পরিকল্পিত সহিংসতায় অস্থিরতা: নির্বাচন অযোগ্য প্রমাণে দেশে একের পর এক হামলা
বাংলাদেশে মাত্র ১২ ঘণ্টার ব্যবধানে সংঘটিত একাধিক নৃশংস ঘটনা প্রকাশ করেছে একটি সুপরিকল্পিত চক্রের উপস্থিতি, যার উদ্দেশ্য দেশের নির্বাচন-যোগ্যতা সন্দেহজনক করে তোলা। ময়মনসিংহে একজন সংখ্যালঘু শ্রমিককে হত্যা, রাজধানীর শীর্ষ গণমাধ্যম ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানে হামলা ও অগ্নিসংযোগ—সব মিলিয়ে স্পষ্ট যে, এই সহিংসতার লক্ষ্য কেবল ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান নয়; লক্ষ্য বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক কাঠামো, গণমাধ্যম এবং সাংস্কৃতিক স্বাধীনতাকেই ধ্বংস করা। এই ঘটনাগুলো প্রমাণ করছে, দেশের কিছু অংশে মৌলবাদী উগ্রপন্থার চরম উত্থান ঘটেছে, যেখানে আইন-শৃঙ্খলা এবং ব্যক্তির নিরাপত্তা প্রায় বিলীন। তবে সাধারণ মানুষ এই পরিকল্পিত সহিংসতার উদ্দেশ্য বুঝতে পেরেছে, যা সেই গোষ্ঠীর প্রয়াসকে আপাতত ব্যর্থ করেছে।
পরিকল্পিত সহিংসতায় অস্থিরতা: নির্বাচন অযোগ্য প্রমাণে দেশে একের পর এক হামলা
বাংলাদেশে সাম্প্রতিক সহিংস ঘটনাগুলো আর বিচ্ছিন্ন বা আকস্মিক বলে মনে করার সুযোগ নেই। মাত্র ১২ ঘণ্টার ব্যবধানে সংঘটিত একাধিক নৃশংস ও লক্ষ্যভিত্তিক হামলা স্পষ্ট করে দিয়েছে—একটি সংঘবদ্ধ চক্র পরিকল্পিতভাবে দেশকে অস্থিতিশীল করে তুলে প্রমাণ করতে চাইছে যে বাংলাদেশ এই মুহূর্তে জাতীয় নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত নয়।
ময়মনসিংহের ভালুকায় নবী অবমাননার মিথ্যা অভিযোগ তুলে এক হিন্দু পোশাক শ্রমিক দিপু চন্দ্র দাসকে দলবদ্ধভাবে পিটিয়ে হত্যা এবং পরে গাছে ঝুলিয়ে আগুন দেওয়ার ঘটনা তারই ভয়াবহ উদাহরণ। র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, ধর্ম অবমাননার কোনো প্রত্যক্ষ প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবুও একটি গুজবকে কেন্দ্র করে সংঘবদ্ধ সহিংসতায় একজন সংখ্যালঘু নাগরিককে প্রকাশ্যে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়।
এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই রাজধানীতে দেশের শীর্ষ দুই গণমাধ্যম—প্রথম আলো ও দ্য ডেইলি স্টার-এর অফিসে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ চালানো হয়। ওই সময় ভবনের ভেতরে বহু সাংবাদিক আটকে পড়েন, যাদের পুড়িয়ে মারার চেষ্টাও করা হয়েছে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন। একই ধারাবাহিকতায় হামলা হয় দেশের ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান ছায়ানট ও উদীচীর ওপর।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এসব হামলার লক্ষ্য কেবল ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান নয়—লক্ষ্য বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক কাঠামো, স্বাধীন গণমাধ্যম এবং সাংস্কৃতিক ভিত্তি। বিশেষ করে যেসব রাজনৈতিক শক্তি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন চায় না, তারাই এই সহিংসতার মাধ্যমে দেশকে আন্তর্জাতিকভাবে অস্থিতিশীল ও অনিরাপদ হিসেবে তুলে ধরতে চাইছে।
একই সঙ্গে সংখ্যালঘু হত্যাকাণ্ডকে সামনে রেখে প্রতিবেশী প্রভাবশালী হিন্দু রাষ্ট্রসহ আন্তর্জাতিক মহলে চাপ সৃষ্টির কৌশলও স্পষ্ট। উদ্দেশ্য একটাই—অন্তর্বর্তী সরকার যেন দাবি করতে বাধ্য হয় যে ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত জাতীয় নির্বাচন আয়োজনের মতো পরিস্থিতি দেশে নেই।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, গণমাধ্যম, সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান ও সংখ্যালঘুদের ওপর একযোগে হামলা কোনো কাকতালীয় ঘটনা নয়। এটি একটি সুস্পষ্ট নীলনকশার বাস্তবায়ন, যার মাধ্যমে নির্বাচন পেছানো বা অনির্দিষ্টকালের জন্য ঝুলিয়ে দেওয়ার পরিবেশ তৈরি করা হচ্ছে।
এখন প্রশ্ন একটাই—রাষ্ট্র কি এই সহিংস চক্রকে চিহ্নিত করে কঠোর ব্যবস্থা নিতে পারবে, নাকি পরিকল্পিত সন্ত্রাসই প্রমাণ করে দেবে যে গণ–অভ্যুত্থানের মাধ্যমে গঠিত সরকার তার সবচেয়ে মৌলিক দায়িত্ব—নাগরিক নিরাপত্তা ও গণতান্ত্রিক পথ রক্ষা—করতে ব্যর্থ?