাস্তবতায় দেখা গেছে, তারেক রহমানের হাঁটার সময় অনিয়ন্ত্রিত নেতাকর্মী ও সাধারণ জনতার ঢল কার্যত নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে অকার্যকর করে দিয়েছে।

পেশাদার নিরাপত্তা বিশ্লেষণে এটিকে সবচেয়ে বড় “রেড ফ্ল্যাগ” হিসেবে বিবেচনা করা হয়। কারণ, ভিড় যত অনিয়ন্ত্রিত হয়, সম্ভাব্য ঝুঁকি তত গুণে গুণে বাড়ে। বিশেষ করে যখন রাজনৈতিক অস্থিরতা বিরাজমান থাকে এবং বিভিন্ন মহল থেকে চরমপন্থী তৎপরতার গুঞ্জন শোনা যায়।

⚠️ রাজনৈতিক সহিংসতার বাস্তবতা অস্বীকার করা যায় না

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে সহিংসতার নজির নতুন নয়। সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জড়িত চরমপন্থী বা আত্মঘাতী গ্রুপের গুঞ্জন নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের উদ্বিগ্ন করেছে। এসব তথ্য হয়তো সবক্ষেত্রে প্রকাশ্য নয়, কিন্তু নিরাপত্তা পরিকল্পনায় এগুলো অগ্রাহ্য করার সুযোগ নেই।

এ কারণে হাই-ভ্যালু ইন্ডিভিজুয়ালদের নিরাপত্তায় আন্তর্জাতিকভাবে একটি বিষয় পরিষ্কার—“Worst-case scenario” মাথায় রেখেই প্রস্তুতি নিতে হয়, সম্ভাবনা কম হলেও।

 নিরাপত্তা কোনো আনুষ্ঠানিকতা নয়:

নিরাপত্তা মানে শুধু সংখ্যায় বেশি লোক থাকা বা দৃশ্যমান উপস্থিতি নয়। নিরাপত্তা হলো—

ঝুঁকি মূল্যায়ন

চলাচলের সময় নিয়ন্ত্রণ

জনসমাগম ব্যবস্থাপনা

এবং সম্ভাব্য দুর্বলতা আগেভাগে চিহ্নিত করা

যখন একজন জাতীয় রাজনৈতিক নেতার নিরাপত্তা বারবার প্রশ্নের মুখে পড়ে, তখন সেটি আর ব্যক্তিগত ইস্যু থাকে না—তা জাতীয় উদ্বেগে পরিণত হয়।

নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো—সম্পূর্ণ পেশাদার ও স্বাধীন নিরাপত্তা মূল্যায়ন। এমন একটি টিম প্রয়োজন, যারা আবেগ বা রাজনৈতিক আনুগত্য নয়, বরং পেশাদার মানদণ্ডে ঝুঁকি বিশ্লেষণ করবে। যেমনটা করে স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স (SSF)।  

কারণ ইতিহাস বলে—বড় ক্ষতির আগে প্রায় সব সময়ই সতর্ক সংকেত দেখা যায়। প্রশ্ন হলো, আমরা কি সেগুলোকে গুরুত্ব দিচ্ছি?

তারেক রহমানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা মানে কেবল একজন ব্যক্তিকে রক্ষা করা নয়—এটি দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎ এবং সামগ্রিক নিরাপত্তার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত।

আজ যদি এই বিষয়ে অবহেলা করা হয়, তবে তার দায় কেউ এড়াতে পারবে না।

নিরাপত্তা নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় এখনই—কাল দেরি হয়ে যেতে পারে।