আইনি চুক্তি নয়, রাজনৈতিক আস্থাই নির্ধারণ করবে শেখ হাসিনার ভবিষ্যৎ

বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে দেওয়া মৃত্যুদণ্ডের রায়কে কেন্দ্র করে ভারত–বাংলাদেশ রাজনৈতিক অঙ্গনে টানটান উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ভারতের আশ্রয়ে থাকা শেখ হাসিনাকে প্রত্যার্পণ করা হবে কি না—এই প্রশ্নকে ঘিরে চলছে জোর আলোচনা, আইনি ব্যাখ্যা, কূটনৈতিক বিশ্লেষণ এবং আঞ্চলিক ভূরাজনীতির মূল্যায়ন। বন্দি বিনিময় চুক্তির শর্তের চেয়েও বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে ভারতের নীতিগত অবস্থান, ঐতিহাসিক আস্থা এবং দুই দেশের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সম্পর্ক।

PostImage

আইনি চুক্তি নয়, রাজনৈতিক আস্থাই নির্ধারণ করবে শেখ হাসিনার ভবিষ্যৎ


বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মৃত্যুদন্ডের রায় হওয়ার, ভারত বংলাদেশ বন্দীবিনিময় বা প্রত্যর্পন নিয়ে জোর আলোচনা হচ্ছে। ভারত কি শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে দিবে, না দিবেনা এটা নিয়ে চলছে নানা রকম বিশ্লেষন, আর আইনি প্রক্রিয়া নিয়ে তো বাংলাদেশ ভারতের রাজনীতিতে বিশ্লেষন চলছেই।

বাংলাদেশ ভারতের বন্দি বিনিময় চুক্তিতে কি আছে বা কি নাই সেটা সেটা থেকেও গুরুত্বপূর্ন ভারত শেখ হাসিনাকে আশ্রয় দিয়েছে কিসের ভিত্তিতে সেটা গুরুত্বপূর্ন। বাংলাদেশে কাজ করা ভারতের দুজন গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক পিনাকি রঞ্জন ও হর্ষবর্ধন শ্রীংলার বিবৃতিতে স্পষ্ট যে শেখ হাসিনার প্রত্যার্পন আইনি চুক্তিতে সীমাবদ্ধ নয় এটা তাদের নীতিগত, কূটনৈতিক ও আঞ্চলিক নিরাপত্তার উপর বেশি প্রভাবিত।

ভারত মনে করে বাংলাদেশের এ পর্যন্ত যত সরকার ক্ষমতায় ছিল, তার মধ্যে আওয়ামীলীগ ও শেখ হাসিনার আমল ছিল অধিক বন্ধুসুলভ। আওয়ামীলীগও স্বাধীনতার সময় থেকে যে মিত্রতার পরিচয় দিয়েছে ভারত সরকারের সাথে সেটা অটুট রেখেছে। শেখ হাসিনাকে আশ্রয় দেওয়ার বিষয়টি নীতিগত তা বোঝা যায় যখন তারা সরকারীভাবে নয় সর্বদলীয় বৈঠক করে তাকে রাষ্ট্রীয়ভাবে ভারতে নিরাপত্তা দিচ্ছে। শেখ হাসিনা ও তার দলের প্রতি যে অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা নেয়া হয়েছে তার অধিকাংশই ভিত্তিহীন, বায়াস্ট এবং অতি রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রনোদিত।  সেক্ষেত্রে প্রত্যর্পনের যে চুক্তি সে অনুযায়ীও ভারত শেখ হাসিনাকে ফেরত না পাঠাতে পারে।

তাছাড়াও যে ট্রাইবুনালে এ বিচার কার্য পরিচালনা হচ্ছে আদালতের এখতিয়ার বা শর্ত অনুযায়ী তা অবৈধ বলেও মনে করছে অনেক আইনি বিশ্লষক ও আইনজীবীরা। দলীয় ভাবে আওয়ামীলীগও এর প্রতিবাদ করে আসছে এবং এটা পূর্ব নির্ধারিত পরিকল্পনা মাফিক বিচার পদ্ধতি হিসেবে অভিহিত করে আদালতের উপর অনাস্তা জানিয়েছে ন্যায় বিচারের স্বার্থে।

বন্দি বিনিময় চুক্তির যে শর্ত আছে তাতে অনেক সহজেই ভারত শেখ হাসিনাকে না পাঠাতে পারে।  আর সেগুলো বাদেও ভারত তার নীতিগত জায়গা থেকে শেখ হাসিনাকে পাঠাবে না বলে মনে করা হয়।

ইথিওপিয়ার সাবেক রাষ্ট্রপ্রধান ম্যাংগুস্তু হায়লে মারিয়াম যিনি ব্যাপক গনহত্যা ও অর্থনৈতিক জালিয়াতি দায়ে দেশ থেকে পালাতে বাধ্য হয়েছিল।  তার পরিবারের ৫০ জনসহ সে জিম্বাবুয়েতে আশ্রয় নেয়। জিম্বাবুয়ের মুগাবে সরকারকে অনেক অনুরোধ করেও ইথিওপিয়া মারিয়ামকে ফেরত নিতে পারে নি। অনেকে ভেবেছিল মুগাবের পতনের পর হয়ত মারিয়াম প্রত্যার্পন করবে কিন্ত মুগাবে সরকারের পতনের পরও জিম্বাবুয়ে সরকার মারিয়ামকে প্রত্যার্পন করে নি। কারন জিম্বাবুয়ে রাষ্ট্র মনে করে তাদের স্বাধীনতার সময় মারিয়ামের ভূমিকা ছিল অপরিসীম। তাই তারা তাদের বিশ্বস্ত বন্ধুকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিতে পারে না। এ্যামিনেষ্টি ইন্টারন্যাশনাল ও বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থার প্রতিবেদনে মারিয়াম সরকার উপর ৫-২০ লক্ষ লোককে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছিল

অর্থাৎ বিশ্বস্ত ও নিরাপদ মিত্র শক্তিকে কোন রাষ্ট্রই বিপদে ফেলতে চায় না। তাছাড়াও ভারত আঞ্চলিক শক্তিত ও পররাষ্ট্রনীতিতে পূর্বে থেকে অনেক বেশি শক্তিশালী, তাদের রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তকে অন্য কোন বহিঃ শক্তি  প্রভাবিত করতে পারবে না।  এ মুহুর্তে নীতিগতভাবেই শেখ হাসিনাকে ভারত প্রত্যার্পন নাও করতে পারে।


- এস গোস্বামী, রাজনৈতিক বিশ্লেষক