কড়াইল বস্তির ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে থাকার আশ্বাস প্রধান উপদেষ্টা ইউনূস ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের

মহাখালীর কড়াইল বস্তিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে শতাধিক পরিবার ঘরবাড়ি হারিয়েছে। প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দ্রুত ত্রাণ ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

PostImage

কড়াইল বস্তির ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে থাকার আশ্বাস প্রধান উপদেষ্টা ইউনূস ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের


কড়াইল বস্তিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড: ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে থাকার আশ্বাস দিলেন প্রধান উপদেষ্টা ইউনূস ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান

ঢাকা, ২৬ নভেম্বর ২০২৫: রাজধানীর মহাখালী কড়াইল বস্তিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে হাজার হাজার ঘরবাড়ি পুড়ে যাওয়ার ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন দেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দুই নেতাই আলাদা বিবৃতিতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় রাষ্ট্র ও রাজনৈতিক দল হিসেবে সর্বোচ্চ ভূমিকা রাখার অঙ্গীকার করেন।


তারেক রহমান: ‘ফায়ার সার্ভিস ও এলাকাবাসীর প্রচেষ্টা দেশবাসীকে নতুন প্রেরণা দিয়েছে’

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান তার ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত বিবৃতিতে বলেন—

“২৫ নভেম্বর সন্ধ্যায় মহাখালী কড়াইল বস্তিসহ সংলগ্ন এলাকা ভয়াবহ আগুনে দাউদাউ করে জ্বলছে। দমকল বাহিনীর পক্ষে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা কঠিন হচ্ছে। ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ এখনো জানা যায়নি, তবে অনেকের ঘরবাড়ি সম্পূর্ণ উন্মুক্ত আকাশের নিচে চলে গেছে।”

তিনি ফায়ার সার্ভিস সদস্য ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সাহসী ভূমিকার প্রশংসা করে আরও বলেন—

“বিএনপি মহাখালীর কড়াইল বস্তির অগ্নিকাণ্ডে ফায়ার সার্ভিস ও এলাকাবাসীর অক্লান্ত পরিশ্রমের প্রতি পূর্ণ সংহতি জানাচ্ছে। তাদের এই প্রাণপণ প্রচেষ্টা দেশবাসীকে নতুন এক প্রেরণায় উদ্বুদ্ধ করেছে।”

ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর প্রতি সমবেদনা জানিয়ে তিনি বলেন—

“আমি মহান আল্লাহর কাছে দোয়া করছি—এই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে যেন কোনো প্রাণহানি না ঘটে। যেসব পরিবার সবকিছু হারিয়েছে, তারা এই কঠিন পরীক্ষায় ধৈর্যের সাথে দাঁড়াবে—এমন আশাবাদই করছি।”


প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস: ‘দুঃখ-কষ্ট আমাদের সবার জন্য বেদনাদায়ক’

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস এক সরকারি বিবৃতিতে কড়াইল বস্তির অগ্নিকাণ্ডকে ‘অত্যন্ত বেদনাদায়ক’ বলে অভিহিত করেন। তিনি বলেন—

“কড়াইল বস্তির অগ্নিকাণ্ডে যেসব পরিবার গৃহহীন হয়েছেন, তাদের দুঃখ ও কষ্ট আমাদের সকলের জন্য বেদনাদায়ক। অসংখ্য পরিবার রাতারাতি নিঃস্ব হয়ে গেছেন—এটি গভীরভাবে উদ্বেগজনক।”

আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করে তিনি আশ্বাস দেন—

“ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনে সরকার প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা নিশ্চিত করবে। আমরা তাদের পাশে আছি এবং থাকবো।”

তিনি বলেন—

“সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত ত্রাণ ও উদ্ধার কার্যক্রম জোরদার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে অগ্নিকাণ্ডের কারণ অনুসন্ধানের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলোকে কঠোরভাবে কাজ করতে বলা হয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে এমন ভয়াবহ দুর্ঘটনা রোধ করা যায়।”


অগ্নিকাণ্ডের পরিস্থিতি: হাজারো মানুষ নিঃস্ব, ত্রাণের অপেক্ষায়

মহাখালীর কড়াইল বস্তিতে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় লাগা আগুন দ্রুত চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। দমকল বাহিনীর ২০টির বেশি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করলেও রাতভর আগুন জ্বলতে থাকে। হাজারো পরিবার তাদের ঘরবাড়ি, জমানো সম্পদ ও জীবন চলার উপকরণ হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে।

ক্ষয়ক্ষতির প্রাথমিক হিসাব এখনো পাওয়া যায়নি।


রাষ্ট্র ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের সমবেদনা—ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি

এই অগ্নিকাণ্ডে দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের দ্রুত প্রতিক্রিয়া এবং ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতি প্রকাশিত সমবেদনা মানুষের মধ্যে আশার সঞ্চার করেছে।
রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক স্তরের দুই প্রভাবশালী নেতৃত্ব—তারেক রহমান ও ড. মুহাম্মদ ইউনূস—একই সুরে জানিয়েছেন:

  • ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন নিশ্চিত করা হবে

  • ত্রাণ কার্যক্রম বাড়ানো হবে

  • ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা ঠেকাতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে

একইসঙ্গে তারা নাগরিকদের শান্ত ও সংযত থাকার আহ্বান জানান।