গণহারে অভিযান নয়, গুরুতর অপরাধে দণ্ডিত অবৈধ অভিবাসীদের গ্রেপ্তারে জোর

যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (DHS) তাদের অভিবাসন প্রয়োগ কৌশলে বড় ধরনের পরিবর্তন আনছে। গণহারে অভিযান চালিয়ে সব অবৈধ অভিবাসীকে লক্ষ্য করার বদলে, এখন গুরুতর অপরাধে দণ্ডিত অবৈধ অভিবাসীদের গ্রেপ্তারে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে বলে এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত এসেছে আইসিই (ICE) অভিযানের বিরুদ্ধে জনমত নেতিবাচক হয়ে ওঠার প্রেক্ষাপটে।

PostImage

গণহারে অভিযান নয়, গুরুতর অপরাধে দণ্ডিত অবৈধ অভিবাসীদের গ্রেপ্তারে জোর


গণঅভিযান থেকে সরে এসে লক্ষ্যভিত্তিক ব্যবস্থা

নিউজ নেশন–এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউএস বর্ডার প্যাট্রোলের কমান্ডার অ্যাট লার্জ গ্রেগরি বোভিনো–এর অধীনে থাকা দলগুলো এখন থেকে নির্দিষ্ট লক্ষ্যভিত্তিক অভিযানে মনোযোগ দেবে।

নতুন কৌশল অনুযায়ী—

  • হোম ডিপো, কার ওয়াশ বা জনসমাগমস্থলে বড় অভিযান কমানো হবে

  • গুরুতর অপরাধে দণ্ডিত অবৈধ অভিবাসীরা হবে মূল লক্ষ্য

  • ট্রাফিক স্টপ এনফোর্সমেন্ট অব্যাহত থাকবে

  • রাস্তায় বা জনসমক্ষে এলোমেলোভাবে মানুষ আটকানোর প্রবণতা কমবে

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, আগের কিছু অভিযানে জাতিগত পরিচয়, উচ্চারণ, ভাষা বা অবস্থানের ভিত্তিতে মানুষকে লক্ষ্য করার অভিযোগ উঠেছিল, যা ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়।


 জনমত জরিপে ধস, চাপের মুখে প্রশাসন

এই নীতিগত পরিবর্তন এসেছে এমন এক সময়ে, যখন প্রেসিডেন্ট **ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিবাসন নীতির প্রতি জনসমর্থন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।

  • পাবলিক রিলিজিয়ন রিসার্চ ইনস্টিটিউট (PRRI)–এর জরিপে দেখা গেছে, অভিবাসন ইস্যুতে ট্রাম্পের প্রতি সমর্থন ৪২% থেকে কমে ৩৩%

  • ইউগভ–এর জরিপে অধিকাংশ মার্কিন নাগরিক আইসিই অভিযানের বিরোধিতা করেছেন

  • KFF ও নিউ ইয়র্ক টাইমস–এর যৌথ জরিপে প্রায় অর্ধেক অভিবাসী জানিয়েছেন, ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর তারা ও তাদের পরিবার নিজেদের কম নিরাপদ মনে করছেন


অভিযান, বিক্ষোভ ও মামলা

চলতি বছর লস অ্যাঞ্জেলেস, শিকাগো ও শার্লট–সহ বিভিন্ন শহরে বর্ডার প্যাট্রোলের অভিযান চালানো হয়েছে। এসব অভিযানের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ, আইনি চ্যালেঞ্জ ও মামলা দায়ের হয়েছে।

সমালোচকদের মতে, এসব অভিযান মানবাধিকার ও আইনি সীমা অতিক্রম করেছে।


“ক্যাটাহুলা ক্রাঞ্চ” অভিযান অব্যাহত

নীতিগত পরিবর্তন সত্ত্বেও নিউ অরলিন্সে পরিচালিত “Catahoula Crunch” নামের অভিযান চলমান থাকবে।

নিউজ নেশন–এর তথ্যমতে—

  • ইতোমধ্যে ২৫০ জনের বেশি মানুষ গ্রেপ্তার

  • DHS–এর লক্ষ্য ৫,০০০ জনকে গ্রেপ্তার করা

কর্তৃপক্ষ বলছে, এই অভিযান নতুন লক্ষ্যভিত্তিক কৌশলের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।