"তারেক রহমান টার্গেট? গোয়েন্দাদের নজরে বিদেশি শক্তি ও বাইন–নেটওয়ার্ক"

সুব্রত বাইনকে ঘিরে নতুন শঙ্কা: তারেক রহমানের নিরাপত্তায় বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার নাশকতার আশঙ্কা।

PostImage

"তারেক রহমান টার্গেট? গোয়েন্দাদের নজরে বিদেশি শক্তি ও বাইন–নেটওয়ার্ক"


শীর্ষ সন্ত্রাসী সুব্রত বাইনকে ঘিরে আবারও দেশে উদ্ভূত হয়েছে নিরাপত্তা উদ্বেগ, যা এবার সরাসরি যুক্ত হয়ে পড়েছে বিএনপি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সম্ভাব্য দেশে ফেরাকে কেন্দ্র করে। একদিকে সুব্রত বাইনের ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের নতুন করে ধরপাকড়, অন্যদিকে বিদেশি গোয়েন্দা সক্রিয়তার ইঙ্গিত—দুই ঘটনার সমন্বয়ে সরকারি গোয়েন্দা সংস্থাগুলো এখন সর্বোচ্চ সতর্কতায়।


কারওয়ান বাজারে সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে অভিযান: সুব্রত বাইন চক্রের দুই সদস্য গ্রেফতার


গতকাল দুপুর ২টার দিকে রাজধানীর কারওয়ান বাজার বিএফডিসি রেলগেট এলাকায় সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে যৌথ অভিযান পরিচালিত হয়। এ অভিযানে সুব্রত বাইনের ঘনিষ্ঠ সহযোগী কালা সিদ্দিক ও মিলনকে গ্রেফতার করা হয়।

তাদের কাছ থেকে একটি স্প্যানিশ পিস্তল ও তিন রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে।


বাংলাদেশ সেনাবাহিনী জানায়—

“জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষায় সন্ত্রাস ও নাশকতার বিরুদ্ধে এ ধরনের সমন্বিত অভিযান অব্যাহত থাকবে।”


এই গ্রেফতারের পর আবারও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে সুব্রত বাইন—যিনি অতীতে সংবেদনশীল কয়েকটি টার্গেট-কিলিংয়ের সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে গোয়েন্দা তথ্য উল্লেখ করে।


বনানীতে রহস্যজনক অভিযান: বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার অপারেশনের আলামত


একই দিনে রাজধানীর বনানীর ৪ নম্বর রোডের একটি ভবনে সেনাবাহিনী, এনএসআই, ডিজিএফআই, ডিবি, এসবি ও ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইমস ইউনিট যৌথ অভিযান চালায়।

তাদের হাতে থাকা গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, ওই বাসা থেকে একটি বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থা অপারেশন পরিচালনা করছিল।


অভিযানে একটি সার্ভার উদ্ধারের পর এর ডেটা বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। তবে কর্মকর্তাদের ধারণা—“এই অপারেশনের প্রকৃত পরিকল্পনাকারীরা এত অপেশাদার নয় যে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সার্ভারে অক্ষত রাখবে।”


বিদেশি psyops বিশেষজ্ঞ আটক: নিরাপত্তা চিত্র আরও জটিল


সম্প্রতি আরেক গোপন অভিযানে একটি বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার একজন psyops বিশেষজ্ঞ আটক হয়েছে বলে তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। নিরাপত্তাবিশ্লেষকদের মতে, এই গ্রেপ্তার ইঙ্গিত দিচ্ছে—বাংলাদেশকে ঘিরে বিশেষ ধরনের মনস্তাত্ত্বিক ও রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা তৈরি করার প্রচেষ্টা চলছিল।


তারেক রহমানের নিরাপত্তা কেন ঝুঁকিতে?


সরকারের দুই প্রধান গোয়েন্দা সংস্থা এখনো তারেক রহমানের দেশে ফেরার জন্য নিরাপত্তাজনিত “ক্লিয়ারেন্স” দেয়নি। কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন—এটি কোনো রাজনৈতিক শর্ত নয়; পুরোপুরি হুমকি মূল্যায়নের ফলাফল।


উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো—

এই হুমকি বাংলাদেশের পার্শ্ববর্তী কোনো দেশ বা পশ্চিমা শক্তিধর রাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা থেকে নয়। বরং এমন এক দেশের সংস্থা, যার ভূখণ্ড বিস্তৃত দুই মহাদেশজুড়ে।


গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মূল্যায়ন—তারেক রহমান দেশে ফিরলে যেসব জনসভায় যোগ দেবেন, সেগুলোকে লক্ষ্য করে টার্গেটেড অ্যাটাক বা নাশকতা ঘটানোর পরিকল্পনা থাকতে পারে।


সুব্রত বাইন ও বিদেশি অপারেশনের সমন্বয়—গভীর নজরদারি


সুব্রত বাইন চক্রের সাম্প্রতিক তৎপরতা, বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার গোপন কার্যক্রম, এবং দেশের ভেতরে অস্ত্র–অপরাধ নেটওয়ার্ক সক্রিয় হওয়ার লক্ষণ—সব মিলিয়ে নিরাপত্তা মূল্যায়নে নতুন মাত্রা যুক্ত হয়েছে।


গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের মতে—

“দেশি-বিদেশি কতগুলো নেটওয়ার্ক এখন একইসঙ্গে সক্রিয়। তারেক রহমানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল রূপ নিচ্ছে।”