নির্বাচনের আগেই বড় মোড়: তারেক রহমানের দেশে ফেরা নিশ্চিত
বাংলাদেশের অস্থিতিশীল রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট, নির্বাচনী অনিশ্চয়তা এবং সাম্প্রতিক সহিংসতার উত্তাপের মধ্যেই বিএনপি ঘোষণা করেছে—আগামী ২৫শে ডিসেম্বর দেশে ফিরছেন দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ওসমান হাদির ওপর হামলাসহ ধারাবাহিক নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন যখন তীব্র হচ্ছে, ঠিক তখনই তারেক রহমানের এই প্রত্যাবর্তনকে অনেকেই রাজনৈতিক সমীকরণ বদলে যাওয়ার সূচনা হিসেবে দেখছেন। বিএনপির দাবি—তার অনুপস্থিতিকে ঘিরে যেসব গোষ্ঠী নির্বাচন বানচালের চেষ্টা চালাচ্ছে, তার ফিরেই সেই প্রচেষ্টা ভেস্তে যাবে।
নির্বাচনের আগেই বড় মোড়: তারেক রহমানের দেশে ফেরা নিশ্চিত
বাংলাদেশের চলমান রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা, নির্বাচনকে ঘিরে গভীর অনিশ্চয়তা এবং সাম্প্রতিক সহিংসতার আলোচনার মধ্যেই বিএনপি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা দিয়েছে—আগামী ২৫শে ডিসেম্বর দেশে ফিরছেন দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এই ঘোষণাকে অনেকেই শুধু রাজনৈতিক প্রত্যাবর্তন নয়, বরং নির্বাচনের পূর্বমুহূর্তে বাংলাদেশের সামগ্রিক শক্তির ভারসাম্যে একটি বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন।
অস্থিরতার মধ্যেই ফেরার ঘোষণা: রাজনৈতিক তাৎপর্য কী?
ওসমান হাদির ওপর ন্যাক্কারজনক হামলা, নিরাপত্তা ব্যর্থতার অভিযোগ এবং নির্বাচনকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার মাত্রা বাড়ায় রাজনৈতিক পরিবেশ বর্তমানে অস্বাভাবিক উত্তপ্ত।
এই পরিস্থিতিতে তারেক রহমানের দেশে ফেরার ঘোষণা এমন সময়ে এলো যখন—
বিরোধী নেতাদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুঙ্গে,
সরকারকে “নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত নয়” বলে সমালোচনা করছেন অনেকেই,
এবং একাধিক পর্যবেক্ষক বলছেন “অস্থিরতাকে সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করে নির্বাচন বানচালের চেষ্টা হচ্ছে”।
তারেক রহমানের উপস্থিতিকে তাই বিএনপি কেবল সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধির মাধ্যম হিসেবে নয়, বরং রাজনৈতিক মাঠে জনগণকে চাঙা করার প্রতীকী শক্তি হিসেবেও দেখছে।
জল্পনার অবসান: কেন এবার তার ফেরা নিশ্চিত?
গত অক্টোবর–নভেম্বরেও দেশে ফেরার সম্ভাবনা তৈরি হলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। মায়ের অসুস্থতা সত্ত্বেও দেশে না ফেরা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে, সমালোচনা হয়।
তবে এবার বিএনপির ভাষ্য অনুযায়ী—
তফসিল ঘোষণার পর তারেকের দেশে ফেরা ছিল নিশ্চিত,
“পরিস্থিতি যাই হোক”—এই অবস্থান বিএনপির অভ্যন্তরে আগেই তৈরি হয়েছিল,
এবং নির্বাচন ঘিরে দলকে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য তার শারীরিক উপস্থিতি জরুরি হয়ে উঠেছে।
এছাড়া সাম্প্রতিক সহিংসতা, বিশেষত ওসমান হাদির ওপর হামলার পর দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে যে শঙ্কা তৈরি হয়েছে—তাও সিদ্ধান্ত গ্রহণে প্রভাব ফেলেছে বলে দলের ভেতর থেকে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।
নিরাপত্তা প্রশ্নে বিতর্ক এবং রাজনৈতিক বার্তা
বর্তমান সরকারের প্রতি উল্লেখযোগ্য মহলের অভিযোগ—
শান্তিপূর্ণ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে সরকারের বাস্তব প্রস্তুতি দুর্বল।
ওসমান হাদির ওপর হামলা সেই আশঙ্কাকে আরও তীব্র করেছে।
অন্যদিকে বিএনপি মনে করছে—
তারেক রহমানের অনুপস্থিতিকে কেন্দ্র করে একটি গোষ্ঠী দেশে বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা করছে,
এই অস্থিতিশীলতার লক্ষ্য নির্বাচন বানচাল করা,
এবং সরকারকে আরও চাপের মুখে ফেলা।
তারা বিশ্বাস করে,
তারেক রহমান দেশে ফিরলে রাজনৈতিক ভারসাম্য বদলাবে এবং বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের অবস্থান দুর্বল হবে।
সরকার ও ক্ষমতাসীন দলের জন্য কী বার্তা?
তারেক রহমানের ফেরা বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের ওপরও চাপ সৃষ্টি করছে।
এখন তাদের সামনে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন—
1. তারেক রহমান দেশে ফিরলে তাকে ঘিরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ কতটা সম্ভব?
2. তার ফেরায় নির্বাচন কমিশনের ওপর কী ধরনের রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি হবে?
3. আওয়ামী লীগ কি এই পরিবেশে নির্বাচনের পথে এগোতে প্রস্তুত?
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ক্ষমতাসীন পক্ষের মধ্যে একটি অংশ চায় নির্বাচন যতটা দেরিতে সম্ভব হোক, যাতে নিরাপত্তা পরিস্থিতি “স্বাভাবিক” করা যায়।
অন্যদিকে বিএনপি মনে করছে—
সময়ের বিলম্ব সরকারকে সুবিধা দিচ্ছে।
সম্ভাব্য রাজনৈতিক প্রভাব:
তারেক রহমানের দেশে ফেরা কয়েকটি বিষয়কে ত্বরান্বিত করতে পারে—
বিএনপির আন্দোলনে গতি আসবে:
বিরোধীদের নির্বাচনী প্রচারণায় উচ্ছ্বাস বাড়বে। সমর্থকদের ফিরে আসার ঢল তৈরি হতে পারে
আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টি আবারও বাংলাদেশের নির্বাচনের দিকে যাবে
নির্বাচনকালীন নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর চাপ আরও বাড়বে
একদিকে সহিংসতা, নিরাপত্তা সংকট ও রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা—অন্যদিকে তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন।
এই দুই পরিস্থিতি একত্রে বাংলাদেশের নির্বাচন–কেন্দ্রিক রাজনীতিকে সম্পূর্ণ নতুন পথে নিয়ে যাচ্ছে।
আগামী ২৫শে ডিসেম্বর তার ফিরে আসা শুধু বিএনপির জন্য নয়—
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যতের ওপরও গভীর প্রভাব ফেলতে পারে।