দুর্নীতি দমনে বিএনপির অতীত অর্জন ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরে বিবৃতি দিলেন তারেক রহমান

জিয়া-খালেদা সরকারের সময়ের অর্জন, দুদক গঠন, আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি—সবকিছুই আবার সামনে আনলেন তারেক রহমান। বললেন, “জনগণ দায়িত্ব দিলে আমরা আবারও পরিবর্তন আনবো।”

PostImage

দুর্নীতি দমনে বিএনপির অতীত অর্জন ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরে বিবৃতি দিলেন তারেক রহমান


বাংলাদেশে দুর্নীতি কীভাবে প্রতিদিনের জীবনের প্রতিটি স্তরকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে—সেটি তুলে ধরে একটি বিস্তৃত বিবৃতি দিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আন্তর্জাতিক দুর্নীতি বিরোধী দিবসকে সামনে রেখে প্রকাশিত এই বিবৃতিতে তিনি বলেন, “মেধাবী তরুণ চাকরি না পেয়ে হতাশ হয়, কৃষক একটি সেবা পেতে মাসের পর মাস ঘুরে—এই অবস্থার মূল কারণ দুর্নীতি।”


তারেক রহমানের বক্তব্যে উঠে এসেছে — খাদ্যদ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধি, নিম্নমানের শিক্ষা, নিরাপত্তাহীন সড়কব্যবস্থা থেকে শুরু করে সরকারি সেবা পেতে জনদুর্ভোগ—সবকিছুর সঙ্গে দুর্নীতি সরাসরি সম্পর্কিত।


বিএনপি সরকারের সময়ে দুর্নীতি হ্রাসের অগ্রগতি তুলে ধরলেন তারেক রহমান


তিনি দাবি করেন, বাংলাদেশে দুর্নীতি দমনে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে বিএনপির শাসনামলে।


রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান প্রশাসনে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা ও অর্থনৈতিক উদারীকরণে কাজ শুরু করেন।


প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সময় সরকারি ক্রয়নীতি, আর্থিক প্রশাসন, অডিট ও নজরদারিতে বড় ধরনের আধুনিকায়ন হয়।


২০০৪ সালে গঠিত দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)—যা ছিল একটি স্বাধীন সংস্থা—দুর্নীতিবিরোধী লড়াইয়ের সবচেয়ে বড় মাইলফলক বলে উল্লেখ করেন তিনি।



তারেক রহমান বলেন, আন্তর্জাতিক সংস্থা বিশ্বব্যাংক, এডিবি, এমনকি টিআইবিও তখন স্বচ্ছতার উন্নতি স্বীকার করেছিল। ২০০২-২০০৫ সালে দুর্নীতির সূচকে উন্নতি এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে দুর্নীতি কমার অনুভূতির কথা তিনি উল্লেখ করেন।


বিএনপির চারটি প্রধান অর্জন


তারেক রহমান চারটি বড় সাফল্যের কথা উল্লেখ করেন:


1. শক্তিশালী অর্থ পরিচালনা—বাজেট নিয়ন্ত্রণ, অডিট, ব্যাংকিং সংস্কার।



2. স্বচ্ছ সরকারি ক্রয়ব্যবস্থা—প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র।



3. উন্মুক্ত বাজারনীতি—টেলিকম, মিডিয়া, বিমান পরিবহনে প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি।



4. প্রশাসনিক ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণ—সেবাকে মানুষের কাছে আরও সহজ করা।




দুর্নীতি দমনে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা প্রকাশ


তিনি সাতটি অগ্রাধিকারভিত্তিক পরিকল্পনা তুলে ধরেন, যার মধ্যে রয়েছে—


আদালত, দুদক, নির্বাচন কমিশনের মতো প্রতিষ্ঠানের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা


সম্পদ বিবরণী, উন্মুক্ত দরপত্র, রিয়েল-টাইম অডিট


পুলিশ ও বিচার বিভাগের সংস্কার


ই-গভর্ন্যান্সের মাধ্যমে সেবা ডিজিটালাইজেশন


হুইসলব্লোয়ার সুরক্ষা আইন


নৈতিক শিক্ষাকে পাঠ্যসূচিতে অন্তর্ভুক্তকরণ


সংসদীয় তদারকির মাধ্যমে ব্যয় নজরদারি



তারেক রহমানের প্রতিশ্রুতি


বিবৃতির শেষাংশে তিনি বলেন—

“জনগণ দায়িত্ব দিলে, দুর্নীতির বিরুদ্ধে আবারও শক্ত লড়াইয়ে নেতৃত্ব দিতে বিএনপি প্রস্তুত।”


CSB NEWS USA তার বিবৃতিকে সরকারের জবাবদিহিতা ও সুশাসন নিয়ে জাতীয় আলোচনার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হিসেবে বিবেচনা করছে।