বাঁচানো গেলনা বিপ্লবী ওসমান বিন হাদী'কে
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা–৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী শরীফ ওসমান বিন হাদী আর নেই। সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে বিপ্লবী অবস্থানের কারণে তিনি রাজনৈতিক অঙ্গনে পরিচিত ছিলেন।
বাঁচানো গেলনা বিপ্লবী ওসমান বিন হাদী'কে
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা–৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী শরীফ ওসমান বিন হাদী সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেছেন। (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তাঁর মৃত্যুর খবরে রাজনৈতিক অঙ্গনসহ বিভিন্ন মহলে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
সিঙ্গাপুরে তাঁর চিকিৎসা তত্ত্বাবধানে যুক্ত থাকা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা বৃহস্পতিবার রাত আনুমানিক ১০টার দিকে গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। একই সঙ্গে ইনকিলাব মঞ্চের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজেও তাঁর মৃত্যুর খবর প্রকাশ করা হয়।
এর আগে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে জানানো হয়েছিল, গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর শরীফ ওসমান হাদীর শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন। ওই ঘোষণার পর থেকেই তাঁর অবস্থা নিয়ে দেশজুড়ে উদ্বেগ ও শঙ্কা তৈরি হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অসংখ্য মানুষ তাঁর সুস্থতার জন্য দোয়া ও উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
শরীফ ওসমান হাদী ঢাকা–৮ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করার প্রস্তুতি ও প্রচার চালাচ্ছিলেন। গত শুক্রবার দুপুরে রাজধানীর পুরানা পল্টনের বক্স কালভার্ট সড়কে দুর্বৃত্তদের গুলিতে তিনি গুরুতর আহত হন। মাথায় গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাঁকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরবর্তীতে অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
উন্নত চিকিৎসার জন্য গত সোমবার দুপুরে তাঁকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। এ সময় তাঁর সঙ্গে তাঁর ভাই ছাড়াও বাংলাদেশ থেকে একজন চিকিৎসক ও কয়েকজন নার্স ছিলেন। সিঙ্গাপুরে নেওয়ার পরও তাঁর শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয়নি এবং শেষ পর্যন্ত তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছে, শরীফ ওসমান হাদীর ওপর হামলাকারী হিসেবে ফয়সাল করিম মাসুদ নামে একজনকে চিহ্নিত করা হয়েছে। তাঁর সহযোগী হিসেবে আলমগীর শেখ মোটরসাইকেল চালকের ভূমিকা পালন করেন বলে পুলিশ ও র্যাবের তদন্তে উঠে এসেছে। তদন্ত সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে, হামলার পর তারা দুজনই অবৈধভাবে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে ভারতে পালিয়ে গেছে।
এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত পুলিশ ও র্যাব যৌথভাবে ১৪ জনকে আটক ও গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তারদের মধ্যে রয়েছেন ফয়সালের বাবা মো. হুমায়ুন কবির (৭০), মা মোসা. হাসি বেগম (৬০), স্ত্রী সাহেদা পারভিন সামিয়া এবং শ্যালক ওয়াহিদ আহমেদ সিপু।
এ ছাড়া আটক অন্যরা হলেন—মো. নুরুজ্জামান নোমানী ওরফে উজ্জ্বল, মো. কবির, আব্দুল হান্নান, মো. হিরন, মো. রাজ্জাক, ফয়সালের বান্ধবী মারিয়া আক্তার এবং হালুয়াঘাট সীমান্ত এলাকার মানব পাচারকারী হিসেবে পরিচিত সিমিরন দিও ও সঞ্জয় চিসিম।
শরীফ ওসমান বিন হাদী ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে দৃঢ় ও আপসহীন অবস্থানের কারণে একজন বিপ্লবী রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র হিসেবে তিনি দীর্ঘদিন ধরে রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্ব, গণতান্ত্রিক অধিকার এবং বিদেশি প্রভাববিরোধী বক্তব্য দিয়ে আলোচনায় ছিলেন।
তাঁর মৃত্যুতে ইনকিলাব মঞ্চ গভীর শোক প্রকাশ করেছে এবং তাঁর আত্মার মাগফিরাত কামনায় দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছে।