বিএনপিতে চরম রাজনৈতিক সংকট: নেতৃত্ব সংকট, অনিশ্চয়তা ও নির্বাচনী প্রস্তুতিতে ধূসর ভবিষ্যৎ

বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে বড় দলের মধ্যে বর্তমানে সবচেয়ে গভীর সংকটে রয়েছে বিএনপি। দলের শীর্ষ নেতৃত্ব থেকে তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত তারেক রহমানের দেশে ফেরা নিয়ে অনিশ্চয়তা ও আশঙ্কা ক্রমেই বাড়ছে। খালেদা জিয়ার গুরুতর অসুস্থতা এবং ১/১১-পরবর্তী জটিল বাস্তবতা দলকে আরও দুর্বল করে তুলছে।

PostImage

বিএনপিতে চরম রাজনৈতিক সংকট: নেতৃত্ব সংকট, অনিশ্চয়তা ও নির্বাচনী প্রস্তুতিতে ধূসর ভবিষ্যৎ


এস গোস্বামী: বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপি বর্তমানে নিজেদের অস্তিত্বের অন্যতম কঠিন রাজনৈতিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে দলে নেতৃত্বের শূন্যতা ও কৌশলগত অস্পষ্টতা নিয়ে ভেতরে-বাইরে সমালোচনা থাকলেও সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে বিএনপির উচ্চপর্যায় থেকে তৃণমূল পর্যন্ত ব্যাপক অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে তারেক রহমানের দেশে ফেরা ঘিরে।


দলের ভেতরে যে আশা বা বিশ্বাস ছিল, আন্দোলন তীব্র হলে এবং নির্বাচন ঘনালে তিনি দেশে ফিরবেন—সেই বিশ্বাস এখন দলীয় নেতাকর্মীদের চোখে অনেকটাই স্বপ্ন বা দূরাশাতে পরিণত হয়েছে। বিএনপি সমালোচকরা এ অবস্থাকে কাজে লাগিয়ে অভিযোগ তুলছেন—দলের শীর্ষ নেতৃত্ব সংকট ক্রমেই গভীর হচ্ছে এবং এর ফলে দলটি সংগঠিত শক্তি হারাচ্ছে।

খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা নিয়ে অস্থিরতা

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার গুরুতর অসুস্থতা পুরো দলকে আরও দুর্বল করে তুলেছে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে বাসায় এবং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন, কার্যত রাজনীতির বাইরে।


দলের অনেকে মনে করছেন, এমন অবস্থায় তারেক রহমানের দেশে না ফেরা নেতাকর্মীদের হতাশাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। আবার অনেকে আশঙ্কা করছেন—

“খালেদা জিয়াকে যদি বিদেশে নেওয়া হয়, তাহলে হয়তো তাকেও, তারেক রহমানকেও দেশের মাটিতে ফিরতে আর দেওয়া হবে না।”

এমন বক্তব্য ইতোমধ্যেই দলীয় নেতাদের মধ্যে বিতর্ক ও ভয়ের জন্ম দিয়েছে।


১/১১-এর মুচলেকা ও স্টেটমেন্ট আবার আলোচনায়


২০০৭ সালের ১/১১ রাজনৈতিক পরিবর্তনের সময় সেনাবাহিনীকে দেওয়া মুচলেকা এবং তারেক রহমানের বিভিন্ন বিদেশি বক্তব্য—এগুলো এখন তার দেশে ফেরার পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে মনে করছেন বিএনপির ভেতর ও বাইরের অনেক বিশ্লেষক।


এই বিষয়গুলো রাজনৈতিক প্রতিপক্ষও জোরালোভাবে সামনে এনে বিএনপির নেতৃত্ব সংকটকে আরও উস্কে দিচ্ছে।


মনোনয়ন, বিদ্রোহী প্রার্থী ও সংগঠনে অস্থিরতা


দলের মনোনয়ন প্রক্রিয়ায় অসন্তোষ বাড়ছে।

বহু এলাকায় বিদ্রোহী প্রার্থীর সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে, যা নির্বাচনী মাঠে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি করবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।


বিশ্লেষকদের মতে—


দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব দুর্বল,


মনোনয়ন বিতর্ক বাড়ছে,


মাঠপর্যায়ের সংগঠন ভেঙে পড়ছে,


এবং নির্বাচনী কৌশল এখনো অস্পষ্ট।



ফলে সামনে আসন্ন নির্বাচনে বিএনপির জন্য এটি হতে পারে সবচেয়ে কঠিন লড়াই।


জামায়াতে ইসলামী আরও সংগঠিত—চ্যালেঞ্জ বাড়ছে


জামায়াতে ইসলামী দীর্ঘদিন ধরেই সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী। বিএনপির দুর্বলতা, নেতৃত্বের অনিশ্চয়তা এবং মাঠপর্যায়ের বিশৃঙ্খলা—এসব মিলিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে জামায়াতসহ অন্য ক্ষুদ্র দলগুলোও এখন বিএনপির সমালোচনায় আরও সোচ্চার হয়ে উঠেছে।


অনেকেই মনে করছেন, বিএনপির দুর্বল অবস্থার সুযোগে জামায়াতসহ অন্যান্য সংগঠনগুলো নিজেদের প্রভাব বাড়ানোর চেষ্টা চালাচ্ছে।


নির্বাচনে বিরূপ প্রভাবের আশঙ্কা


দলের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি যেভাবে দ্রুত অবনতির দিকে যাচ্ছে, তা নির্বাচনে ভয়াবহ প্রভাব ফেলতে পারে।


নেতৃত্ব সংকট


তৃণমূলের আস্থাহীনতা


মনোনয়ন নিয়ে দ্বন্দ্ব


বিদ্রোহী প্রার্থী


এবং রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের চাপ



সব মিলিয়ে বিএনপির নির্বাচনী শক্তি আজ অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় অনেক বেশি দুর্বল।


সংকট নিরসনে একমাত্র পথ—তারেক রহমানের দেশে ফেরা?


দলীয় অনেক নেতা ও বিশ্লেষকই মনে করছেন—

এই সংকট থেকে বেরিয়ে আসার একমাত্র কার্যকর পথ হলো তারেক রহমানের দেশে প্রত্যাবর্তন।

তার দেশে ফেরা দলকে উজ্জীবিত করতে পারে, রাজনৈতিক বার্তা শক্তিশালী করবে এবং তৃণমূলের হতাশা কিছুটা কমাবে।


কিন্তু বাস্তবতা হলো—তার দেশে ফেরার সম্ভাবনা, শর্ত ও রাজনৈতিক পরিবেশ এখনো অত্যন্ত অনিশ্চিত।