চায়ের কাপে আর চা নয়, মানুষের মগজে ভরে যাচ্ছে
রাজধানীর ব্যস্ততম এলাকায় চায়ের দোকানে বসে থাকা এক সাধারণ যুবকের মাথার খুলি উড়ে গেল ফ্লাইওভার থেকে নিক্ষিপ্ত ককটেলের আঘাতে। এই ঘটনা শুধু ব্যক্তিগত শোক নয়, এটি দেশের আইনশৃঙ্খলা এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার চরম ব্যর্থতার প্রতিচ্ছবি।
চায়ের কাপে আর চা নয়, মানুষের মগজে ভরে যাচ্ছে
রাজধানী ঢাকার স্কাটন এলাকায় ফ্লাইওভারের ওপর থেকে নিক্ষিপ্ত ককটেলের আঘাতে ফুটপাতের একটি চায়ের দোকানে চা খেতে আসা এক অতি সাধারণ তরুণের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, বিস্ফোরণে তার মাথার খুলি উড়ে যায়। কোনো যুদ্ধ নেই, কোনো দাঙ্গা ঘোষণা হয়নি—তবু দিনের আলোয় এভাবে একজন নিরীহ নাগরিকের প্রাণ ঝরে গেল।
এই হৃদয়বিদারক ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ আর শোকের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। এনসিপি নেত্রী তানহা শান্তা তার ফেসবুক প্রোফাইলে দেওয়া এক আবেগঘন স্ট্যাটাসে ঘটনাটিকে শুধু একটি ককটেল বিস্ফোরণ নয়, বরং “রাষ্ট্রীয় ব্যর্থতার নগ্ন দলিল” হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, দেশে যুদ্ধ না থাকলেও মানুষের মাথার মগজ উড়ে যাচ্ছে, মানুষ পুড়িয়ে মারা হচ্ছে, দিনে দুপুরে মাথায় গুলি করে হত্যা করা হচ্ছে—যা একটি সভ্য রাষ্ট্রের চিত্র হতে পারে না।
তার ভাষায়, এই রাষ্ট্র নাগরিককে ন্যূনতম নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়েছে; বরং নাগরিকদের এমনভাবে扱 করা হচ্ছে যেন এই দেশে জন্ম নেওয়াই অপরাধ। “চায়ের কাপে আর চা নয়, মানুষের মগজে ভরে যাচ্ছে”—এই বাক্যটি যেন আজকের নগরবাসীর আতঙ্ক, অসহায়ত্ব আর রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ব্যবস্থার ভয়াবহ বাস্তবতাকে নগ্নভাবে তুলে ধরে।
নিহত তরুণটি কোনো রাজনৈতিক কর্মী ছিলেন না, কোনো মিছিলেও অংশ নেননি। তিনি ছিলেন চায়ের দোকানে দাঁড়িয়ে থাকা একজন সাধারণ মানুষ—যার একমাত্র ‘অপরাধ’ ছিল ভুল সময়ে ভুল জায়গায় থাকা। এই ঘটনা আবারও প্রশ্ন তুলে দিয়েছে: রাজধানীর মতো একটি উচ্চ নিরাপত্তা এলাকায় ফ্লাইওভারের ওপর থেকে ককটেল নিক্ষেপ কীভাবে সম্ভব? কোথায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি?
তানহা শান্তা নিহত যুবকের উদ্দেশে লেখেন, “ভাই, তুমি পরোপারে শান্তিতে থেকো। এই দেশে বাঁচার অভিশাপ থেকে মুক্তি পেয়েছো।” একই সঙ্গে তিনি শোকসন্তপ্ত পরিবারের জন্য ধৈর্য কামনা করেন।
এই হত্যাকাণ্ড কেবল একটি পরিবারের ব্যক্তিগত শোক নয়, এটি পুরো সমাজের জন্য এক অশনিসংকেত। যখন চায়ের দোকানও নিরাপদ থাকে না, তখন রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তোলাই নাগরিকের দায়িত্ব হয়ে দাঁড়ায়। এখন দেখার বিষয়, এই মর্মান্তিক ঘটনার পর দায়ীদের শনাক্ত ও বিচারের ক্ষেত্রে রাষ্ট্র কতটা কার্যকর ভূমিকা নেয়—নাকি আরেকটি প্রাণ ঝরে যাওয়ার পরও সবকিছু আগের মতোই থেকে যাবে।