বঞ্চিত সশস্ত্র বাহিনী সদস্যদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করবে সরকার: প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস

প্রতিবেদনে প্রকাশিত নির্যাতন, গুম, বৈষম্য ও ভুয়া মামলার ভয়াবহ বিবরণ সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যে দীর্ঘদিন জমে থাকা ক্ষোভের প্রতিফলন। প্রধান উপদেষ্টার ঘোষণায় স্পষ্ট— সরকার এই অন্যায়ের শিকার সদস্যদের ন্যায়বিচার, পুনর্বহাল ও ক্ষতিপূরণ দিতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

PostImage

বঞ্চিত সশস্ত্র বাহিনী সদস্যদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করবে সরকার: প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস


২০০৯ থেকে ২০২৪—পূর্বতন সরকারের সময়ে নিপীড়ন, গুম, ভুয়া মামলা ও বৈষম্যের বিস্তারিত প্রতিবেদন জমা

বিগত সরকারের আমলে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর যেসব সদস্য বৈষম্য, নিপীড়ন, গুম, ভুয়া মামলা ও অন্যায্য বরখাস্তের শিকার হয়েছেন—তাদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার আশ্বাস দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস।

রবিবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় সশস্ত্র বাহিনীর বঞ্চিত সদস্যদের অভিযোগ যাচাই-বাছাই এবং সুপারিশ প্রদানকারী কমিটির প্রতিবেদন গ্রহণকালে তিনি বলেন—

> “সামান্য কিছু অনিয়ম হয়েছে ভেবেছিলাম, কিন্তু আপনারা যে পূর্ণাঙ্গ চিত্র তুলে এনেছেন তা সত্যিই ভয়াবহ এবং কল্পনার বাইরে।”

প্রধান উপদেষ্টা কমিটির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন—


> “পূর্ণ পেশাদারিত্ব ও নির্মোহ থেকে সত্য তুলে ধরেছেন আপনারা। সরকার ন্যায়বিচার নিশ্চিত করবে।”

 কমিটির কাজ ও সদস্যরা

কমিটির নেতৃত্বে ছিলেন—

অব. লেফটেন্যান্ট জেনারেল আব্দুল হাফিজ (সভাপতি)

মেজর জেনারেল (অব.) মুহম্মদ শামস-উল-হুদা

মেজর জেনারেল (অব.) শেখ পাশা হাবিব উদ্দিন

রিয়ার অ্যাডমিরাল (অব.) মোহাম্মদ শফিউল আজম

এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) মুহাম্মদ শাফকাত আলী

১৯ আগস্ট ২০২৫ প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। আইএসপিআর, সিওআরও, রাওয়া ও গণমাধ্যমের মাধ্যমে আবেদন আহ্বান করা হয় ২১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত।

📊 অভিযোগ ও তদন্তের সারসংক্ষেপ

মোট অভিযোগ: ৭৩৩

গৃহীত অভিযোগ: ৪০৫

সুপারিশকৃত আবেদন: ১১৪

কার্যপরিধির বাইরে: ২৪

শৃঙ্খলা/নৈতিক স্খলনজনিত মামলা: ৯৯


আবেদনকারীদের মধ্যে—


সেনাবাহিনী: ১২৫ জন


নৌবাহিনী: ৫১ জন


বিমান বাহিনী: ২৫ জন

🔍 তদন্তে পাওয়া ভয়াবহ চিত্র

১. গুম ও অবৈধ আটক

ছয়জন অফিসারকে তাদের আত্মীয়ের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা বা “জঙ্গি” অপবাদ দিয়ে ১ থেকে ৮ বছর পর্যন্ত বেআইনিভাবে গুম রাখা হয়

একজন অবসরপ্রাপ্ত অফিসারকে ‘জঙ্গি নাটক’ সাজিয়ে হত্যা করা হয়


নিহত অফিসারের স্ত্রীকেও এক বছরের শিশুসহ ছয় বছর বিনা বিচারে কারাগারে রাখা হয়



২. বিডিআর বিদ্রোহ-পরবর্তী প্রতিহিংসা


বিডিআর হত্যাযজ্ঞে সরকারের নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন তোলা পাঁচজন অফিসারকে

‘ব্যারিস্টার তাপস হত্যা প্রচেষ্টা’ নামে ভুয়া মামলা দিয়ে নির্যাতন করা হয়


সেনাসদরের নির্দেশে প্রধানমন্ত্রীর দরবারে প্রশ্ন তোলায়

পাঁচজন অফিসারকে কোনও আত্মপক্ষ শুনানির সুযোগ না দিয়ে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়



৩. ১/১১ সময়কার প্রতিহিংসামূলক বরখাস্ত


ডিজিএফআইতে কর্মরত পাঁচজন অফিসারকে মিথ্যা অভিযোগে বা বিনা অভিযোগে বরখাস্ত করা হয়



৪. ধর্মীয় আচরণকে ‘জঙ্গি সংশ্লিষ্টতা’ হিসেবে চিহ্নিত করা


চারজন কনিষ্ঠ অফিসারকে কেবল ধর্মীয় আচরণে মনোযোগী হওয়ায়

জঙ্গি ট্যাগ দিয়ে অন্যায্যভাবে বরখাস্ত করা হয়

৫. নিপীড়ন, নির্যাতন ও মানসিক নির্যাতন

তদন্তে উঠে আসে—

গুম, অপহরণ, অবৈধ আটক, শারীরিক নির্যাতন, মানসিক নির্যাতন

পরিবারকে সামাজিকভাবে হেনস্তা আর্থিক ক্ষতি ও দীর্ঘমেয়াদি মানসিক বিপর্যয়

এসব ঘটনার শিকার হয়েছেন ২৮ জন কর্মকর্তা



📝 কমিটির সুপারিশ

সেনাবাহিনী – ১১৪ কর্মকর্তা


স্বাভাবিক অবসর


বকেয়া বেতন–ভাতা

পদোন্নতি / অবসর পূর্ব পদোন্নতি

আর্থিক সুবিধা

৪ জনকে পুনঃবহালের সুপারিশ


নৌবাহিনী – ১৯ কর্মকর্তা

স্বাভাবিক অবসর

পদোন্নতি

অবসর পূর্ব পদোন্নতি

বকেয়া বেতন ও সুবিধা

বিমান বাহিনী – ১২ কর্মকর্তা

স্বাভাবিক অবসর

পদোন্নতি

আর্থিক সুবিধা

বকেয়া পরিশোধ