ঢাবিতে ককটেল বিস্ফোরণের ধারাবাহিকতা, ছয় স্থানে আতঙ্ক আটক ২
প্রত্যক্ষদর্শী ও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সন্ধ্যা ৬টা ৩৫ মিনিটের দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনের সামনে একটি ককটেল বিস্ফোরিত হয়। এর কিছুক্ষণ পর টিএসসি ও মেট্রোরেল স্টেশনসংলগ্ন এলাকায় পরপর বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ক্যাম্পাসে একের পর এক ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। রোববার (৮ নভেম্বর) সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি, সিনেট ভবনসহ ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে এসব বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে দুজনকে আটক করেছেন শিক্ষার্থীরা।
প্রত্যক্ষদর্শী ও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সন্ধ্যা ৬টা ৩৫ মিনিটের দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনের সামনে একটি ককটেল বিস্ফোরিত হয়। এর কিছুক্ষণ পর টিএসসি ও মেট্রোরেল স্টেশনসংলগ্ন এলাকায় পরপর বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়।
বিডিনিউজ২৪-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, কয়েক মিনিটের ব্যবধানে অন্তত ছয়টি স্থানে হাতবোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটের কাছাকাছি, ইউল্যাব স্কুলের সামনে, নীলক্ষেত মোড় ও নীলক্ষেত তোরণসংলগ্ন এলাকাতেও বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে।
একাধিক স্থানে বিস্ফোরণের ঘটনায় ক্যাম্পাসজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেক শিক্ষার্থী ও পথচারীর মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। বিশেষ করে সন্ধ্যার ব্যস্ত সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় এ ধরনের বিস্ফোরণ নিরাপত্তাব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে।
এদিকে টিএসসি এলাকায় বিস্ফোরণের পর পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করার সময় দুজনকে আটক করেন শিক্ষার্থী ও উপস্থিত লোকজন। পরে তাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল টিমের কাছে হস্তান্তর করা হয় এবং শাহবাগ থানা পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মো. ইসরাফিল প্রাং জানিয়েছেন, আটক ব্যক্তিদের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে ক্যাম্পাসের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে ঘটনার প্রকৃত পরিস্থিতি জানার চেষ্টা চলছে।
শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান জানিয়েছেন, মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় দুজনকে আটক করা হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।
তবে এসব বিস্ফোরণের পেছনে কারা জড়িত, কী উদ্দেশ্যে একই সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে এবং এর নেপথ্যে কোনো সুসংগঠিত চক্র রয়েছে কি না—তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তাৎক্ষণিকভাবে হতাহতের বিষয়েও নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
নিরাপত্তা নিয়ে বড় প্রশ্ন?
দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিদ্যাপীঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে কিংবা সংলগ্ন এলাকায় অল্প সময়ের ব্যবধানে একাধিক বিস্ফোরণের ঘটনা শুধু আইনশৃঙ্খলার বিষয় নয়, এটি শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার সঙ্গেও সরাসরি জড়িত।
বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে নিরাপত্তা নজরদারি থাকা সত্ত্বেও কীভাবে একাধিক স্থানে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটল, সিসিটিভি নজরদারিতে কোনো ঘাটতি ছিল কি না এবং বিস্ফোরণের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের পেছনে কারা রয়েছে—এসব প্রশ্নের নিরপেক্ষ তদন্ত জরুরি।
আটক ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ এবং বিস্ফোরক ব্যবহারের উৎস শনাক্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটনের দাবি উঠেছে। একই সঙ্গে ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা জোরদার করে শিক্ষার্থীদের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।






মন্তব্য ০
লগইন করুন অথবা বিনা মূল্যে অ্যাকাউন্ট খুলুন আলোচনায় যোগ দিতে। নাম গোপন রেখেও মন্তব্য করতে পারবেন।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।