“ইতিহাস আমাদের একবারই সুযোগ দেয়”—ইউএনওদের উদ্দেশে প্রধান উপদেষ্টা

গণঅভ্যুত্থানের পর পরিবর্তিত রাজনৈতিক বাস্তবতায় বাংলাদেশ নতুন এক নির্বাচনী প্রক্রিয়ার দিকে অগ্রসর হচ্ছে। এই নির্বাচনের সফল আয়োজনকে জাতির সামনে “ঐতিহাসিক দায়িত্ব” হিসেবে বর্ণনা করেছেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেছেন—এ নির্বাচন শুধু পাঁচ বছরের সরকার নয়, একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ার পথচলার সূচনা নির্ধারণ করবে।

PostImage

“ইতিহাস আমাদের একবারই সুযোগ দেয়”—ইউএনওদের উদ্দেশে প্রধান উপদেষ্টা


রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনা থেকে সারা দেশের উপজেলা নির্বাহী অফিসারদের (ইউএনও) সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে নির্বাচন প্রস্তুতি বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেন প্রধান উপদেষ্টা। এসময় জেলা প্রশাসক, বিভাগীয় কমিশনার এবং মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও যুক্ত ছিলেন।


প্রধান উপদেষ্টা ইউএনওদের উদ্দেশে বলেন,

“ইতিহাস আমাদের নতুন করে একটি সুযোগ দিয়েছে। অন্য জেনারেশন এই সুযোগ পাবে না। আমরা যদি এই সুযোগ কাজে লাগাতে পারি, তাহলে নতুন বাংলাদেশ গড়তে পারব—আর না পারলে জাতি মুখ থুবড়ে পড়বে।”



---


সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন—একটি ‘ঐতিহাসিক দায়িত্ব’


প্রফেসর ইউনূস বলেন, এই নির্বাচনকে অন্য যেকোনো নির্বাচনের সঙ্গে তুলনা করা যাবে না। বিগত শাসনামলে অনুষ্ঠিত নির্বাচনের সমালোচনা করে তিনি বলেন,

“একের পর এক নির্বাচন দেখেছি। যেকোনো সুস্থ মানুষ বলবে—ওগুলো নির্বাচন নয়, প্রতারণা।”


তাই আগামী নির্বাচনকে নতুন মানদণ্ড স্থাপনের সুযোগ হিসেবে তুলে ধরে তিনি ইউএনওদের সতর্ক ও দায়িত্বশীল হতে আহ্বান জানান।

“আপনারা যদি সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করেন, তবেই সরকার তার দায়িত্ব সফলভাবে সম্পন্ন করতে পারবে।”

নির্বাচন ও গণভোট—দুটি পরিবর্তনের দ্বারপথ


প্রধান উপদেষ্টা নির্বাচনের পাশাপাশি গণভোটের বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন।

তিনি বলেন,

“নির্বাচন আগামী পাঁচ বছরের জন্য। কিন্তু গণভোট শত বছরের জন্য। এর মাধ্যমে আমরা বাংলাদেশটাকে স্থায়ীভাবে পাল্টে দিতে পারি। যে নতুন বাংলাদেশ তৈরি করতে চাই, তার ভিত এই গণভোটই গড়ে দেবে।”


ভোটারদের সচেতন করতে তিনি মাঠ প্রশাসনকে বিশেষ নির্দেশনা দেন:

“ভোটারদের বোঝাতে হবে—আপনারা মন ঠিক করে আসুন, ‘হ্যাঁ’ দেবেন নাকি ‘না’ দেবেন। মন স্থির করে আসবেন।”

“ভালো ধাত্রী হলে ভালো শিশুর জন্ম হয়”—কর্মকর্তাদের ভূমিকা উল্লেখ করে উপদেষ্টা


কর্মকর্তাদের দায়িত্বের তুলনা করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন,

“ধাত্রী ভালো হলে জন্ম নেওয়া শিশুও ভালো হয়। আগামী নির্বাচনও তেমন—কর্মকর্তারা ভালোভাবে দায়িত্ব পালন করলে ফলও ভালো হবে।”


তিনি ইউএনওদের সৃজনশীল ও পরিস্থিতি–উপযোগী পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান এবং অপতথ্য ও গুজব প্রতিরোধে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেন।

নারী ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের ওপর জোর


নারীদের অংশগ্রহণকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে প্রফেসর ইউনূস বলেন,

“নারীরা যেন ঠিকভাবে ভোটকেন্দ্রে আসতে পারেন—এটা নিশ্চিত করতে হবে।”


প্রত্যেক ইউএনওকে নিজ এলাকার সব পোলিং স্টেশন পরিদর্শন, স্থানীয় জনগণ ও সংশ্লিষ্ট পক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে নির্বাচন প্রস্তুতি গ্রহণের পরামর্শ দেন তিনি।

নির্বাচনের তফসিল আসন্ন—প্রস্তুতি এখনই শুরু করার নির্দেশ


শীঘ্রই নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হবে বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন,

“আপনারা এখন থেকেই পরিকল্পনা নিন—কখন, কীভাবে, কোন কাজটি করবেন।”


অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তারা:

অনুষ্ঠানে প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিব এম সিরাজ উদ্দিন মিয়া, মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. শেখ আব্দুর রশীদ, প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব মোহাম্মদ শফিকুল আলম এবং জনপ্রশাসন সচিব মো. এহছানুল হকসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।